বাংলা নিউজ > ময়দান > ‘তিনি সর্বদা নিজেকে রাজা মনে করতেন;’ ছোট্ট চিকুর ‘কিং কোহলি’ হয়ে ওঠার গল্প শোনালেন বিরাটের বন্ধু
বিরাট কোহলি (ছবি:রয়টার্স)

‘তিনি সর্বদা নিজেকে রাজা মনে করতেন;’ ছোট্ট চিকুর ‘কিং কোহলি’ হয়ে ওঠার গল্প শোনালেন বিরাটের বন্ধু

  • কোহলির অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সতীর্থ প্রদীপ সাংওয়ান এবং তন্ময় শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন কীভাবে বিরাটের খেলার প্রতি অন্তহীন আবেগ তাকে সর্বদা গ্রুপের বাকি ছেলেদের থেকে আলাদা করেছিল।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৪ বছর কেটে যাওয়ার পরে বিরাট কোহলি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ খেলোয়াড়দের একজন হিসেবে নিজের জায়গা পাকা করেছেন। তার বিখ্যাত রেকর্ড ছাড়াও, কোহলির আগ্রাসন, ফিটনেস অন্যমাত্রা পেয়েছে। তার আবেগ এবং রেকর্ডের জন্য ক্ষুধা ভারতীয় ক্রিকেট দলকে একটি শক্তিশালী ইউনিটে রূপান্তরিত করেছে। বিরাট কোহলি হয়ত আইসিসি ট্রফি জিততে পারেননি। কোহলি কিন্তু টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে, এমএস ধোনি এবং সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে ছাপিয়ে গিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন বিরাট কোহলি এখনও কয়েক বছর খেলবেন। কোহলি জীবনে যা অর্জন করেছেন, তার জন্য তাকে অনেক ঘাম ঝরাতে হয়েছে। বিরাট কোহলি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক থেকে বিশ্বের শীর্ষ ব্যাটসম্যান এবং সেরা ক্রীড়াবিদদের একজন হয়েছেন। এই যাত্রায় অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন বিরাট। কোহলির অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সতীর্থ প্রদীপ সাংওয়ান এবং তন্ময় শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন কীভাবে বিরাটের খেলার প্রতি অন্তহীন আবেগ তাকে সর্বদা গ্রুপের বাকি ছেলেদের থেকে আলাদা করেছিল।

প্রদীপ সাংওয়ান ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এ কোহলি সম্পর্কে লিখেছেন, ‘আমরা সবাই জানতাম যে বিরাট একদিন ভারতের হয়ে খেলবেন। কারণ তার বড় সেঞ্চুরি করার অভ্যাস ছিল। এটা শুরু থেকেই অভ্যাস। তিনি প্রচুর রান করতেন এবং তিনি নিশ্চিত করেছিলেন যে তিনি সমস্ত ভালো দলের বিরুদ্ধে স্কোর করবেন। তার মানসিকতা এমন ছিল যে তিনি যদি বড় দলের বিরুদ্ধে বড় স্কোর করেন তাহলে ভারতীয় দলে তার নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা হবে। মানুষ তার সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করবে, সকলে তাকে জানতে পারবে।’

প্রদীপ সাংওয়ান আরও বলেন, ‘তিনি যখন মাঠের ভিতরে থাকেন, তিনি কখনই হাল ছাড়েন না। তার মনে হয় সে যেন একাই রয়েছেন এবং তাকে একাই করতে হবে। আমি এখানকার রাজা। আমি আমার দলের জন্য এই খেলা জিতব। ড্রেসিংরুমের ভিতরে, তিনি এমন লোকদের সন্ধান করতেন যাদের সাথে তিনি রসিকতা করতে পারতেন। তিনি মন্তব্য করবেন। তিনি সাজঘরের হাওয়াকে হালকা রাখেন যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মাঝে মাঝে ড্রেসিংরুমের অভ্যন্তরে পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়।

এদিকে, তন্ময় শ্রীবাস্তব বলেছেন যে বিরাট কোহলি প্রথম থেকেই তার মনোভাবের কারণে আলাদা ছিলেন। যেভাবে লড়াই করতেন আর মাঠে কাউকে ছাড়তেন না। ২০০৮ সালে আমাদের একটি দুর্দান্ত দল ছিল এবং সবাই ম্যাচ উইনার ছিল। আমি বিরাটকে অনূর্ধ্ব-১৯ জোনাল গেম থেকে চিনতাম। উত্তর জোন একবার সেন্ট্রাল জোনের বিরুদ্ধে খেলেছিল। ইশান্ত শর্মার মতো খেলোয়াড়ও ছিলেন নর্থ জোনে। আমি সেন্ট্রাল জোনের হয়ে ১৮০ রান করি এবং সে ১৯০ রান করেছিলেন। তখনই আমি প্রথমবার বুঝেছিলাম যে তার সাহস আছে।

তন্ময় শ্রীবাস্তব বিরাটকে নিয়ে আরও বলেন, ‘তিনি আক্রমনাত্মক ছিলেন। লোকেরা বলত, দেখুন, তার অ্যাটিটিউডে সমস্যা আছে। কিন্তু যখন তিনি পারফর্ম করতে শুরু করতেন, তখন তাদের চোখে বিরাটের অ্যাটিটিউড আক্রমণাত্মক হয়ে উঠত! অনেক প্রাক্তন খেলোয়াড় বলতেন, 'বড় খলিফা বান গয়া হ্যায়', মানে বড় খেলোয়াড় হয়ে উঠেছে। তারা বলে 'ইসকা চশমা (সানগ্লাস) এবং হাঁটা (সোয়াগ) তো দেখো বলে ঠাট্টা করত। যে মুহূর্তে সে রান করতে পারেনি সবাই তার দিকে আঙুল তুলতে শুরু করত।

বন্ধ করুন