বাংলা নিউজ > ময়দান > 'শৌচাগার থেকে মেয়েদের খাবার পরিবেশন', উত্তরপ্রদেশের ঘাড়ে দায় কবাডি ফেডারেশনের
'শৌচাগার থেকে মেয়েদের খাবার পরিবেশন', উত্তরপ্রদেশ সরকারের উপর দায় চাপাল কবাডি ফেডারেশন

'শৌচাগার থেকে মেয়েদের খাবার পরিবেশন', উত্তরপ্রদেশের ঘাড়ে দায় কবাডি ফেডারেশনের

  • জাতীয় কবাডি ফেডারেশনের তরফে জানানো হয়েছে টুর্নামেন্টের এই খাবারের বিষয়টির দায়িত্বেই নাকি নেই তারা! পাশাপাশি বলা হয়েছে টুর্নামেন্টের আয়োজনের সঙ্গেও নাকি যুক্ত নন তারা।

শুভব্রত মুখার্জি: ভারতের মতন দেশে ক্রিকেট, ফুটবল ছাড়া বাকি সমস্ত খেলাতেই পরিকাঠামোগত সমস্যা রয়েছে অনেকে অভিযোগ করেন। সরকারের তরফে চেষ্টার কোনও খামতি নেই তা ঠিক। তবে এই বিপুল জনসংখ্যার দেশে সবসময় সবটা করে ওঠাও সম্ভব নয়। তবে যাকে বলে নূন্যতম পরিকাঠামো যেমন জল, খাবার, প্রাথমিক চিকিৎসা সেইসব ক্ষেত্রেও যখন ক্রীড়া সংস্থার গাফিলতি থেকে যায় তখন তা দুর্ভাগ্যের তো বটেই। জাতীয় স্তরের কবাডি খেলোয়াড়দের একটি ভিডিয়ো (সত্যতা যাচাই করেনি হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা) সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে। যেখানে দেখা গিয়েছে বাথরুমে ভিতর থেকে খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে! ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের শাহারানপুরে। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই গোটা দেশে আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। আর সেই ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই সমস্ত ঘটনার দায়ভার কার্যত নিজেদের কাঁধ থেকে ঝেড়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় কবাডি ফেডারেশন।

জাতীয় কবাডি ফেডারেশনের তরফে জানানো হয়েছে টুর্নামেন্টের এই খাবারের বিষয়টির দায়িত্বেই নাকি নেই তারা! পাশাপাশি বলা হয়েছে টুর্নামেন্টের আয়োজনের সঙ্গেও নাকি যুক্ত নন তারা। ভিডিয়োতে (সত্যতা যাচাই করেনি হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা) যেসব খেলোয়াড়দের দেখা যাচ্ছে তারা সকলেই অংশ নিয়েছেন অনূর্ধ্ব-১৬ পর্যায়ের এই ইভেন্টে। ঘটনায় আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। রাজনীতিবিদ, ক্রীড়া জগতের তারকা, সাধারণ মানুষ গোটা ঘটনায় তীব্র থেকে তীব্রতর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। কর্তৃপক্ষের তরফে তৎক্ষণাৎ জেলার স্পোর্টস অফিসারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে ক্যাটেরারকে।

সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে বিষয়টি নিয়ে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন এসপি গর্গ। যিনি ২০১৮ থেকে অ্যামেচার কবাডি ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ার (একেএফআই) দায়িত্বে রয়েছেন।‌ দিল্লি হাইকোর্ট তাকে অ্যাডমিনিস্ট্রেটর হিসেবে নিয়োগ করেছে। তিনি জানিয়েছেন 'এই টুর্নামেন্টের আয়োজনের একেএফআইয়ের কোনও ভূমিকা নেই। এটা উত্তরপ্রদেশের সরকারের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত একটা ইভেন্ট। আয়োজকরা নিজেরাই নিজেদের আয়োজন করেছে।' গর্গ জানিয়েছেন এটা রাজ্যস্তরের একটা ইভেন্ট। সেক্ষেত্রে তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল তাহলে কীকরে জাতীয় ফেডারেশনের অনুমতি ছাড়াই এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল? যার উত্তরে গর্গ বলেন 'আমরা আয়োজনের সঙ্গে কোনওভাবেই যুক্ত না। আমাদের কোনও ধরনের যোগাযোগ নেই। আমাদের কাছে এই প্রতিযোগিতা নিয়ে কোনও প্রকার কোনও তথ্য ছিল না।'

উত্তরপ্রদেশের রাজ্য কবাডি অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি রাজেশ কুমার সিংয়ের গলাতেও কার্যত এক সুর শোনা গিয়েছে। তিনি বলেছেন 'টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছিল রাজ্য সরকারের ক্রীড়া বিভাগ। আমাদের একমাত্র কাজ ছিল টেকনিক্যাল সহায়তা প্রদান। আমরা কয়েকজন অফিসিয়ালকে পাঠিয়েছিলাম ইভেন্ট যাতে ঠিকঠাক করে হয়। আর সিলেকশন কমিটিকে ও পাঠানো হয়েছিল। এছাড়া আর আমরা কিছুই করিনি। আমাদের নিজস্ব ইভেন্ট রয়েছে। অনূর্ধ্ব-১৬ মহিলাদের এই টুর্নামেন্ট আমাদের ক্যালেন্ডারেই ছিল না।'

বন্ধ করুন