বাড়ি > ময়দান > খোলা চিঠিতে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা বর্ণবাদী অভিযোগের জবাব দিলেন গ্রেম স্মিথ
গ্রেম স্মিথ। ছবি- টুইটার।
গ্রেম স্মিথ। ছবি- টুইটার।

খোলা চিঠিতে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা বর্ণবাদী অভিযোগের জবাব দিলেন গ্রেম স্মিথ

  • দলের সবাইকে খুশি করে চলা কোনও অধিনায়কের পক্ষেই সম্ভব নয়, দাবি দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাক্তন দলনায়কের।

দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেটে বর্ণবাদ নিয়ে সমস্যা দীর্ঘদিনের। দল নির্বাচন থেকে শুরু করে প্রথম একাদশ নির্ধারণ, কৃষ্ণাঙ্গ ও শ্বেতাঙ্গের অসামঞ্জস্য চোখে পড়লেই শুরু হয়ে যায় বিতর্ক। এতদিন প্রকাশ্যে জলঘোলা না হলেও যেদিন থেকে ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার ক্যাম্পেন শুরু হয়েছে, বিতর্কের পালে হাওয়া লেগেছে বলতে হয়।

প্রায় প্রতিদিনই দক্ষিণ আফ্রিকার কোনও না কোনও প্রাক্তন ক্রিকেটার জাতীয় দলে থাকাকালীন প্রকারান্তরে বর্ণবিদ্বেষের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ তুলছেন। এমনই কিছু অভিযোগের আঙুল ওঠে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাক্তন অধিনায়ক গ্রেম স্মিথের দিকে, যিনি এই মুহূর্তে প্রোটিয়া বোর্ডের ডিরেক্টর অফ ক্রিকেটের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন।

গ্রেম স্মিথ ২০০৩ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকা দলকে ১০৮টি টেস্টে ও ১৪৯টি ওয়ান ডে ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁর সময়ে কৃষ্ণাঙ্গ ক্রিকেটারদের কার্যত দলের মধ্যে কোয়ারান্টাইনে রাখা হতো বলে অভিযোগ উঠছে। মাখায়া এনতিনি কিছুদিন আগেই জানান যে, জাতীয় দলে সবার সঙ্গে থেকেও তিনি কার্যত একাকীত্বে ভুগতেন। প্রাক্তন উইকেটকিপার থামি সোলেকাইল দাবি করেন, স্মিথের জন্যই টেস্ট দল থেকে ছিটকে যেতে হয় তাঁকে।

স্মিথ যদিও এমন সব অভিযোগ খারিজ করে একটি খোলা চিঠি লেখেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। টুইটারে নিজের বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে প্রাক্তন প্রোটিয়া অধিনায়ক বলেন, ‘ক্রিকেটে একজন ক্যাপ্টেন কখনই একার সিদ্ধান্তে দল পরিচালনা করেন না। টিম ম্যানেজমেন্টের মতামত সর্বদা প্রাধান্য পায়। তাছাড়া ক্যাপ্টেন শুধু দলের ভালোর কথাই বিবেচনা করেন। সবাইকে খুশি করে চলা কোনও ক্যাপ্টেনের পক্ষেই সম্ভব নয়।’

তিনি যে ব্যক্তিগত সম্পর্কের উপর ভিত্তি করে কখনই মাঠে দল নামাতেন না, ক্লুজনার, পোলকদের মতো কিংবদন্তিদের তার স্বপক্ষে সাক্ষ হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন। 

প্রাক্তন উইকেটকিপারের তোলা অভিযোগ নস্যাৎ করে স্মিথ বলেন, ‘দলে একজনই উইকেটকিপার থাকে। তাই উইকেটকিপারদের প্রথম একাদশে একটা জায়গার জন্য লড়াই চালাতে হয়। প্রয়োজন অনুয়ায়ী ব্যাটসম্যান-বোলারদের কম্বিনেশন বদলানো যায়। তবে সচরাচর উইকেটকিপার বদল করা হয় না কেউ ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ না হলে।'

স্মিথ আরও বলেন, 'সব দলেই উইকেটকিপাররা দীর্ঘ সময় ধরে মাঠে নেমেছেন। সেটা শুধু দক্ষিণ আফ্রিকা দলে হয়নি। দীর্ঘদিন সুযোগের অপেক্ষায় বসে থাকাটা হতাশার বটে, তবে তার জন্য ক্যাপ্টেনকে দোষারোপ করা ঠিক নয়।’

বন্ধ করুন