বাংলা নিউজ > ময়দান > জাতীয় দলে ডাক পাওয়ায় কার্তিকের না খেলা সিরিজেই ভাগ্যোদয় ধোনির, সুযোগ আসে ভারতের
ভারতীয় জার্সিতে দীনেশ কার্তিক এবং মহেন্দ্র সিং ধোনি। (ফাইল ছবি, সৌজন্যে ICC ফেসবুক এবং গেটি ইমেজস)

জাতীয় দলে ডাক পাওয়ায় কার্তিকের না খেলা সিরিজেই ভাগ্যোদয় ধোনির, সুযোগ আসে ভারতের

  • ভারতীয় ‘এ’ দলের হয়ে দু'জনেই নজর কেড়েছিলেন। লাগাতার ভালো পারফরম্যান্সের সুবাদে একজন জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েছিলেন। সেইসময় অপরজন ভারতীয় ‘এ’ দলে নিজের জায়গা পাকা করে নিয়েছিলেন। যা দীনেশ কার্তিক এবং মহেন্দ্র সিং ধোনির ক্রিকেট ভাগ্য লিখে দিয়েছিল।

একজন জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ায় অপরজনের ভারতীয় ‘এ’ দলে জায়গা পোক্ত হয়েছিল। আর সেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করেই প্রথমবার জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েছিলেন ‘অপরজন’ মহেন্দ্র সিং ধোনি। সেখান থেকে তাঁকে পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। অন্যদিকে জাতীয় দলে অনিয়মিত হয়ে পড়েছিলেন ‘প্রথমজন’ তথা দীনেশ কার্তিক।

কীভাবে জাতীয় দলে সুযোগ এসেছিল কার্তিক এবং ধোনির?

২০০৩ সালের শেষের দিকে যখন রঞ্জি ট্রফি শুরু হয়েছিল, তখন ভারতীয় দলে উইকেটকিপারের শূন্যস্থান তৈরি হয়েছিল। প্রচুর সুযোগ পেলেও নিজেকে মেলে ধরতে পারছিলেন না পার্থিব প্যাটেল। সেই পরিস্থিতিতে ভারতীয় দলে ঢোকার ক্ষেত্রে ক্রমশ এগিয়ে আসছিলেন কার্তিক। সেই বছর রঞ্জিতে ৪৩৮ রান করেছিলেন। গড় ছিল ৪৩.৮। সেখানে বিহারের হয়ে পাঁচ ম্যাচে ধোনি (ওপেনার হিসেবেও খেলেছিলেন) ২১৬ রান করেছিলেন। গড় ছিল ২৬। তবে ২০০৪ সালের গোড়ায় দেওধর ট্রফিতে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হয়েছিলেন ধোনি। গড় ছিল ৬১।

তারইমধ্যে ২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারি নাগাদ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ হয়েছিল। বিশ্বকাপে ভালো ছন্দে ছিলেন কার্তিক। গ্রুপ লিগে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ছয়ে নেমে একেবারে কার্তিক সুলভ ইনিংস খেলেছিলেন। ৩৯ বলে করেছিলেন অপরাজিত ৭০ রান। যে বিশ্বকাপের দলে সুযোগ পাননি ধোনি। সেইসময় নির্বাচকদের খাতায় যে পরিস্থিতি ছিল, তাতে ভারতীয় দলের ধারকাছে ছিলেন না। সেই বছরের জুলাই-অগস্টে জিম্বাবোয়েতে ভারতীয় ‘এ’ দলের প্রথম একাদশেও নিয়মিত ছিলেন না ধোনি। প্রথম পছন্দের উইকেটকিপার হিসেবে দলে ছিলেন কার্তিক।

আরও পড়ুন: ঋদ্ধিকে বাদ দিয়ে টেস্টে নতুন মুখ চাইছেন, T20-তে ফেরাচ্ছেন কার্তিককে, এমন দ্বিচারিতা কেন দ্রাবিড়দের? উঠছে প্রশ্ন

নির্বাচকদের সেই ভরসার মর্যাদা দিয়েছিলেন তামিলনাড়ুর ব্যাটারও। জিম্বাবোয়ে সফরের প্রথম ম্যাচেই কার্তিক ৯৬ রান করেছিলেন। যে ম্যাচে সুযোগ পাননি ধোনি। দ্বিতীয় ম্যাচে ৫২ রান করেছিলেন কার্তিক। সেই ম্যাচে ৪৫ রান করেছিলেন ধোনি। সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে ফের বাইরে বসতে হয়েছিল ধোনিকে। তারইমধ্যে এশিয়া কাপে ভারতীয় জার্সিতে পার্থিবের বাজে পারফরম্যান্সের জেরে জিম্বাবোয়েতে থাকাকালীন ভারতীয় দলে ডাক পেয়েছিলেন কার্তিক। ভারতীয় দলের সঙ্গে ইউরোপ সফরে চলে গিয়েছিলেন। তবে সেভাবে সুযোগ পাননি।

অন্যদিকে কার্তিক না থাকায় জিম্বাবোয়েতে ভারতীয় ‘এ’ দলের প্রথম একাদশে ধোনির জায়গা পোক্ত হয়ে গিয়েছিল। সেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করেন মাহি। পাকিস্তান ‘এ’ (পাকিস্তান ‘এ’ দলের নেতৃত্বে ছিলেন মিসবা-উল-হক) এবং জিম্বাবোয়ে ‘এ’ দলের বিরুদ্ধে ত্রিদেশীয় সিরিজে ৩৬২ রান করেছিলেন। তবে শুধু যে রান করেছিলেন তা নয়, বোলারদের নিয়ে কার্যত ছেলেখেলা করেছিলেন। যে পারফরম্যান্সের দামও পেয়েছিলেন ধোনি। বাংলাদেশ সফরের জন্য একদিনের দলে সুযোগ পেয়েছিলেন। টেস্ট দলে সুযোগ পেয়েছিলেন কার্তিক। বাকিটা তো ইতিহাস।

ধোনি নয়, ‘নির্বাচকদের কাছে কার্তিকের নাম সুপারিশ করেছিলাম’

২০০৪ সালের সেপ্টেম্বরে উইসডেন ক্রিকইনফোয় একটি সাক্ষাৎকারের তৎকালীন ভারতীয় 'এ' দলের কোচ সন্দীপ পাটিল বলেছিলেন, ‘আমার মতে, টেস্ট এবং একদিনের ম্যাচে ছয় নম্বর ব্যাটার হিসেবে দীনেশ কার্তিক একেবারে উপযুক্ত। ও অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, মইন খান এবং রমেশ কালুউইথরানার সংমিশ্রণ - যে নিজের দমেই ম্যাচ জেতাত পারবে। সাম্প্রতিক সময় কোনও ভারতীয় উইকেটকিপারের বিষয়ে আমি সেটা বলতে পারব না। যদি পার্থিব প্যাটেলের মতো কার্তিককে সুযোগ দেওয়া হয়, সেটা সঠিক বলে প্রমাণিত হবে।'

আরও পড়ুন: ‘তুমি সকলের অনুপ্রেরণা’, কার্তিকের বিধ্বংসী ইনিংস দেখে আপ্লুত হার্দিক- ভিডিয়ো

পাটিল আরও বলেছিলেন, 'আমি নির্বাচকদের কাছে কার্তিকের নাম সুপারিশ করেছিলাম। কিন্তু সেটা হাড্ডাহাড্ডি লড়াই ছিল। ধোনিও নির্ভরযোগ্য উইকেটকিপার। ধোনি দুটি দুর্দান্ত শতরান হাঁকিয়েছিল। বেঙ্গালুরুর শিবিরে ধোনিকে নিয়ে আগ্রহ দেখাননি জিওফ্রে বয়কট। তবে ওকে হত্যেদম হতে বারণ করেছিলাম। কারণ ওর খেলার ধরণ অনন্য ছিল।’

বন্ধ করুন