বাংলা নিউজ > ময়দান > ‘সবটা ওর সঙ্গে শেয়ার করতাম’, বন্ধু অভির অকালপ্রয়াণে শোকস্তব্ধ জয়দেব উনাদকাট
অভি ব্যারোট।

‘সবটা ওর সঙ্গে শেয়ার করতাম’, বন্ধু অভির অকালপ্রয়াণে শোকস্তব্ধ জয়দেব উনাদকাট

  • ২০২০ সালের মার্চে প্রথম বারের জন্য রঞ্জি ট্রফি চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল সৌরাষ্ট্র। ফাইনালে বাংলা দলকে পরাস্ত করেছিল তারা। প্রথম ইনিংসে পাওয়া লিডের সুবাদেই বাংলাকে হারাতে সক্ষম হয়েছিল তারা। রঞ্জি জয়ী সেই সৌরাষ্ট্র দলের উইকেটকিপার-ওপেনার ব্যাটার ছিলেন অভি ব্যারোট।

শুভব্রত মুখার্জি: যে বয়সে তাঁর ২২ গজে দাপিয়ে ক্রিকেট খেলে বেড়ানোর কথা ছিল, সেই বয়সেই যে তিনি চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন, এমনটা আশা করেননি কেউই। মাত্র ২৯ বছর বয়সেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন রঞ্জি চ্যাম্পিয়ান সৌরাষ্ট্রের ক্রিকেটার অভি ব্যারোট। আচমকাই শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন এবং কোনও রকম চিকিৎসার কোনও সুযোগ কাউকে না দিয়েই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। অনুর্ধ্ব-১৯ পর্যায় থেকে একসঙ্গে ক্রিকেটটা খেলা তার সতীর্থ তথা বন্ধুর জন্য এক আবেগঘন টুইট করলেন একদা ভারতের জাতীয় দলের সদস্য তথা রাজস্থান রয়্যালসের পেসার জয়দেব উনাদকাট।

তাঁর অকাল মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ জয়দেব উনাদকাট। তিনি টুইটে লেখেন, ‘অভি অদ্ভুত রকম খারাপ লাগছে। আমি বিশ্বাস করতে পারছি না তুমি আর আমাদের মাঝে নেই। অনুর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ে আমরা একসাথে খেলেছি। দুটো রঞ্জি ফাইনাল আমরা একসাথে খেলেছি। একটা রঞ্জি খেতাব একসাথে জিতেছি। বিশ্বাস হচ্ছে না তোমার আবিষ্কার করা 'সিনক্রোনাইজড হ্যান্ড ক্ল্যাপ' আর আমরা কোনও দিন করব না। আমরা একসাথে সবকিছু করেছি আমার বন্ধু।’

উল্লেখ্য ২০২০ সালের মার্চে প্রথম বারের জন্য রঞ্জি ট্রফি চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল সৌরাষ্ট্র। ফাইনালে বাংলা দলকে পরাস্ত করেছিল তারা। প্রথম ইনিংসে পাওয়া লিডের সুবাদেই বাংলাকে হারাতে সক্ষম হয়েছিল তারা। রঞ্জি জয়ী সেই সৌরাষ্ট্র দলের উইকেটকিপার-ওপেনার ব্যাটার ছিলেন অভি ব্যারোট।

সৌরাষ্ট্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের তরফ থেকে এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। তারা জানিয়েছে, ‘সৌরাষ্ট্রের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার অভি ব্যারোটের অকাল প্রয়াণে সংস্থার সকল সদস্য মর্মাহত। শুক্রবার সন্ধ্যায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন এই ক্রিকেটার।’ উল্লেখ্য ২০১৯-২০ মরসুমে সৌরাষ্ট্রের রঞ্জি জয়ের পিছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল অভির।

সে দিন বাংলার বিরুদ্ধে ফাইনালে ওপেন করতে নেমে প্রথম ইনিংসে ৫৪ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৯ রান করেছিলেন তিনি। সৌরাষ্ট্রের পাশাপাশি এই ডানহাতি ব্যাটার হরিয়ানা এবং গুজরাটের হয়েও রঞ্জি খেলেছেন। পাশাপাশি অফ স্পিন বলটাও করতেন তিনি।

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তিনি মোট ৩৮টি ম্যাচে ১৫৪৭ রান করেছিলেন। ভারতের ঘরোয়া একদিনের ক্রিকেটে ৩৮টি ম্যাচে ১০৩০ রান করার পাশাপাশি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ২০টি ম্যাচে ৭১৭ রান রয়েছে তাঁর ঝুলিতে । গোয়ার বিরুদ্ধে সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফির ম্যাচে ৫৩ বলে ১২২ রানের এক অনবদ্য ইনিংস খেলে তিনি সকলের নজর কেড়ে নিয়েছিলেন। একটা সময় ভারতের অনূর্ধ্ব ১৯ দলের অধিনায়কও ছিলেন তিনি।

বন্ধ করুন