বাংলা নিউজ > ময়দান > ফুটবল > মহমেডানের প্রাক্তন সচিবের বিরুদ্ধে ৫ লক্ষ টাকা ঘুষ নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ
মহমেডান স্পোর্টিং ক্লাবে তখন ছিল সুখের দিন (ছবি: গুগল)
মহমেডান স্পোর্টিং ক্লাবে তখন ছিল সুখের দিন (ছবি: গুগল)

মহমেডানের প্রাক্তন সচিবের বিরুদ্ধে ৫ লক্ষ টাকা ঘুষ নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ

  • সাদা কালো শিবিরে আলোড়ন পড়ে গিয়েছে ঘুষ নেওয়ার মারাত্মক অভিযোগ নিয়ে। আর এই অভিযোগ উঠেছে সদ্য আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ এনে কোর্টে যাওয়া মহমেডানের প্রাক্তন সচিব ওয়াসিম আক্রমের বিরুদ্ধে।

শুভব্রত মুখার্জি:  কলকাতার তিন প্রধান মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল এবং মহমেডান এই মুহূর্তে একটা ট্রানজিশান প্রিয়ডের মধ্যে দিয়ে চলেছে। মোহনবাগান ইতিমধ্যেই এটিকের সঙ্গে গাঁটছড়া বেধেছে। আইএসএলে তাদের পারফরম্যান্সও যথেষ্ট ভাল। ইস্টবেঙ্গল ও ইনভেস্টরের সঙ্গে গাঁটছড়া বেধে শেষ মরসুমে প্রথমবার আইএসএল খেললেও বর্তমানে তাদের সঙ্গে ইনভেস্টরের সম্পর্কটা ঠিক নয়। আর অপর প্রধানের লক্ষ্য আইএসএল খেলা হলেও বর্তমানে তারা জর্জরিত আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগে। এই অবস্থায় তপ্ত মহমেডান ক্লাব তাঁবু। জল এতটাই গড়িয়েছে বিষয় আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। এমন আবহে দাঁড়িয়ে সাদা কালো শিবিরে আলোড়ন পড়ে গিয়েছে ঘুষ নেওয়ার মারাত্মক অভিযোগ নিয়ে। আর এই অভিযোগ উঠেছে সদ্য আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ এনে কোর্টে যাওয়া মহমেডানের প্রাক্তন সচিব ওয়াসিম আক্রমের বিরুদ্ধে।

মহমেডান স্পোর্টিং ক্লাবের তরফ থেকে বিষয়টি আদালতকে অবগত করা হয়েছে। অভিযোগ মারাত্মক।আর তা প্রমাণিত হলে কলঙ্কিত হতে চলেছে সাদা কালো শিবিরের ঐতিহ্য। অভিযোগ প্রতিশ্রুতিবান ফুটবলার সোহেল খাত্রিকে আইলিগে মহমেডান দলে সুযোগ পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মহমেডানের প্রাক্তন সচিব ওয়াসিম আক্রম। তার বদলে খাত্রির বাবা মহম্মদ ইসমাইল খাত্রির থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা ঘুষ নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ওয়াসিম আক্রমের বিরুদ্ধে। প্রসঙ্গত আইলিগে মহমেডান দলে সাহিলের জায়গা হয়নি। এরপরেও নাকি টাকা ফেরত দেননি ওয়াসিম আক্রম। 

এমন মারাত্মক অভিযোগ করে এই বছরের গোড়ার দিকে ১৫ জানুয়ারি ক্লাবে চিঠি দিয়েছেন মুম্বইয়ের বাসিন্দা ইসমাইল। যে চিঠিতে ক্লাবে উদ্দেশ্যে করে ইসমাইল লেখেন 'ক্লাব কমিটির সদস্যদের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি আমার পাঁচ লাখ টাকা যেন ফেরানো হয়। ওয়াসিম আক্রম মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ২০২০ সালের, ১৪ই ডিসেম্বর জাভেদ ও ওয়াসিম আমাকে জানিয়েছিল ৫ লাখ টাকা দিলে আমার ছেলেকে আইলিগে মহমেডানে খেলার ব্যবস্থা করে দেবেন। সেই কথা রাখতে আমি  ১৬ ডিসেম্বর রাত ৮টায় কলকাতার এক হোটেলে ওনাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করি। এরপর ছেলে মহামেডান দলের সঙ্গে অনুশীলনও করেছিল। ওকে দলের কিটও দেওয়া হয়। এসব দেখার পরে পুরো বিষয়টি নিয়ে আমি নিশ্চিন্ত হয়ে মুম্বই ফেরত আসি। তারপরেই সব বদলে যায়। সোহেলকে সই করাননি ওয়াসিম। একাধিকবার টাকা ফেরত দেওয়ার অনুরোধ করেছি। তা ফেরত পাইনি। ওয়াসিম এখন আমাদের ফোন ধরেন না, হোয়াটসঅ্যাপেও ব্লক করেছেন। আমাদের। ছেলের স্বপ্ন ছিল মহমেডানের হয়ে খেলা।' 

এই গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে ওয়াসিম আক্রম জানিয়েছেন তাকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করতেই এমন অভিযোগ আনা হয়েছে। সবটাই ভিত্তিহীন। তিনি আসার অনেকদিন আগে থেকেই ইসমাইল খাত্রি ক্লাববে নিয়মিত অনুদান দিতেন। এই ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। সবটাই প্রমাণ সাপেক্ষ।

বন্ধ করুন