বাড়ি > ময়দান > মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল, ATK-র এই তারকারা এখন কেউ বিক্রি করেন সবজি, কেউ বা ফাস্ট ফুড
সবজি বিক্রি করছেন ফুটবলাররা। ছবি- ফেসবুক/টুইটার।
সবজি বিক্রি করছেন ফুটবলাররা। ছবি- ফেসবুক/টুইটার।

মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল, ATK-র এই তারকারা এখন কেউ বিক্রি করেন সবজি, কেউ বা ফাস্ট ফুড

  • একদিন জাতীয় লিগ জিতে, ISL চ্যাম্পিয়ন হয়ে কলকাতা ময়দান মাতিয়েছিলেন ভাগ্যের হাতে মার খাওয়া এই ফুটবলাররাই।

ওদের কেউ এটিকের জার্সিতে আইএসএল চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। আবার কেউ মোহনবাগানের হয়ে জিতেছেন জাতীয় লিগ। কেউ ইস্টবেঙ্গলে হয়ে উঠেছিলেন ‘ডার্লিং স্ট্রইকার’। কেউ আবার মোহনবাগানের অ্যাকাডেমি থেকে সর্বোচ্চ মঞ্চে উঠে আসার স্বপ্ন দেখছেন। ভাগ্যের পরিহাসই বলা হোক অথবা কঠিন বাস্তব, এই মুহূর্তে ফুটবল থেকে বহু ক্রোশ দূরে জীবিকা নির্বাহের জন্য কঠিন সংগ্রাম চালাতে হচ্ছে একদা বল পায়ে মাঠ মাতানো তারকাদের। 

যে ক্লাবের হয়ে নিরন্তর আনন্দ দিয়েছেন ফুটবলপ্রেমীদের, না তাদের নজর রয়েছে ফুটবলারদের এমন অসহায় অবস্থায়। না সমর্থকদের মাথা ব্যাথা রয়েছে বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে যাওয়া তারকাদের নিয়ে।

ফুটবলের ময়দান থেকে হারিয়ে যাওয়া এমনই কিছু তারকার বর্তমান পরিস্থিতি ভারাক্রান্ত করবে সমর্থকদের মন। তালিকাটা নেহাৎ ছোট নয়। তবে মোহনবাগানের উদয় কোনার, এটিকের বিশ্বজিৎ সাহা, ইস্টবেঙ্গলের বলজিৎ সিং সাইনি ও বাগান অ্যাকাডেমির দীপ বাগ এখন এমনই পরিস্থিতির শিকার।

উদয় কোনার:- ২০০১-০২ মরশুমে মোহনবাগানকে জাতীয় লিগ চ্যাম্পিয়ন করতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেন উদয়। একসময় ব্যারেটো-বাসুদেব মণ্ডলদের সঙ্গে মাঠ মাতানো স্ট্রাইকার এখন মুম্বইয়ের ফুটপাথে সকালে সবজি ও বিকালে ফুল বিক্রি করেন। 

মোহনবাগানের হয়ে জাতীয় লিগ ছাড়াও মহারাষ্ট্রের হয়ে সন্তোষ ট্রফি জিতেছেন। তা সত্ত্বেও কোথাও চাকরি পাননি। খেলা ছাড়ার পর একটি জামাকাপড়ের দোকান খুলেছিলেন। সেটাও বন্ধ হয়ে যায় লকডাউনে। অগত্যা ফুটপাথের পসরা থেকেই দু'পয়সা রোজগারের চেষ্টায় রয়েছেন প্রাক্তন ফুটবলার।

বিশ্বজিৎ সাহা:- ২০১৪-য় এটিকের জার্সিতে আইএসএল চ্যাম্পিয়ন হন বিশ্বজিৎ। সেমিফাইনাল ও ফাইনাল বাদে সব ম্যাচে মাঠে নেমেছিলেন তারকা এই সাইড ব্যাক। তবে তার পর হঠাৎই হারিয়ে যান ফুটবলের মূল স্রোত থেকে। স্পোর্টিং ক্লুব দ্য গোয়ায় খেলতে গিয়েছিলেন লোনে। তবে চুক্তি বাতিল হওয়ায় মাঠে নামা হয়নি।

পরে স্বল্প সময়ের চুক্তিতে একাধিক ক্লাবে খেলেছেন। শেষে মুম্বই সিটি থেকে চোট পেয়ে ফিরে আসার পর বাড়ির কাছে একটা ফাস্ট ফুডের দোকান খোলেন। করোনার জেরে সেটাও আপাতত বন্ধ।

বলজিৎ সিং সাইনি:- ইস্টবেঙ্গলের জার্সিতে বলজিৎ দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন কলকাতা ময়দানে। এই মুহূর্তে শুধু ফুটবল ছেড়েই নয়, বরং ভারত ছেড়ে সুদূর কানাডায় তিনি এখন মুদি দোকানের ক্যাশিয়ার। তারকা ফুটবলার যুক্তি দিয়ে জানান, পঞ্জাবে থাকলে কোনও স্কুল দলের কোচিং করিয়ে নেহাৎ ১০-১৫ হাজার টাকা রোজগার করতেন। তাতে জীবন চলত না। কানাডায় ওয়ালমার্টের গ্রসারি স্টোরে ১০টা-৫টার ডিউটিতে অন্তত পরিবারকে খুশি রাখা যায়।

দীপ বাগ:- মোহনবাগানের দুর্গাপুর অ্যাকাডেমির এই তরুণ ফুটবলার লকডাউনে ঘোর সমস্যায় রয়েছেন। অ্যাকাডেমি থেকে পাওয়া ১ হাজার টাকা ও বাবার রিকসা চালিয়ে সামান্য রোজগারে সংসার চলে যেত। করোনা মহামারির জন্য বাবার রোজগার বন্ধ। খেলাও বন্ধ। ফলে বাধ্য হয়েই কোন্নগরে রাস্তার ধারে ফুটপাথে বসে সবজি বিক্রি করছেন দীপ।

বন্ধ করুন