বাংলা নিউজ > ময়দান > আইপিএল ২০২০ > IPL 2020: ফেল্পস, সিন্ধুর পথে হেঁটে কাপিং শামির - সেটা কী, কেন করা হয়? জানুন সবিস্তারে
ফেল্পসের পিঠে 'কাপিং'-এর নিদর্শন, 'কাপিং' থেরাপি শামির (ছবি সৌজন্য রয়টার্স ও টুইটার)
ফেল্পসের পিঠে 'কাপিং'-এর নিদর্শন, 'কাপিং' থেরাপি শামির (ছবি সৌজন্য রয়টার্স ও টুইটার)

IPL 2020: ফেল্পস, সিন্ধুর পথে হেঁটে কাপিং শামির - সেটা কী, কেন করা হয়? জানুন সবিস্তারে

  • মহম্মদ শামির পিঠের সেই অবস্থা দেখে স্বভাবতই শিউরে উঠেছিলেন নেটিজেনরা। অনেকেই উদ্বিগ্ন হযে পড়েছিলেন।

সারা পিঠে গোল গোল হয়ে ফুলে রয়েছে। দেখলে মনে হবে, কোনও রোগে ভুগছেন। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে ম্যাচের পর মহম্মদ শামির পিঠের সেই অবস্থা দেখে স্বভাবতই শিউরে উঠেছিলেন নেটিজেনরা। অনেকেই উদ্বিগ্ন হযে পড়েছিলেন। তাঁদের একটাই প্রশ্ন - কী হয়েছে শামির?

তবে সেই দৃশ্য খেলোয়াড় মহলে নতুন কিছু নয়। বরং ইতিমধ্যে মাইকেল ফেল্পস, পি ভি সিন্ধুর (একটি সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন তাঁর ট্রেনার) মতো অনেকেই সেই 'কাপিং' পদ্ধতির সাহায্য নিয়েছেন। ২০১৬ সালে রিও অলিম্পিকেই যেমন ফেল্পসের পিঠে গোল গোল ছোপ দেখে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন পড়ে গিয়েছিল। অনেকে ভেবেছিলেন, কোনও কিছুর উপর শুয়েছিলেন ফেল্পস। তাই দাগ পড়ে গিয়েছে। অনেকে আবার ভেবেছিলেন, পিঠে ট্যাটু করিয়েছেন অলিম্পিকের সফলতম খেলোয়াড়। পরে অবশ্য সেই রহস্য ফাঁস হয়েছিল। জানা গিয়েছিল, 'কাপিং' করিয়েছেন তিনি।

'কাপিং' কী?

দীর্ঘদিন ধরে এই চিনা কাপিং পদ্ধতি চলে আসছে। 'মাসল রিকভারি থেরাপি'-র অঙ্গ হিসেবে কাপিং করেন অনেকে ক্রীড়াবিদ। এক্ষেত্রে কাপের মতো কোনও জিনিস গরম করে পিঠের উপর চেপে রাখা হয়। নির্দিষ্ট সময় পর সেটি তোলা হয়। সেই প্রক্রিয়ার ফলে পেশি ফুলে ওঠে। তাই পিঠের যেখানে যেখানে কাপিং করা হয়, সেখানে গোল গোল হয়ে ফুলে যায়।তা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য ঠান্ডা জলে শরীর ডুবিয়ে রাখতে হয়। অথবা আইসবাথ নিতে হয়। তবে ফোলা কমে গেলেও পিঠে ছোপ ছোপ দাগ থেকে যায় কয়েকদিন।

২০১৬ সালে রিও অলিম্পিকের পুলে ফেল্পস, পিঠে ২০১৬ কাঁধে-পিঠে 'কাপিং'-এর নিদর্শন (ফাইল ছবি, সৌজন্য রয়টার্স)
২০১৬ সালে রিও অলিম্পিকের পুলে ফেল্পস, পিঠে ২০১৬ কাঁধে-পিঠে 'কাপিং'-এর নিদর্শন (ফাইল ছবি, সৌজন্য রয়টার্স)

'কাপিং'-এর কী সুবিধা?

অনেকের বক্তব্য, লাগাতার খেলতে খেলতে শরীরের উপর চাপের মাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পায়। শরীরে ক্লান্তি আসে। ক্লান্ত হয়ে পড়ে পেশি। তার প্রভাব পড়ে পারফরম্যান্সে। সেই ক্লান্তি দূর করার জন্য 'কাপিং' করা হয়। তার মাধ্যমে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক করা হয়। পেশি আবারও সবল হয়ে ওঠে।

এছাড়াও পিঠ ও ঘাড়ের ব্যথা, ত্বকের বিভিন্ন রোগ, মাইগ্রেন, আর্থারাইটিসের ক্ষেত্রে অনেকে 'কাপিং' করে থাকেন। অনেকে আবার মুখেও 'কাপিং' করেন। একাংশের দাবি, 'কাপিং'-এর ফলে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে যায়, দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

'কাপিং' কি আদৌও সুরক্ষিত?

অনেকে 'কাপিং' করলেও তা খুব একটা প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতি নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক ক্ষেত্রেই 'কাপিং'-এর ফলে পেশির ক্লান্তি দূর হয়েছে। কমেছে পিঠের ব্যথা। কিন্তু সেই পদ্ধতি নিয়ে খুব একটা বেশি গবেষণা হয়নি। ফলে তথ্যও অমিল। 'কাপিং' করলে সাধারণত কোনও বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যায় না বলে মত বিশেষজ্ঞদের। তবে তবে কিছু ক্ষেত্রে গুরুতর সমস্যার খবর মিলেছে। বিশেষত ত্বকে 'কাপিং'-এর ক্ষেত্রে সেই সমস্যা হয়েছে। 

তাই উপযুক্ত গবেষণা লব্ধ ফলাফল ছাড়া অনেকেই 'কাপিং' থেরাপির পথে হাঁটেন না। তবে ফেল্পস, সিন্ধু ও শামিরা অবশ্য 'কাপিং'-এর শরণাপন্ন হয়েছেন।

বন্ধ করুন