উচ্ছ্বাস বাগানের (ছবি সৌজন্য টুইটার @ILeagueOfficial)
উচ্ছ্বাস বাগানের (ছবি সৌজন্য টুইটার @ILeagueOfficial)

I-League: জয় টিমগেমের, আবারও ভারতসেরা মোহনবাগান!

বাবা দিওয়ারার একমাত্র গোলে আইজলের বিরুদ্ধে জিতে আবারও ভারতসেরা হল মোহনবাগান।

মাঠে যাওয়ার আগেই ফোন পেয়েছিলেন। এক নিকটাত্মীয়ের বিয়োগ হয়েছে। কিন্তু প্রিয় দলের আই লিগ জয়ের সাক্ষী থাকার জন্য কল্যাণীতে পাড়ি দিয়েছিলেন এক মোহনবাগান সমর্থক। তাঁর স্বপ্ন পূরণ করলেন জোসেবা বেইতিয়ারা। বাবা দিওয়ারার একমাত্র গোলে আইজলের বিরুদ্ধে জিতে আবারও ভারতসেরা হল মোহনবাগান।

আরও পড়ুন : I-League: আই লিগের রং সবুজ-মেরুন, দেখুন উচ্ছ্বাসের মুহূর্ত


দোলের দিন যে সবুজ-মেরুন আবির তোলা ছিল, এদিন সকাল থেকেই সেই আবির নিয়ে কল্যাণীর উদ্দেশে রওনা দেন সবুজ-মেরুন সমর্থকরা। ট্রেনে হোক বা রাস্তায়, একটাই স্লোগান তখন – জয় মোহনবাগান। সেই স্লোগানে গমগম করছিল মাঠও। কিন্তু প্রথমার্ধে কাঙ্খিত গোল পায়নি মোহনবাগান।

এরপর দ্বিতীয়ার্ধে গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে বাগান। একের পর এক আক্রমণ শানাতে থাকেন কিবু ভিকুনার ছেলেরা। তেকাঠির কাছে বারবার পৌঁছে গেলেও গোলের মুখ খুলতে পারছিলেন না বেইতিয়ারা। অবশেষে ৭৮ মিনিটে আসে সেই কাঙ্খিত গোল।

ছোট্ট টোকায় দিওয়ারাকে বল বাড়ান বেইতিয়া। সেই পাসে কেটে যান এতক্ষণ দিওয়ারার ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলা রিচার্ড কাসেগা। তারপর আর কে আটকায় দিওয়ারাকে? সেখান থেকে ডান পায়ের শটে আইজলের জালে বল জড়িয়ে দেন চলতি মরশুমের প্রথম আই লিগ ডার্বির নায়ক। এদিনের গোলে অবশ্য তাঁর ডার্বির নায়কের তকমা ঢাকা পড়ে গেল। বরং মোহনবাগান সমর্থকদের কাছে তিনি হয়ে উঠলেন লিগ জয়ের নায়ক।

যাই হোক, দিওয়ারার গোলের পরই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন বাগান সমর্থকরা। কল্যাণীতে শুরু হয়ে যায় সেলিব্রেশন। বাকি সময়টুকু রেফারির শেষ বাঁশির অপেক্ষা করছিলেন বাগান সমর্থকরা। আর রেফারির শেষ বাঁজি বাজতেই আবেগ-উচ্ছ্বাসের সব বাঁধ ভেঙে যায়। কল্যাণীতে উড়তে থাকে সবুজ-মেরুন পতাকা। উড়তে থাকে সবুজ-মেরুন আবির। মাঠে ঢুকে পড়েন কোচ, কর্মকর্তা ও খেলোয়াড়রা।

সবুজ-মেরুন আবির মেখে লিগ জয়ের সেলিব্রেশনে মাতেন বেইতিয়ারা। এদিন কোনও এক বাগান সমর্থক আই লিগের ট্রফি তৈরি করে এনেছিলেন। তা চলে আসে শুভ ঘোষদের হাতে। তা নিয়েই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন ফ্রান গঞ্জালেজ, ধনচন্দ্র সিংরা। চার ম্যাচ বাকি থাকতেই আই লিগ জয়ের সেলিব্রেশনের মধ্যে বাগান চাণক্য কিবু ভিকুনার গালে কেউ সবুজ-মেরুন লাগিয়ে দিয়েছিলেন। ভারতের প্রথম মরশুমেই সাফল্য পাওয়ার পর যারপরনাই খুশি বরাবরের শান্ত প্রকৃতির সেই ভিকুনা। আনন্দ উৎসেবর ফাঁকেই উচ্ছ্বাসিত বাগান কোচ বললেন, 'চার ম্যাচ বাকি থাকতে জেতাটা দুর্দান্ত। অসাধারণ অনুভূতি। সমর্থকরা যেভাবে এসেছিলেন, দুর্দান্ত।'

বিশেষজ্ঞদের মতে, কলকাতা লিগে ধাক্কা খাওয়ার পর টিমকে যেভাবে তৈরি করেছিলেন ভিকুনা, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। লিগের প্রথম পর্যায় শেষের পর অনেক পয়েন্টে এগিয়ে ছিল বাগান। কিন্তু খেলোয়াড়দের মধ্যে আসতে দেননি আত্মতুষ্টি। যে আত্মতুষ্টির শিকার হয়ে কয়েক মরশুম আগেই আই লিগ হাতছাড়া হয়েছিল বাগানের। সঙ্গে তো ছিলই মগজাস্ত্রের ব্যবহার। আর একটা যে কাজ করেছিলেন ভিকুনা, তা হল টিম স্পিরিট গড়ে তোলা। দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে সম্পর্ক দুর্দান্ত ছিল। পড়শি ইস্টবেঙ্গলে যখন খেলোয়াড়দের মধ্যে দ্বৈরথ চলছিল, তখন ঠান্ডা মাথার ভিকুনা দলের দুর্দান্ত ম্যানেজার হয়ে উঠেছিলেন। গঙ্গাপারের ক্লাবে তৈরি করেছিলেন ফিল গুড পরিবেশ। ক্লাবের উপর একাধিক ধাক্কা এলেও তার প্রভাব পড়তে দেননি খেলোয়াড়েদর উপর।

আর সেই টিম ও ক্লাব স্পিরিটের কথা ফুটে উঠল বাগান কর্মকর্তা সৃঞ্জয় বসুর গলায়। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, 'এটা কারোর একজনের জয় নয়। এটা সবার জয়। দলের মালি, কোচ, খেলোয়াড়, কর্মকর্তা – সবার জয়।' তিনি যখন এই কথাগুলি বলছেন, তখন পাশ থেকে ঝরঝরে বাংলায় বেইতিয়ারা বললেন, 'জয় মোহনবাগান'। কিছুটা দূরে কোমর দোলাচ্ছিলেন তাঁদের গৃহিনীরা।


সত্যিই, সবকিছু ছাপিয়ে জয় হল টিম স্পিরিটের। যার সৌজন্যে পঞ্চমবার ভারতসেরা হল বাগান। তিনবার জাতীয় লিগ ও দু'বার আই লিগ জিতল গঙ্গাপারের ক্লাব। ২০১৫ সালে ১৩ বছরের খরা কাটিয়ে যে কোচ সবুজ-মেরুন তাঁবুতে আই লিগ ট্রফি এনেছিলেন, সেই সঞ্জয় সেন এখন এটিকের সঙ্গে যুক্ত। মরশুম শেষে সেই এটিকের সঙ্গেই মিশে যাবে বাগান। এখন থেকে তাই এটিকের হেড কোচকে তিনি বার্তা দিয়েই রাখতে পারেন, ''টিমটা একটু দেখে বানাবেন।' আর দিতেই হবে। বাগান খেলোয়াড়রা যেভাবে এই মরশুমে খেলেছেন, তাতে এটিকে-মোহনবাগানে অধিকাংশ খেলোয়াড়দেরই সুযোগ পাওয়ার কথা।

বন্ধ করুন