বাংলা নিউজ > ময়দান > নাচে, গানে, উচ্ছ্বাসে, আহ্লাদে লর্ডস টেস্ট জয়ের উৎসবে মাতল কোহলি ব্রিগেড
ভারতীয় দলের ড্রেসিংরুমের উচ্ছ্বাস।
ভারতীয় দলের ড্রেসিংরুমের উচ্ছ্বাস।

নাচে, গানে, উচ্ছ্বাসে, আহ্লাদে লর্ডস টেস্ট জয়ের উৎসবে মাতল কোহলি ব্রিগেড

  • ড্রেসিংরুমে ফেরার পর বিরাট কোহলি ব্রিগেডের উচ্ছ্বাসের বাঁধ ভাঙে। একে অপরকে আলিঙ্গন করে শুভেচ্ছা জানানো তো রয়েছেই। নাচে, গানে, হুল্লোড়ে একেবারে হইহই রব শোনা যাচ্ছিল ভারতের ড্রেসিংরুম থেকে। তার কিছু ঝলক বিসিসিআই একটি টুইটারে শেয়ার করেছেন।

সোমবার রাতের ঘটনাটা কী সত্যি না স্বপ্ন! ভারতীয় ক্রিকেট সমর্থকেরা যেন এখনও ঘোরে! শেষ পর্যন্ত ব্রিটিশদের মুখের উপর জবাব জিতে পারল ভারত? সত্যি অবিশ্বাস্য। চতুর্থ দিনের শেষে তো বটেই, পঞ্চম দিনের শুরুতেও রীতিমতো ব্যাকফুটে ছিল ভারত। রাত গড়াতেই বদলে গেল ছবিটা। প্রথমে সামি, বুমরাহর চমক। তার পরেই ভারতীয় বোলারদের দাপট। সোমবার লর্ডসে নতুন এক অধ্যায় লিখলেন বিরাট কোহলিরা। ইংল্যান্ডকে ১৫১ রানে হারিয়ে ব্রিটিশদের যোগ্য জবাব দিল ভারত। আর তার পরেই মাতল উৎসবে।

ড্রেসিংরুমে ফেরার পর বিরাট কোহলি ব্রিগেডের উচ্ছ্বাসের বাঁধ ভাঙে। একে অপরকে আলিঙ্গন করে শুভেচ্ছা জানানো তো রয়েছেই। নাচে, গানে, হুল্লোড়ে একেবারে হইহই রব শোনা যাচ্ছিল ভারতের ড্রেসিংরুম থেকে। তার কিছু ঝলক বিসিসিআই একটি টুইটারে শেয়ার করেছেন। সেখানে বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা, অজিঙ্কা রাহানে, লোকেশ রাহুল, মহম্মদ সামিদের আবেগের বিস্ফোরণ ঘটেছে। বিরাট, রোহিতরা নিজেরাও সোশ্যাল মিডিয়ায় লর্ডস জয়ের ছবিও শেয়ার করেছেন।

বিসিসিআই-এর সেই ভিডিয়োতে বিরাট কোহলি বলেছেন, ‘সত্যি কথা বলতে, আমরা ঋষভের উপরই নির্ভর করছিলাম। ও যদি শেষ পর্যন্ত খেলাটা টেনে নিয়ে যেতে পারে, ২০০ হলে খুব ভাল হয়, ১৭৫-১৮০-ও হতে পারে। কিন্তু তা বলে ২৭০ ভাবতে পারিনি। তুমি যখন মাঠে নামো, তখন ব্যক্তিগত ভাবেও কিছু করে দেখানোর সুযোগ সকলের সামনে থাকে। এবং সেই সুযোগটা নিয়েই কেউ যদি কিছু করে দেখাতে বদ্ধপরিকর থাকে, তা হলে ভাল কিছু ঘটতে বাধ্য।’

রোহিত শর্মাকে আবার বলতে শোনা গিয়েছে, ‘এটা সম্ভবত আমাদের খেলা সব থেকে সেরা টেস্ট ম্যাচ। প্রত্যেকেই কিন্তু এই টেস্ট জিততে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। একটা টেস্ট ম্যাচ জিততে এটা  খুব প্রয়োজন। কোনও একজন বা দু'জন নয়, ১১ জন মিলে এগিয়ে এসে দায়িত্ব ভাগ করে নিয়েছে। এটা একটা টিমের জন্য খুব ভাল বিষয়।’

চতুর্থ দিনের শেষে ভারত ১৮১ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে রীতিমতো চাপে পড়ে গিয়েছিল। পঞ্চম দিনের শুরুতেই ২২ রান করে আউট হয়ে যান ঋষভ পন্ত। তখন দলের রান ১৯৪। পন্ত আউট হওয়ার পর পরই আউট হয়ে যান ইশান্ত শর্মাও (১৬)। তখন ২০৯ রানে ৮ উইকেট পড়ে গিয়েছে। সেখান থেকে দলের মান রক্ষা করেন মহম্মদ সামি এবং জসপ্রীত বুমরাহ। এই দুই ক্রিকেটারের সৌজন্যে ৮ উইকেটে ২৯৮ রানে ইনিংসের সমাপ্তি ঘোষণা করেন বিরাট কোহলি। সামি অপরাজিত থাকেন ৫৬ রান করে। বুমরাহ ৩৪ রানে নট আউট।

বল হাতে প্রথম দু'ওভারেই দুই ওপেনারকে ফেরান বুমরাহ এবং সামি। প্রথম ওভারে শূন্য রানে রোরি বার্নসকে ফেরান বুমরাহ। তার পরের ওভারে সামি ফেরান ডোম সিবলেকে। শুরুতেই দুই ওপেনারকে হারিয়ে চাপে পড়ে গিয়েছিল ভারত। তার পর থেকে ইংল্যান্ড পুরোটাই ড্র করার জন্য ম্যাচ খেলেছে। বেশি সতর্ক হতেই গিয়েই বরং একের পর এক উইকেট হারিয়েছে তারা। কার্যত লাঞ্চের কিছু সময় পর থেকেই ব্যাট করতে নেমেছিল ইংল্যান্ড। তবু ড্র করতে পারলেন না জো রুটরা। আর পুরো কৃতিত্ব ভারতীয় বোলারদের।

বন্ধ করুন