বাংলা নিউজ > ময়দান > ডোপিং বিতর্কে নাম জড়াল দ্যুতি চাঁদের, নিষিদ্ধ ড্রাগ নেওয়ার কথা অস্বীকার তারকার

ডোপিং বিতর্কে নাম জড়াল দ্যুতি চাঁদের, নিষিদ্ধ ড্রাগ নেওয়ার কথা অস্বীকার তারকার

দ্যুতি চাঁদ।

দ্যুতির মূত্রের নমুনা পরীক্ষায় সিলেক্টিভ অ্যান্ড্রোজেন রিসেপটর মডিউলেটরস বা এসএআরএমএস মিলেছে। এটি এক প্রকারের অ্যানাবলিক স্টেরয়েড, যা শরীরে কিছু পুরুষের বৈশিষ্ট্য নিয়ে আসে। ওয়ার্ল্ড অ্যান্টি-ডোপিং এজেন্সির নিষিদ্ধ বস্তুর তালিকায় রয়েছে এই স্টেরয়েড। কারণ এই স্টেরয়েড পারফরম্যান্স বাড়াতে সাহায্য করে।

দ্যুতি চাঁদের বিরুদ্ধে এ বার ডোপিংয়ের অভিযোগ। ভারতের তারকা অ্যাথলিট এবং ১০০ মিটার দৌড়ে জাতীয় চ্যাম্পিয়ন দ্যুতিকে আপাতত সাসপেন্ড করা হয়েছে। সংবাদসংস্থা পিটিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, দ্যুতির মূত্রের নমুনা পরীক্ষায় পাওয়া গিয়েছে নিষিদ্ধ সিলেক্টিভ অ্যান্ড্রোজেন রিসেপটর মডিউলেটরস। যা পারফরম্যান্স বাড়াতে সাহায্য় করে। দ্যুতি যদি নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে না পারেন, তা হলে তাঁর সমস্যা আরও বাড়বে। বড় ধরনের নির্বাসনের মুখে পড়তে হতে পারে দ্যুতিকে। স্বাভাবিক ভাবেই চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে ভারতীয় ক্রীড়া মহলে।

দ্যুতি চাঁদ অবশ্য পুরো অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এবং তিনি জানিয়েছেন, বিশ্ব সংস্থার তরফে কোনও নোটিশ তিনি পাননি। তাঁর দাবি, তিনি দীর্ঘকাল ধরে সর্বোচ্চ স্তরে প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন। এবং তিনি কখনও কোনও নিষিদ্ধ ড্র্যাগ ব্যবহার করেননি।

আরও পড়ুন: ডোপ টেস্টে ধরা পড়লেন কমনওয়েলথ গেমসে জোড়া সোনাজয়ী তারকা ভারোত্তলক

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দুতি বলেছেন, ‘আমি প্রায় এক দশক ধরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি এবং আমি কখনও-ই কোনও ধরনের কর্মক্ষমতা বাড়ানোর ওষুধ স্পর্শ করিনি বা ব্যবহার করিনি। আমাকে যখনই বলা হয়েছে, আমার নমুনা দিয়েছি। ২০১৪ সালে হাইপারঅ্যান্ড্রোজেনিজম মামলার কারণে আমাকে দৌড়ানোর অধিকারের জন্য লড়াই করতে হয়েছিল এবং এখন সেই অধিকার পেয়েছি। আমার পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে তা জানাতে আমাকে প্রথমে চিঠিটি দেখতে হবে।’

এর পর তিনি যোগ করেন, ‘আমি এখনও ডোপিং এজেন্সি বা ফেডারেশন থেকে কোনও চিঠি পাইনি। আমি কেবল মিডিয়ার লোকজনের মাধ্যমে জানতে পেরেছি এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি চিঠি ঘোরাফেরা করছে।’

আরও পড়ুন: বিমান দুর্ঘটনার কবলে অলিম্পিক্সে ২ বারের সোনাজয়ী অ্যাথলিট- অল্পের জন্য রক্ষা

জানা গিয়েছে, কোনও প্রতিযোগিতা চলাকালীন দ্যুতির নমুনা নেওয়া হয়নি। আউট অব কম্পিটিশন টেস্টিংয়ে তাঁর মূত্রের নমুনায় নিষিদ্ধ স্টেরয়েড মিলেছে। দ্যুতির মূত্রের নমুনা পরীক্ষায় সিলেক্টিভ অ্যান্ড্রোজেন রিসেপটর মডিউলেটরস ওরফে এসএআরএমএস (SARMs) মিলেছে। এটি এক প্রকারের অ্যানাবলিক স্টেরয়েড যা শরীরে কিছু পুরুষের বৈশিষ্ট্য নিয়ে আসে। ওয়ার্ল্ড অ্যান্টি-ডোপিং এজেন্সির (WADA) নিষিদ্ধ বস্তুর তালিকায় রয়েছে এই স্টেরয়েড। কারণ এই স্টেরয়েড পারফরম্যান্স বাড়াতে সাহায্য করে। পাশাপাশি শরীরের পেশি এবং হাড়ের বৃদ্ধি ঘটায়। এই স্টেরয়েডই নিয়েছেন বলে অভিযোগ দ্যুতির বিরুদ্ধে।

গত বছর সেপ্টেম্বর-অক্টোবর পর্যন্ত গুজরাটে অনুষ্ঠিত জাতীয় গেমসে দ্যুতি অংশ নিয়েছিলেন। ২০০ মিটারে দৌড়েছিলেন তিনি। কিন্তু ফাইনালে যেতে পারেননি। ১০০ মিটার ড্যাশে ষষ্ঠ স্থানে শেষ করেছিলেন দ্যুতি। ২০১৮ সালে দ্যুতি এশিয়াডে জোড়া পদক পেয়েছিলেন। ১০০ ও ২০০ মিটারে তিনি রুপো জিতেছিলেন জাকার্তায়। এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে দ্যুতির তিনটি ব্রোঞ্জ (২০১৩, ২০১৭ ও ১০১৯) রয়েছে।

বন্ধ করুন