বাড়ি > ময়দান > India vs New Zealand: শেষ ওভারে তরী ডুবল নিউজিল্যান্ডের, সুপার ওভারে জয় ভারতের
ফের সুপার ওভারে ম্যাচ জয় ভারতের (ছবি সৌজন্য টুইটার @BCCI)
ফের সুপার ওভারে ম্যাচ জয় ভারতের (ছবি সৌজন্য টুইটার @BCCI)

India vs New Zealand: শেষ ওভারে তরী ডুবল নিউজিল্যান্ডের, সুপার ওভারে জয় ভারতের

চার মেরে সুপার ওভারে দলকে জেতালেন ক্য়াপ্টেন কোহলি।

যতদিন যাচ্ছে, তত সুপার ওভার আতঙ্ক চেপে বসছে নিউজিল্যান্ডের মাথায়। গত ম্যাচের ধাঁচে আজও কার্যত জেতা ম্যাচে হারের মুখ দেখল নিউজিল্যান্ড। ফলে সিরিজ হোয়াইটওয়াশের দিকে আরও একধাপ এগিয়ে গেল ভারত।

আজ টসে জিতে ভারতকে ব্যাট করতে পাঠান কিউয়ি অধিনায়ক টিম সাউদি। দলে কয়েকটি পরিবর্তন করল ভারত। রোহিত শর্মার বদলি হিসেবে সুযোগ পেয়ে পাঁচ বলের বেশি টিকতে পারেননি সঞ্জু স্যামসন। কিছুক্ষণ পর প্যাভিলিয়নে ফেরেন বিরাট কোহলিও। অন্যদিনের মতো এদিন আর ভারতকে চাপের মুখ থেকে বের করতে পারেননি শ্রেয়স আইয়ারও। এক রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন তিনি। অন্যদিকে অবশ্য নিজের ফর্ম বজায় রাখেন কেএল রাহুল।

শ্রেয়স আউট হওয়ার পর চাপের মুখে ব্যাটিং দক্ষতার পরীক্ষা নেওয়ার জন্য মণীশের আগে শিবম দুবেকে পাঠায় টিম ম্যানেজমেন্ট। রাহুলের সঙ্গে তাঁর ছোটোখাটো একটি পার্টনারশিপও হয়। কিন্তু দলগত ৭৫ রানের মাথায় আউট হন রাহুল। ২৬ বলে ৩৯ রান করেন তিনি। কিছুক্ষণ পর ড্রেসিংরুমের রাস্তা ধরেন শিবমও। ন'বলে ১২ রান করেন তিনি। একাধিক সুযোগ পাওয়ার পরও ব্যাটিংয়ে এখনও পর্যন্ত দলকে ভরসা দিতে পারছেন না ওই তরুণ। ফলে হার্দিক পান্ডিয়া ফিরলে শিবমের প্রথম একাদশের বাইরে যাওয়ার সম্ভাবনা উত্তরোত্তর বাড়ছে।

এরপর ভারতের ইনিংসের হাল ধরেন মণীশ। তাঁর সৌজন্যেই ১৫০ রানে গণ্ডি টপকায় ভারত। শেষের দিকে মণীশকে সহায়তা করেন শার্দুল ঠাকুর (২০) ও নভদীপ সাইনি (১১)। শেষপর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে আট উইকেট হারিয়ে ১৬৫ রান তোলে ভারত। ৩৬ বলে অপরাজিত ৫০ রান করেন মণীশ।

রান তাড়া করতে নেমে শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি কিউয়িদের। পঞ্চম ওভারেই জসপ্রীত বুমরার বলে আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন মার্টিন গাপ্টিল। এরপর ক্রিজে আসেন টিম সেফার্ট। দুজনে কিউয়ি ইনিংসের হাল ধরেন। তাংদের সৌজন্যে ক্রমশ ম্যাচ থেকে হারিয়ে যেতে থাকে ভারত। ইতিমধ্যে অর্ধশতরান পূরণ করেন মুনরো। একটা সময় নিউজিল্যান্ডের স্কোর ছিল ১১.৩ ওভারে এক উইকেটে ৯৬ রান। টি-টোয়েন্টির হিসেবে কার্যত হাতের মুঠোয়া থাকা রয়েছে ম্যাচ।

যদিও পরের বলেই রান আউট হন মুনরো। ৪৭ বলে ৬৪ রান করেন তিনি। তাতেই যেন কিছুটা নড়ে যায় কিউয়ি ইনিংস। তিন বল পরেই প্যাভিলিয়নে ফেরেন টম ব্রুস। তবে কিউয়িদের জন্য ভালো খবর ছিল যে ক্রিজে তখনও সেফার্ট রয়েছেন। রস টেলরের সঙ্গে তিনি নিউজিল্যান্ডকে প্রায় জয়ের দোরগোড়ায় নিয়ে যান। শেষ তিন ওভারে জেতার জন্য কিউয়িদের ১৮ রান বাকি ছিল। ১৮ তম ওভারে সাত রান দেন বুমরা। ১৯ তম ওভারে নভদীপের হাতে বল তুলে দেন বিরাট। চাপের মুখে দুর্দান্ত বল করেন নভদীপ। মাত্র তার দেন তিনি। তাঁরজন্যই কিছুটা হলেও পুঁজি পড়ে থাকে বিরাটদের কাছে।

শেষ ওভারে জেতার জন্য দরকার ছিল সাত রান। মহম্মদ শামি এদিন দলে ছিলেন না। তাঁর পরিবর্তে বল হাতে পান শার্দুল ঠাকুর। প্রথম বলেই ছয় মারার চেষ্টা করেন টেলর। মিড-উইকেটে শ্রেয়সের হাতে ধরা পড়েন তিনি। এত সিনিয়র হয়ে গিয়েছেন তিনি। গত ম্যাচে সুপার ওভারের তেতো স্বাদ পেয়েছেন। তারপরও গ্লোরি শট মারতে গিয়ে যেভাবে উইকেট ছুঁড়ে দিয়ে এলেন তিনি, তাতে দলের অন্দরে প্রশ্নের মুখে না পড়াটাই অস্বাভাবিক।

দ্বিতীয় বলে চার খেলেও তৃতীয় বলে রান আউট হন সেফার্ট। তখন জেতার জন্য কিউয়িদের দরকার ছিল তিন বলে তিন রান। ক্রিজে আসেন মিচেল স্যান্টনার। তিনি একরান নিয়ে অপর মিচেলকে স্ট্রাইক দেন। কিন্তু পঞ্চম বলে আউট হয়ে যান ড্যারেল। শেষ বলে কিউয়ের প্রয়োজন ছিল দু'রান। সুইপার কভারে বল ঠেলে দু'রান নিতে গিয়ে রান আউট হন স্যান্টনার।


ফলে আবারও সুপার ওভারে গড়ায় ম্যাচ। সেখানে ১৪ রানের টার্গেট দেয় নিউজিল্যান্ড। এক বল বাকি থাকতেই সেই রান তুলে নেয় ভারত। ফলে সিরিজ হোয়াইটওয়াশের দিকে আরও একধাপ এগিয়ে গেল ভারত।

ভারত।


বন্ধ করুন