বাংলা নিউজ > ময়দান > ফুটবলের মহারণ > চিকিৎসকের গাফিলতিতে মৃত্যু ১৭ বছরের ফুটবলার প্রিয়ার, তুলকালাম চেন্নাইয়ে

চিকিৎসকের গাফিলতিতে মৃত্যু ১৭ বছরের ফুটবলার প্রিয়ার, তুলকালাম চেন্নাইয়ে

চিকিৎসার গাফিলতিতে মৃত্যু প্রিয়ার।

খেলতে গিয়ে প্রিয়া ডান হাঁটুতে চোট পেয়েছিল। পরিবার প্রথমে তাকে পেরিয়ার নগর সরকারি হাসপাতালে গেলে, সেখানকার চিকিৎসকেরা ১৭ বছরের তরুণীর পায়ের অস্ত্রোপচার করে। সুস্থ না হওয়ায় প্রিয়াকে চেন্নাইয়ের রাজীব গান্ধী সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ফের অস্ত্রোপচার করে পা বাদ দেওয়া হয়। তবে শেষরক্ষা হল না।

এক তরুণী ফুটবলারের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তুলকালাম চেন্নাইয়ে। পরিবারের তরফে, চিকিৎসার গাফলতির অভিযোগ আনা হয়েছে। এই ঘটনায় এক প্রকার চাপে পড়েই রাজ্য সরকার দুই চিকিৎসককে সাসপেন্ড করেছে। পাশাপাশি তরুণীর পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা এবং একজনের চাকরির আশ্বাস দিয়েছে।

স্নাতক স্তরের শারীরশিক্ষা ছাত্রী প্রিয়া ডান হাঁটুতে চোট পেয়েছিল। পরিবার সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, খেলতে গিয়েই এই চোট পেয়েছিল প্রিয়া। পরিবার প্রথমে তাকে পেরিয়ার নগর সরকারি হাসপাতালে গেলে, সেখানকার চিকিৎসকেরা ১৭ বছরের তরুণীর পায়ের অস্ত্রোপচার করে। 

আরও পড়ুন: ATK MB-তে ফের ফিরলেন সঞ্জয় সেন, কোন পদে জানেন?

সুস্থ না হওয়ায় প্রিয়াকে চেন্নাইয়ের রাজীব গান্ধী সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকেরা তাঁর শারীরিক পরীক্ষা করে বুঝতে পারেন, আগের অস্ত্রোপচারে মারাত্মক ভুল হয়েছে। পরিবারকে জানায়, পা কেটে বাদ দেওয়া ছাড়া দ্বিতীয় কোনও রাস্তা নেই। পরিবার তাতে সম্মতি দেয়। কিন্তু দ্বিতীয় অস্ত্রোপচারের একদিন পরেই অর্থাৎ মঙ্গলবার সকালে প্রয়াত হয় প্রিয়া। প্রসঙ্গত ৮ নভেম্বর থেকে ওই হাসপাতালে ভর্তি ছিল ১৭ বছরের তরুণী ফুটবলার।

জানা গিয়েছে, সোমবার রাতে প্রিয়ার পায়ের অস্ত্রোপচার করার পর থেকেই তার আর জ্ঞানই ফেরেনি। ছিল আইসিইউতে। মঙ্গলবার সকালে প্রিয়ার মা এবং দাদা হাসপাতালে তাকে দেখতে গিয়েছিল। তখন কিছু সময়ের জন্য তার জ্ঞান ফিরেছিল। দাদা ও মাকে সেটাই ছিল তার শেষ দেখা। মঙ্গলবার সকালে প্রয়াত হয় তরুণী। প্রিয়ার মৃত্যুর কথা ছড়িয়ে পড়তেই রাজ্য সরকার দুই চিকিৎসককে সাততাড়াতাড়ি সাসপেন্ড করে। সঙ্গে যথাযথ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: ক্লিটনের গোলে বেঙ্গালুরুর মাঠেই সুনীলদের হারিয়ে আটে উঠল ইস্টবেঙ্গল

এই ঘটনায় স্বাভাবিক ভাবেই ভেঙে পড়েছে তরুণীর পরিবার। তামিলনাড়ুর স্বাস্থ্যমন্ত্রী সুব্রমনিয়ম বলেছেন, ‘‌অস্ত্রোপচার সফল হয়েছিল। কিন্তু ব্যান্ডেজ এত শক্ত করে বাঁধা হয়েছিল, যে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলেই মারা যায় মেয়েটি। দুই চিকিৎসককে সাসপেন্ড করা হয়েছে।’‌ রাজ্য সরকারের তরফে মেয়েটির পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য এবং ফুটবলারের ভাইকে সরকারি চাকরির আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। ছাত্রীর মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন প্রিয়ার কোচ জোয়েল। বলেছেন, ‘‌দেশের হয়ে খেলার স্বপ্ন দেখত মেয়েটা।’‌

বন্ধ করুন