বাংলা নিউজ > ময়দান > ফুটবল > EURO 2020: এক নজরে দেখে নেওয়া যাক গ্রুপ-ই'র খুঁটিনাটি

শুভব্রত মুখার্জি

ইউরোর গ্রুপ 'ই' থেকে পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়া কার্যত নিশ্চিত বলা যেতে পারে প্রাক্তন বিশ্বকাপ ও ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেনের। স্প্যানিশ ফুটবল বিশেষ করে ক্লাব ফুটবলে ইউরোপের একচ্ছত্র দাপট দেখিয়ে এসেছে। রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা, অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ, সেভিয়ার মতন দলগুলি ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের মঞ্চে পরিচিত নাম‌ ।

ইউরো কাপের বিভিন্ন গ্রুপে থাকা দলগুলির যাবতীয় খুঁটিনাটি আপনাদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা চালাচ্ছি আমরা। একনজরে দেখে নিন গ্রুপ ‘ই’-তে রয়েছে যে চারটি দল-

১) স্পেন

২) সুইডেন

৩) পোল্যান্ড

৪) স্লোভাকিয়া

দেখে নেওয়া যাক এই গ্রুপের বিভিন্ন দেশের দলগুলিকে।

∆ স্পেন:-

২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ান স্প্যানিশদের ইউরো ইতিহাস নজরকাড়ার মতন। বলা যায় জার্মানির সাথে যৌথভাবে সবচেয়ে বেশিবার ইউরো জয়ের নজির রয়েছে তাদের। ১৯৬৪, ২০০৮ ও ২০১২ সালে তাঁরা জার্মানদের মতো তিন তিনবার ইউরোর শিরোপা জয় করেছেন। 'স্প্যানিশ আর্মাদা' ১৯৮৪ সালের ফাইনালে আটকে গিয়েছিল ফ্রান্সের কাছে। সেইবার তাঁরা রানার্স আপ হয়েছিল। ইউরোতে স্পেনের সাফল্য ঈর্ষনীয়। তারা ৪০টি ম্যাচ খেলে ১৯টিতে জয়, ১০টিতে হার এবং ১১ টি ম্যাচে ড্র করতে সক্ষম হয়েছে।

জুভেন্তাস দলে খেলা আলভারো মোরাতা যিনি স্পেনের হয়ে ১৯ টি গোল ইতিমধ্যেই করে ফেলেছেন এই প্রতিযোগিতায় অন্যতম তারকা হয়ে উঠতে পারেন। ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের গোলকিপার ডেভিড দে হেয়া তিনকাঠির নীচে তাঁদেরকে নিঃসন্দেহে ভরসা জোগাবেন। সার্জিও রামোসহীন ডিফেন্সের দিকে আলাদা করে নজর থাকবে।

∆ সুইডেন:-

সুইডেনকে বিশ্ব ফুটবলে আলাদা করে পরিচিতির জায়গা তৈরি করে দিয়েছিলেন হেনরিক লার্সেন। তার উত্তরসূরি হিসেবে জ্লাটান ইব্রাহিমোভিচ। সুইডেনকে বিশ্ব মঞ্চে এক কঠোর প্রতিদ্বন্দ্বী রূপে প্রতিষ্ঠা দিয়েছিলেন। ইউরোতে এখন পর্যন্ত তেমন বলার মতন সাফল্য নেই তাঁদের। ১৯৯২ সালে যেইবার ডেনমার্ক ইউরো চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল সেইবার সেমিফাইনালে পৌঁছেছিল সুইডেন। 

এরপর ২০০৪ সালের ইউরোতে কোয়ার্টার ফাইনাল উঠলেও সেইবার আর শেষ আটের গন্ডি টপকাতে পারেননি তাঁরা। সুইডেন এখনও পর্যন্ত ইউরোতে ২০ টি ম্যাচ খেলে জয় পেয়েছে মাত্র পাঁচটিতে হারের মুখ দেখেছে নয়টিতে আর ড্র হয়েছে ছয়টি ম্যাচ। একদা আর্সেনালে খেলা সুইডিশ মাঝমাঠের ভরসা তথা অধিনায়ক সেবাস্তিয়ান লারসন এবং ৩৪ বছর বয়সী মার্কাস বার্গ সুইডেনের হয়ে বড় তারকা হয়ে উঠতে পারেন। তবে শেষ পর্যায়ে ইব্রাহিমোভিচের ছিটকে যাওয়াটা সুইডেনকে ভোগাতে পারে।

∆ পোল্যান্ড:-

বিশ্ব ফুটবলে এই মুহূর্তে পোল্যান্ড এবং রবার্ট লেওয়ানডোস্কি এই দু'টি নাম যেন সমার্থক হয়ে উঠেছে। পোল্যান্ড ইউরোতে এই আসরে কতদূর যাবে বা যাবে না, সবটাই নির্ভর করছে তাদের ট্যালিসম্যানিক স্ট্রাইকারের ফর্মের উপর। বছরের পর বছর জার্মান ক্লাব বায়ার্নের হয়ে অসাধারণ পারফরম্যান্স করে আসছেন তিনি। শেষ ইউরোর আসরে অর্থাৎ ২০১৬ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা পোল্যান্ড এই নিয়ে তৃতীয়বার মূলপর্বে খেলছে। এখনও পর্যন্ত ১১ টি ম্যাচ খেলে দুইটিতে জয়, তিনটিতে হারের মুখ দেখার পাশাপাশি তাঁরা ছয়টি ম্যাচ ড্র ও করেছে। লেওয়ানডোস্কি ছাড়া এই আসরে তারকা হয়ে উঠতে পারেন স্ট্রাইকার আর্কেডিয়াস মিলিক। ফ্রান্সের ক্লাব মার্সেইতে খেলেন তিনি।

∆ স্লোভাকিয়া:-

ইউরোতে বেশ নবাগত দল স্লোভাকিয়া। এই নিয়ে তাঁরা দ্বিতীয়বার মূলপর্বে খেলবে। এখন পর্যন্ত তারা ইউরোতে চারটি ম্যাচ খেলে একটি তে জয়, একটিতে ড্র এবং দুইটিতে হারের মুখ দেখেছে। একসময় নাপোলিতে খেলা মারেক হামসিকের পাশাপাশি মিলা স্ক্রিনিয়ার দলের সবথেকে বড় তারকা হয়ে উঠতে পারেন।

বন্ধ করুন