বাংলা নিউজ > ময়দান > IND vs SA: IPL-এ উপেক্ষিত প্রোটিয়াদের বিস্ফোরণ,সফল ভারতীয়রা খাচ্ছেন নাকানিচোবানি
হার্ষাল প্যাটেল।

IND vs SA: IPL-এ উপেক্ষিত প্রোটিয়াদের বিস্ফোরণ,সফল ভারতীয়রা খাচ্ছেন নাকানিচোবানি

  • আশ্চর্যের বিষয় হল, যদিও ভারত টি-টোয়েন্টিতে শীর্ষ দল, তবে বোলিং এবং অলরাউন্ডারদের তালিকায় কোনও প্লেয়ারই প্রথম দশে নেই। এটি নির্বাচক এবং টিম ম্যানেজমেন্টের চিন্তা করার মতো বিষয়। ব্যাটিং তালিকায় দশে থাকা কেএল রাহুল একমাত্র প্লেয়ার। স্বাভাবিক ভাবেই ভারতীয় প্লেয়ারদের দুর্দশা পরিষ্কার।

আইপিএলে দুরন্ত পারফরম্যান্স। অথচ জাতীয় দলের হয়ে সেই প্লেয়াররা সেরাটা দিতে পারছেন না। তা নিয়ে চলছে নানা বিতর্ক। তবে কি শুধুই টাকার জন্যই আইপিএলে মন প্লেয়ারদের?

দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য যে সমস্ত প্লেয়ারকে দলে নেওয়া হয়েছে, তারা প্রায় প্রত্যেকেই আইপিএলে ভালো খেলেছেন। কেএল রাহুল (৬১৬), যিনি জোস বাটলারের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারীর তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন। তিনি চোটের জন্য সিরিজ শুরুর আগের দিনই ছিটকে গিয়েছেন। এ ছাড়া ব্যাটার বা ব্যাটার অলরাউন্ডার যেমন- হার্দিক পাণ্ডিয়া (৪৮৭), দীপক হুডা (৪৫১), ইশান কিষাণ (৪১৮), শ্রেয়স আইয়ার (৪০১), রুতুরাজ গায়কোয়াড় (৩৬১), ঋষভ পন্ত (৩৪০), দীনেশ কার্তিকদের (৩৩০) বেছে নেওয়া হয়।

২৭টি উইকেট নিয়ে সর্বোচ্চ উইকেটসংগ্রহকারী হয়েছিলেন যুজবেন্দ্র চাহাল। এ ছাড়া উমরান মালিক (২২), কুলদীপ যাদব (২১), হর্ষিত প্যাটেল (১৯), আবেশ খান (১৮), রবি বিষ্ণোই (১৩), ভুবনেশ্বর কুমার (১২), আর্শদীপ সিং (১০), হার্দিক পান্ডিয়া (৮) সফল বোলারদের মধ্যে ছিলেন।

আরও পড়ুন: আবেশ, অক্ষরকে বাদ দিয়ে অন্য দুই তরুণকে সুযোগের পরামর্শ প্রাক্তন ব্যাটিং কোচের

যাইহোক আইসিসি টি-টোয়েন্টি র‌্যাঙ্কিংয়ে এক নম্বরে থাকা ভারতীয় দল চতুর্থ স্থানে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে রীতিমতো কোণঠাঁসা হয়ে পড়েছে। পাঁচ ম্যাচ সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে বিশ্রি ভাবে হেরে বসে রয়েছে ভারত। অথচ মাঠে নেমেছেন আইপিএলে দুরন্ত পারফরম্যান্স করা প্লেয়াররা।

রঞ্জি ট্রফির সেমিফাইনালে বাংলার স্কোরের আপডেট পেতে ক্লিক করুন এখানে:

বরং দক্ষিণ আফ্রিকার প্লেয়াররা সাফল্যের জন্য ক্ষুধার্ত বলে মনে হচ্ছে। বিশেষ করে সেই প্লেয়াররা, যাঁরা তাঁদের ফ্র্যাঞ্চাইজির জন্য মাঠে সীমিত সময় পেয়েছিলেন বা আইপিএল নিলামে বাদ পড়েছিলেন। রাসি ভ্যান ডার ডুসেন, যিনি রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে মাত্র তিনটি গেম খেলতে পেরেছিলেন, ফর্মে থাকা ডেভিড মিলারের সঙ্গে প্রথম খেলায় ভারতীয়দের চাপে ফেলে দেন। কটকে হেনরিখ ক্লাসেন, যাকে আহত কুইন্টন ডি'ককের বদলি হিসেবে আনা হয়েছিল। ক্লাসেন, যিনি এর আগে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর এবং রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে কয়েকটি গেম খেলে সাফল্য পাননি। ২০২২ মেগা নিলামে ফ্র্যাঞ্চাইজিদের দ্বারা উপেক্ষা করা হয়েছিল। তিনি অবিক্রিত ছিলেন। আর এক জন খেলোয়াড়, যিনি তাঁর যোগ্যতা প্রমাণ করছেন, তিনি হলেন অধিনায়ক তেম্বা বাভুমা।

বাভুমা দলকে খুব ভালো নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং মাঠে সমস্ত সঠিক চাল প্রয়োগ করে ভারতকে নাস্তানাবুদ করছে। বাভুমা এই মাসের শুরুতে একটি সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘আমি আইপিএলে খেলতে চাই। আমার পারফরম্যান্স যত শক্তিশালী হবে, সুযোগ তত বাড়বে। আমি একটি দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছি, এটা একটা বড় প্রাপ্তি। অভিজ্ঞতা বাড়বে। যাইহোক আমি এইগুলি কাজে লাগিয়ে আইপিএল খেলতে চাই।’

আর একটি আশ্চর্যের বিষয় হল, যদিও ভারত টি-টোয়েন্টিতে শীর্ষ দল, তবে বোলিং এবং অলরাউন্ডারদের তালিকায় কোনও প্লেয়ারই প্রথম দশে নেই। এটি নির্বাচক এবং টিম ম্যানেজমেন্টের চিন্তা করার মতো বিষয়। ব্যাটিংতালিকায় দশে থাকা কেএল রাহুল একমাত্র প্লেয়ার। স্বাভাবিক ভাবেই ভারতীয় প্লেয়ারদের দুর্দশা পরিষ্কার। আইপিএল খেলে তবে ভারতের কী লাভ হচ্ছে? উঠছে প্রশ্ন

দক্ষিণ আফ্রিকা চতুর্থ স্থানে থাকলেও, ব্যক্তিগত র‌্যাঙ্কিংয়ে তাদের প্লেয়াররা উপরের দিকে রয়েছে। ব্যাটিং তালিকায় দশের মধ্যে রয়েছেন এডেন মার্করাম (দুইয়ে) এবং ভ্যান ডার ডুসেন (আটে)। বোলিং বিভাগে তাবরেজ শামসি (একে) এবং এনরিখ নরকিয়া (সাতে) রয়েছেন। সে ক্ষেত্রে ভারতীয় দলের বেহাল দশাটা অনুমান করাই যায়। আইপিএলের ভালো খেললেও দেশের জার্সিতে অষ্টরম্ভা প্রায় সকলেই।

বন্ধ করুন