বাংলা নিউজ > ময়দান > জানতাম কখনও বীরু, সচিনের মতো হতে পারব না, ফের মন জিতলেন বিনয়ী দ্রাবিড়
পুরনো টিম ইন্ডিয়া- সচিন তেন্ডুলকর, রাহুল দ্রাবিড়, ভিভিএস লক্ষ্মণ, বীরেন্দ্র সেহওয়াগ।

জানতাম কখনও বীরু, সচিনের মতো হতে পারব না, ফের মন জিতলেন বিনয়ী দ্রাবিড়

  • ১৯৯৬ সালে টেস্ট এবং ওডিআই ক্রিকেটে অভিষেক হয় রাহুল দ্রাবিড়ের। ভারতের হয়ে ১৬৪টি টেস্ট ম্যাচে ১৩২৮৮ রান করেছেন রাহুল দ্রাবিড়। ৩৬টি শতরান রয়েছে তাঁর টেস্ট ক্রিকেটে এবং দ্বি-শতরান রয়েছে পাঁচটি। ৩৪৪ একদিনের ম্যাচে দ্রাবিড়ের সংগ্রহ ১০৮৮৯ রান। এই ফরম্যাটে ১২টি শতরান করেছেন তিনি।

ভারতীয় ক্রিকেটে একটা সময়ে ধৈর্যের আরেক নাম ছিলেন রাহুল দ্রাবিড়। দ্রাবিড়কে টিম ইন্ডিয়ার প্রাচীর বলা হয়ে থাকে। টেস্ট ক্রিকেটে ব্যাটিংয়ের পারফেকশনিস্ট হিসেবে তিনি বিবেচিত হন। ভারতীয় ব্যাটিংয়ের স্বর্ণযুগে বীরেন্দ্র সেহওয়াগ, সচিন তেন্ডুলকর, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় এবং ভিভিএস লক্ষ্মণের আক্রমণের সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রাখতেন দ্রাবিড়। তাঁর সংযম এবং খেলা বোঝার ব্যাপারে প্রতিপক্ষের বোলারদেরও একই মত ছিল। মধ্য ওভারে দলকে স্থিতিশীলতা দেওয়ার তাঁর ক্ষমতা অনেক ম্যাচেই ভারতকে শক্তি জুগিয়েছে।

তাঁর এত ধৈর্য্য এবং মাথা ঠাণ্ডা রাখার রহস্য কী? এই বিষয়ে দ্রাবিড় বলেছেন যে, অনেকাংশে এর কারণ তাঁর নিজের স্বভাব এবং কেরিয়ারের শুরুর দিকে তিনি সময়মতো সুইচ অফ করার প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পেরেছিলেন।

আরও পড়ুন: চাপের পরিস্থিতিতে ঠিক কী করেন দ্রাবিড়, ফাঁস করলেন শ্রেয়স

ভারতের প্রথম স্বতন্ত্র অলিম্পিক্স স্বর্ণপদক বিজয়ী অভিনব বিন্দ্রার পডকাস্ট ‘ইন দ্য জোন’-এ রাহুল দ্রাবিড় বলেছেন, ‘আমার কেরিয়ারের দিকে যদি ফিরে তাকান তা হলে দেখবেন, সেটিকে দীর্ঘায়িত করার ক্ষেত্রে বা পারফরম্যান্স ধরে রাখার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে শক্তির সঞ্চয় বা বিশেষ করে মাসিক শক্তির সঞ্চয়। আমি অনেক বেশি শক্তি অতিবাহিত করতাম, যখন খেলার মধ্যে থাকতাম না সেই সময়েও, নিজের খেলা নিয়ে ভাবতাম, সেটা নিয়ে চিন্তা করতাম। একটা সময়ে আমি বুঝতে পারি, এটার কোনও প্রয়োজন নেই। আমার খেলার উন্নতিতে এটা কোনও কাজেই আসছে না। আমাকে তরতাজা থাকতে হবে এবং খেলার বাইরেও জীবন খুঁজে পেতে হবে।’

প্রাক্তন অধিনায়ক এবং ভারতীয় ক্রিকেট দলের বর্তমান প্রধান কোচ বলেছেন যে তিনি কখনই বীরেন্দ্র সেহওয়াগ বা সচিন তেন্ডুলকরের মতো স্বাধীন ভাবে খেলতে পারেননি। তবে তিনি চাপের সঙ্গে লড়াই করার নিজের উপায় খুঁজে বের করছিলেন।

আরও পড়ুন: দুই কিংবদন্তি এক ফ্রেমে, পাশাপাশি দ্রাবিড় ও লারা

তিনি বলেছেন, ‘আমি কখনই বীরেন্দ্র শেহওয়াগের মতো হতে পারতাম না। খেলার বাইরে ব্যক্তিত্বের জন্য ওর কাছে সুইচ অফ করাটা খুব সহজ ছিল। আমি কখনও-ই ওই স্তরে পৌঁছতে পারতাম না। কিন্তু হঠাৎই আমি বুঝতে পারি এটা ভালো সঙ্কেত নয় আমার জন্য। আমি বুঝতে পারছিলাম আমাকে একটা রাস্তা বের করতে হবে খেলার পর সেই চিন্তা থেকে বের হয়ে আসার জন্য, এটা নিজেকেই করতে হবে। জিমে অতিরিক্ত সময় কাটানো বা অনুশীলনের মতোই এটা জরুরি। এই সব কিছু করেও মানসিক ভাবে যদি সব সময়ে খেলার চিন্তা থেকে দূরে না থাকতে পারি, তা হলে খেলার জন্য পর্যাপ্ত এনার্জি পাওয়া যাবে না। এই বিষয়টি যখন বুঝতে পারি তখন সুইচ অফ করার চেষ্টা করি এবং সেটা আমাকে অনেকটা সাহায্য করে।

সচিন তেন্ডুলকর ছাড়া একমাত্র ভারতীয় ছিলেন রাহুল দ্রাবিড়, যিনি ওয়ানডে এবং টেস্ট ক্রিকেটে ১০,০০০-এর বেশি রান করেছেন। রাহুল অবশ্য বলেছেন, ‘আমার কেরিয়ার যত এগিয়েছে, আমি বুঝতে পেরেছি, আমি কখনই সেহওয়াগ বা সচিনের মতো দ্রুত রান করতে পারব না। আমার সব সময় ধৈর্যের প্রয়োজন ছিল। আমি আমার এবং বোলারের মধ্যে প্রতিযোগিতা পছন্দ করতাম। আমি দেখেছি এটি আমাকে একটু বেশি ফোকাস করতে সাহায্য করেছে।’

বন্ধ করুন