বাংলা নিউজ > ময়দান > জন্মদিনে 'ক্রিকেটের ভগবান' - ৪৮ তম 'বসন্তে' পা দিলেন মাস্টার ব্লাস্টার
জন্মদিনে সচিনকে শুভেচ্ছা (ছবি: মুম্বই ইন্ডিয়ান্স)
জন্মদিনে সচিনকে শুভেচ্ছা (ছবি: মুম্বই ইন্ডিয়ান্স)

জন্মদিনে 'ক্রিকেটের ভগবান' - ৪৮ তম 'বসন্তে' পা দিলেন মাস্টার ব্লাস্টার

সচিন কাটিয়ে ফেললেন জীবনের ঘটনাবহুল ৪৮টা বসন্ত। আরব সাগরের বুক দিয়ে বয়ে গিয়েছে বহু জল। শেন ওয়ার্নের 'রাতের ঘুম' পর্যন্ত কেড়ে নিয়েছিলেন 'লিটল মাস্টার।'

শুভব্রত মুখার্জি: ১৯৮৯ সালে যখন এক তরুণ জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপিয়ে পাকিস্তানের মাটিতে নেমেছিলেন তখন তার চোখে ছিল স্বপ্ন। স্বপ্ন ভারতীয় ক্রিকেটকে জগত সভায় শ্রেষ্ঠ প্রমান করা। কাজটা কিন্তু একেবারেই সহজ ছিল না। সামনে ওয়াসিম, ইমরান, ওয়াকারদের মতন বোলাররা। যাদের আগুনে পেস বোলিংয়ের সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে সেই তরুণ যুবকের লড়াই সারা বিশ্বের কাছে ব্যাটসম্যান হিসেবে তাঁর 'জাত' চিনিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি সচিন রমেশ তেন্ডুলকর । ভারতীয় ক্রিকেট সমর্থকদের কাছে 'ক্রিকেট ঈশ্বর'  রূপে পূজিত হন তিনি।

সচিন কাটিয়ে ফেললেন জীবনের ঘটনাবহুল ৪৮টা বসন্ত। ১৯৮৯ সালের পরবর্তী কাহিনীটা ভারতবর্ষের ক্রিকেট ইতিহাসে এক 'রূপকথা' হয়ে থেকে গিয়েছে। মুম্বইয়ের সারদাশ্রম বিদ্যামন্দিরের দুই 'ওয়ান্ডার কিড' সচিন তেন্ডুলকর এবং বিনোদ কাম্বলি প্রায় একইসঙ্গেই যাত্রা শুরু করেছিলেন। তারপর আরব সাগরের বুক দিয়ে বয়ে গিয়েছে বহু জল। কেপটাউনে ডোনাল্ড, পোলকদের বিপক্ষে ১৬৯, শারজায় অজিদের বিপক্ষে ১৩৪ রান, পাকিস্তানের বিপক্ষে পিঠের অসহ্য যন্ত্রনাকে উপেক্ষা করে নয়ন মোঙ্গিয়ার সঙ্গে জুটিতে অসাধারণ লড়াইয়ের মতন কিছু ইনিংস ক্রিকেট ইতিহাসের রূপকথায় চিরস্মরনীয় হয়ে রয়ে যাবে। সচিন তেন্ডুলকর সম্বন্ধে বলতে গেলে খাতার পাতা শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু ২৪ বছর ধরে ভারতীয় ক্রিকেটকে যেভাবে তিনি সেবা করে গিয়েছেন তার মাহাত্ম্য আলাদা করে বললে হয়ত বোঝানো যাবে না। তার করা ১০০টা আন্তর্জাতিক শতরানের প্রত্যেকটিই এক একটি গল্পগাথা।

বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ লেগ স্পিনার শেন ওয়ার্নের 'রাতের ঘুম' পর্যন্ত কেড়ে নিয়েছিলেন 'লিটল মাস্টার।' এমনটাই ছিল সচিনের মাহাত্ম্য। যার ২২ গজে খেলা শট রাতে ঘুমের মধ্যেও তাড়া করত ওয়ার্নের মতন কিংবদন্তিকে।

মধ্যবিত্ত ভারতবাসীর আশা – আকাঙ্ক্ষার অপর নাম ছিলেন সচিন তেন্ডুলকর। ছিলেন কেন বলা ভাল এখনও আছেন। সচিনের ব্যাটিং মানেই অফিসের ফাকে টিভিতে চোখ রাখা। স্কুল,কলেজ কেটে বন্ধুর বাড়িতে একসঙ্গে হওয়া‌। ক্যামেরার সামনে ব্যাটের স্পনসরারদের নামকে তুলে ধরে স্ট্রেট ড্রাইভ হোক কিংবা পেস বোলারকে ব্যাকফুটে গিয়ে কভার দিয়ে জোড়ালো পাঞ্চ, আপামর ভারতবাসীর মন ভালো করার রসদে ভরা থাকতো সচিনের ব্যাট থেকে আসা সেসব স্ট্রোক। ২০১১ সালে দেশের মাটিতে লঙ্কাবাহিনীকে পরাস্ত করে বিশ্বকাপ জয় তার ক্রিকেট জীবনের ট্রফি জয়ের ক্যাবিনেটকে দিয়েছিল পূর্ণতা।

এহেন মানুষের আজ ৪৮ তম জন্মদিনে শুভেচ্ছার 'বন্যা' বইবে বিভিন্ন সোশাল মিডিয়ায়তে সেকথা তো বলাই বাহুল্য। বাদ যাবেন না ক্রীড়াক্ষেত্রের কোন ব্যক্তিত্বও। তবে সচিন কিন্তু থাকবেন নির্লিপ্ত। ঠিক যেমন তাঁকে ২৪ বছর ধরে ২২ গজে দেখে এসেছে কোটি কোটি ভারতীয়। কাঁধ ঝাকিয়ে, ব্যাট দিয়ে প্যাডটা অ্যাডজাস্ট করার মতই হয়ত তিনি প্রিয়জনদের অনুরোধে মাতবেন সেলিব্রেশানে আর পরবর্তী মূহুর্তেই তিনি হয়ত মনে মনে ব্যস্ত হয়ে যাবেন ভারতীয় ক্রিকেটে পরবর্তী 'সচিন' কে খুঁজে আনতে।

বন্ধ করুন