বাংলা নিউজ > ময়দান > আক্রমকে বাউন্সার দিয়ে শাস্ত্রীর নাভিশ্বাস ওঠানোর কঠোর নির্দেশ দিয়েছিলেন ইমরান খান
ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ রবি শাস্ত্রী (ছবি:রয়টার্স) (Action Images via Reuters)
ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ রবি শাস্ত্রী (ছবি:রয়টার্স) (Action Images via Reuters)

আক্রমকে বাউন্সার দিয়ে শাস্ত্রীর নাভিশ্বাস ওঠানোর কঠোর নির্দেশ দিয়েছিলেন ইমরান খান

  • বর্তমান ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ রবি শাস্ত্রী তার বই 'স্টারগেজিং, দা প্লেয়ার্স ইন মাই লাইফ' এ ১৯৮৭ সালে দুই দলের মধ্যে ঘটা এক অজানা ঘটনার কথা জানিয়েছেন।

শুভব্রত মুখার্জি: ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচ বিশ্ব ক্রিকেটের ইতিহাসে সবসময় চর্চিত লড়াই। বলা ভালো জনপ্রিয়তা বা টানটান উত্তেজনার দিক থেকে অ্যাসেজকেও পিছনে ফেলেছে এই সিরিজ। বর্তমানে দুই দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতির কারণে আর দ্বিপাক্ষিক সিরিজ অনুষ্ঠিত হয় না। আইসিসির টুর্নামেন্টে দুই দেশ একে অপরের মুখোমুখি হয়। তবে যতদিন এই সিরিজ চলেছে প্রতি সিরিজ ছিল ঘটনাবহুল তা বলাই বাহুল্য। বর্তমান ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ রবি শাস্ত্রী তার বই 'স্টারগেজিং, দা প্লেয়ার্স ইন মাই লাইফ' এ ১৯৮৭ সালে দুই দলের মধ্যে ঘটা এক অজানা ঘটনার কথা জানিয়েছেন।

শাস্ত্রী লেখেন, 'আমার দেখা অন্যতম সেরা অধিনায়ক তথা ক্রিকেটার ইমরান খান। কেন আমি এটা বলছি এর পক্ষে আলাদা করে কোনও প্রমাণ দেওয়ার কোন প্রয়োজন নেই। ওর রেকর্ড ওর পক্ষে কথা বলবে। যারা ওর সাথে বা বিপক্ষে খেলেছে তারা সবাই ওর ক্রিকেটীয় দক্ষতা সম্বন্ধে ওয়াকিবহাল।' উল্লেখ্য দেশের হয়ে ৮৮ টি টেস্ট খেলেছেন ইমরান খান। ১২৬ ইনিংসে ৩৭.৬৯ গড়ে ৩৮০৭ রান করেছেন। তাঁর রয়েছে ৬ টি শতরান ও ১৮টি অর্ধশতরান। তার সর্বোচ্চ স্কোর ১৩৬। তিনি নিয়েছেন ৩৬২ টি উইকেট। প্রথম পাকিস্তানি এবং বিশ্বের চতুর্থ বোলার হিসেবে এত গুলো উইকেট নেওয়ার নজির সেই সময় গড়েছিলেন তিনি। শাস্ত্রী জানান ১৯৭৮ সালে তিনি প্রথমবার ইমরানের খেলা‌ দেখেন টিভিতে।

শাস্ত্রী আরও লেখেন 'বোলার হিসেবে ইমরানের সবথেকে বড় অস্ত্র ছিল ওর সুইং বা রিভার্স সুইংয়ের উপর দখল। ওর লেট ইনসুইং যাকে আমরা 'ইনডিপার' বলি তা ব্যাটসম্যানের জীবন নরক করে তুলেছিল। ১৯৮৭ সালে যখন আমি ভারতীয় অনুর্ধ্ব দলকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নেতৃত্ব দিচ্ছিলাম তখন একদিন ইমরান স্টেডিয়ামে দেরি করে পৌঁছায়। জানায় ট্রাফিকের কারণে তার আসতে দেরি হয়েছে। আমি তা মেনে নিই। তবে ইমরান সঙ্গে সঙ্গে বল করতে চাইলে আমি আপত্তি জানাই। আম্পায়ারদের আমি সেই সময় বলি রুলবুক মেনে সিদ্ধান্ত নিতে। এই ঘটনার পরেই ইমরান ,ওয়াসিম সহ সমস্ত বোলারদের নির্দেশ দেয় বাউন্সার দিয়ে আমার নাভিশ্বাস তুলে দিয়ে আমার ভিতরের শয়তানটাকে বাইরে বের করে দিতে। পরবর্তীতে আমরা শারজাতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলছিলাম। ২৪০ রান তাড়া করতে গিয়ে একটা সময় আমাদের স্কোর ছিল বিনা উইকেটে ১০০। সেই সময় আমি পেটে ক্র্যাম্প অনুভব করি। রানারের জন্য অনুরোধ জানাই। ইমরান তা দিতে অস্বীকার করে দেন। তার কিছুক্ষণ পরেই আমি আউট হয়ে যাই। জেতার জায়গা থেকে ম্যাচটা হেরে যাই আমরা। ইমরান কখনও ভোলেনি আমি ওর সাথে কি করেছিলাম। যা ও খেলার মধ্যে দিয়েই আমাকে মাঠে ফিরিয়ে দিয়েছিল। তবে এইসব ঘটনার প্রভাব কোন দিন মাঠের বাইরের সম্পর্কে পড়েনি।'

বন্ধ করুন