বাংলা নিউজ > ময়দান > কলকাতা ছাড়লে সবাইকে জানিয়ে ছাড়ব, স্পষ্ট জানালেন 'দ্রোণাচার্য' সৈয়দ নঈমুদ্দিন
সৈয়দ নঈমুদ্দিন। ছবি: টুইটার

কলকাতা ছাড়লে সবাইকে জানিয়ে ছাড়ব, স্পষ্ট জানালেন 'দ্রোণাচার্য' সৈয়দ নঈমুদ্দিন

  • বিগত ২০ বছরের সঙ্গী নর্মদা স্কুটারটিকে এখনও সঙ্গ দিচ্ছেন তিনি। কলকাতা ময়দানের তিন বড় ক্লাবেই কোচিং করিয়েছেন তিনি। ভারতীয় সিনায়র ফুটবল দলে ও কোচিং করিয়েছেন একাধিকবার।শৃঙ্খলা তাঁর সাফল্যের মূলমন্ত্র।

শুভব্রত মুখার্জি: ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসে কিংবদন্তি তিনি। তিনি সৈয়দ নঈমুদ্দিন। দীর্ঘদিন ভারতীয় ফুটবলের পতাকা নিজের কাঁধে বহন করেছেন তিনি। কখনও ফুটবলার হিসেবে কখনও কোচ হিসেবে অবিরত পারফরম্যান্স করে গিয়েছেন তিনি। ভবিষ্যত প্রজন্মের বাইচুং-সুনীল ছেত্রীদেরও তুলে আনতে মরিয়া তিনি। হঠাৎ করেই গুঞ্জন ছড়িয়েছিল তিনি নাকি কলকাতা ছাড়ছেন। তবে ইটিভি ভারত বাংলাকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন কলকাতা তার কাজের জায়গা। যদি ছাড়েন সবাইকে জানিয়েই ছাড়বেন।

চোখে কালো চশমা পরিহিত সত্তরোর্ধ্ব 'যুবকের' সাদা জামা সঙ্গে জিন্সের প্যান্ট একেবারে 'সিগনেচার স্টাইল'। বিগত ২০ বছরের সঙ্গী নর্মদা স্কুটারটিকে এখনও সঙ্গ দিচ্ছেন তিনি। কলকাতা ময়দানের তিন বড় ক্লাবেই কোচিং করিয়েছেন তিনি। ভারতীয় সিনায়র ফুটবল দলে ও কোচিং করিয়েছেন একাধিকবার।শৃঙ্খলা তাঁর সাফল্যের মূলমন্ত্র।

বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বিতর্কে জড়িয়েছেন তিনি। কখনও ফুটবলারদের বড় চুল রাখা নিয়ে সমস্যা তো কখনও সমস্যা অনুশীলনে দেরি করে আসা ফুটবলারদের হয় বের করে দেওয়া না হয় জরিমানা করা। পাশাপাশি লড়াই করতেন ফুটবলারদের পাওনা গন্ডা নিয়েও। কোনও ক্লাব সময় মতো ফুটবলারদের টাকা না মেটালে প্রকাশ্যে বলতে দ্বিধা করতেন না৷

সম্প্রতি এশিয়ান কাপে ভারতের ম্যাচ দেখতে এসেছিলেন যুবভারতীতে। সাড়ে আটটায় ম্যাচ শুরু শুনে তিনি ম্যাচ না দেখে বাড়ি ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন৷ সেই সময়ই তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল কলকাতায় থাকতে কি আর ভাল‌ো লাগছে না? ফিরতে চান হায়দরাবাদে৷ অতীতে ফিরতে চাইলেও নঈমুউদ্দিনের বাঙালি স্ত্রীর কারণে ফেরা সম্ভব হয়নি। কোভিডে স্ত্রী সদ্য প্রয়াত হয়েছেন৷ বাইপাসের পাশে এক ফ্ল্যাটে বিবাহিত মেয়ের সঙ্গে থাকেন নঈম৷

সেই প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে নঈমুদ্দিন ইটিভি ভারত বাংলাকে জানান, ‘ছেলে-মেয়েরা অনেক করছে৷ কিন্তু আর ভালো লাগছে না৷ ওদের জীবন পড়ে আছে৷ আমাকে নিয়ে থাকলে হবে! তবে বাংলা ছাড়ব কেন? জ্যোতিষ গুহ এখানে নিয়ে এসেছিলেন। তাঁর হাত ধরে প্রতিষ্ঠা পেয়েছি৷ তিন বড় ক্লাবের সঙ্গে ফুটবলার এবং কোচ হিসেবে যুক্ত থেকেছি৷ বাংলা এবং ভারতীয় দলের কোচ হয়েছি৷ এখানকার মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি৷ বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী, ক্রীড়ামন্ত্রী সবসময় খোঁজ নেন৷ সব ধরনের সম্মানে সম্মানিত৷ আমার বাংলা ছাড়ার খবর ক্রীড়ামন্ত্রীর কাছেও গিয়েছে। আমাকে তিনি বলেছেন ইচ্ছে হলে হায়দরাবাদ ঘুরে আসুন৷ কিন্তু, বাংলা ছাড়া চলবে না৷ আমিও বিষয়টি নিয়ে ভাবছি না৷ যদি যাই তাহলে সাংবাদিক সম্মেলন করেই যাব৷ চুপি চুপি যাব না৷'

বন্ধ করুন