বাংলা নিউজ > ময়দান > ‘ওর কান্না যন্ত্রণার ছিল’, মন খারাপ নিয়ে French Open ফাইনালে রুডের মুখোমুখি রাফা
মুখোমুখি ক্যাসপার রুড এবং রাফায়েল নাদাল।

‘ওর কান্না যন্ত্রণার ছিল’, মন খারাপ নিয়ে French Open ফাইনালে রুডের মুখোমুখি রাফা

  • ফরাসি ওপেনের প্রথম সেমিফাইনালের তখন দ্বিতীয় সেট চলছে। প্রায় তিন ঘণ্টা গড়িয়ে গিয়েছে ম্যাচ। হঠাৎই খেলার মাঝে চোট পেয়ে কোর্টে শুয়ে পড়লেন আলেকজান্ডার জেরেভ। আঘাত এতটাই গুরুতর যে দাঁড়াতেই পারছিলেন না। হুইলচেয়ারে বসিয়ে কোর্ট থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হল তাঁকে।

রাফায়েল নাদাল শুক্রবার তাঁর ১৪তম ফ্রেঞ্চ ওপেনের ফাইনালে পৌঁছে গিয়েছেন। তবে রোলাঁ গারোর সেমিতে আলেকজান্ডার জেরেভ ডান পায়ের গোড়ালিতে চোট পেয়ে শেষ চারের লড়াই থেকে ছিটকে যেতে বাধ্য হন। পুরো লড়াইটাই করতে পারেননি জেরেভ। আর নাদালও এ ভাবে ফাইনালে ওঠায় একেবারেই খুশি নন।

রবিবার নাদাল তাঁর ৩০তম গ্র্যান্ডস্লাম ফাইনালে খেলবেন। ফাইনালে তিনি ক্যাসপার রুডের মুখোমুখি হবেন। নরওয়ের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে কোনও গ্রান্ডস্ল্যাম ফাইনালে উঠলেন ২৩-এর ক্যাসপার। ক্যাসপার রুড ৩-৬, ৬-৪, ৬-২ ও ৬-২ ব্যবধানে মারিন সিলিসকে হারান। জয়ের পর রুড বলেন, ‘এটা আমার কাছে একটা দারুণ ম্যাচ ছিল। আমার শুরুটা ভালো হয়নি। প্রথম সেটে ভাল খেলেছিল মারিন।’

এ দিকে নাদাল ৭-৬ (১০/৮),৬-৬ যখন এগিয়ে ছিলেন, তখন জারেভ ম্যাচ ছাড়তে বাধ্য হন। ম্যাচের শেষে ফাইনালে ওঠার বিন্দুমাত্র উচ্ছ্বাস ছিল না নাদালের মধ্যে। বরং তাঁকে বিচলিত করে জেরেভের কান্না। নাদাল স্বীকার করে নেন, অতিমানবিক টেনিস খেলছিলেন জেরেভ।

আরও পড়ুন: ভয়ঙ্কর চোট পেয়ে কোর্ট ছাড়লেন জেরেভ, ফের ফরাসি ওপেনের ফাইনালে রোলাঁ গারোর রাজা নাদাল

১৫,০০০ দর্শক তাঁর যন্ত্রণার সাক্ষী ছিল। কাঁদতে কাঁদতে হুইলচেয়ারে করে কোর্ট ছাড়তে হয় জেরেভকে। তবে পরে ২৫ বছরের তরুণ ক্র্যাচ হাতে কোর্টে ফেরেন। এবং ম্যাচটি ছেড়ে দেন। মন খারাপ হয় নাদালের। যে কোনও বড় ক্রীড়াবিদের কাছে দাপটের সঙ্গে জিতে ফাইনালে ওঠার আনন্দ হাজার গুণ বেশি। চোট পেয়ে প্রতিপক্ষ ম্যাচ ছেড়ে দিতে বাধ্য হলে, তাতে যে গৌরব নেই।

১৩বারের ফ্রেঞ্চ ওপেন চ্যাম্পিয়ন নাদাল বলছিলেন, ‘আপনি যদি প্রকৃত মানুষ হন, তবে একজন সহযোদ্ধার জন্য দুঃখিত হবেন। এটা ওর জন্য খুবই কঠিন এবং খুবই দুঃখজনক। ও একটি অবিশ্বাস্য টুর্নামেন্ট খেলছিল এবং ও এই সফরে ভালো ছন্দে ছিল।’

এর সঙ্গেই তিনি যোগ করেছেন, ‘আমি জানি, ও একটি গ্র্যান্ডস্লাম জিততে কতটা লড়াই করেছে। এই মুহূর্তে ও দুর্ভাগ্যের শিকার। আমি নিশ্চিত যে ও একটি নয়, অনেক বেশি সাফল্য পাবে। আমি ওরে শুভ কামনা জানাই। আমার কাছে রোলাঁ গারোর ফাইনাল খেলাটা একটি স্বপ্ন, এই নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু একই সঙ্গে, এটি এ ভাবে ফাইনালে ওঠা...ওর মতো ছেলেকে কাঁদতে দেখা নিঃসন্দেহে কঠিন মুহূর্ত...’।

বন্ধ করুন