বাংলা নিউজ > ময়দান > আইপিএল ২০২০ > IPL 2020: কোয়ালিফাইংয়ের পর গা-ছাড়া ভাব রোখার পন্থা বের করেছে ব্লাস্ট,সেই পথে কি যাবে IPL?
এবার গ্রুপ লিগের শেষ রাউন্ডের চারটি ম্যাচ তিনদিনে হয়েছে। (ফাইল ছবি, সৌজন্য আইপিএল)
এবার গ্রুপ লিগের শেষ রাউন্ডের চারটি ম্যাচ তিনদিনে হয়েছে। (ফাইল ছবি, সৌজন্য আইপিএল)

IPL 2020: কোয়ালিফাইংয়ের পর গা-ছাড়া ভাব রোখার পন্থা বের করেছে ব্লাস্ট,সেই পথে কি যাবে IPL?

দিল্লির বিরুদ্ধে হাত বেরিয়ে গিয়েছে ভেবে কেকেআরের থেকে নেট রানরেট ভালো রাখার চেষ্টায় ছিল ব্যাঙ্গালোর। একসঙ্গে সব ম্যাচ পেলে সেই সুযোগটা পেতেন না বিরাটরা।

ফিক্সিং এড়াতে ফুটবলে তাই হয়। ক্রিকেটে এখনও সেভাবে চালু হয়নি। জনপ্রিয় লিগগুলির মধ্যে ইংল্যান্ডের ভাইটালিটি টি-টোযেন্টি ব্লাস্টে গ্রুপ লিগের প্রতিটি দলের শেষ ম্যাচ একইসঙ্গে হচ্ছে। এবার আইপিএলেও সেই ফর্ম্যাট শুরুর দাবি উঠেছে।

বিশেষত এবারের আইপিএলের গ্রুপ পর্যায়ের ১৩ তম রাউন্ড পর্যন্ত প্লে-অফের ছাড়পত্র পেয়েছিল একমাত্র মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। ১৪ তম রাউন্ডের চার ম্যাচের উপর নির্ভর করছিল, কোন তিন দল মুম্বইয়ের সঙ্গী হবে। একাধিক দল ১৪ পয়েন্টে শেষ করার সম্ভাবনাও ছিল। স্বভাবতই সেখানে নেট রানরেটের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। গুরুত্বপূর্ণ হয়েছিল হিসেবনিকেশ। কিন্তু তিনদিনে চারটি ম্যাচ হওয়ায় সব দলই মোটামুটি হিসাবটা আগে থেকেই জানত। ফলে আগেভাগেই কোনও নির্দিষ্ট পরিকল্পনা করে খেলতে পারছে দলগুলি।

এবারই যেমন রবিবার রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে ৬০ রানে জয় পেয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। নেট রানরেটের নিরিখে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর এবং দিল্লি ক্যাপিটালসের থেকে পিছিয়ে ছিল কেকেআর। তবে তিন দলের পয়েন্ট সমান ছিল। ফলে আগেভাগেই স্পষ্ট ছিল, দিল্লি এবং ব্যাঙ্গালোর ম্যাচে যে দল জিতবে, তারা দ্বিতীয় হয়ে প্লে-অফে যাবে। হারের ব্যবধান কম হলে পরাজিত দলেরও প্লে-অফের ছাড়পত্রে মিলবে। আর কত রানে বা কত বল বাকি থাকতে হারা যাবে না, তা ম্যাচের প্রথম ইনিংস শেষেই বোঝা যাবে।

সেভাবেই সোমবার প্রথমে ব্যাঙ্গালোর ১৫২ রান তোলার পরই স্পষ্ট ছিল, কেকেআরের থেকে নেট রানরেট ভালো রাখার জন্য বিরাট কোহলি বা শ্রেয়স আইয়ারদের কী করতে হবে। প্রথম ছ'ওভারে দিল্লি ভালো শুরু করার পর সেখানেই কার্যত জয়ের আশা ছেড়ে দিয়েছিল ব্যাঙ্গালোর। বরং তাদের লক্ষ্য ছিল, খেলার গতি কমিয়ে দিয়ে কেকেআরের থেকে নেট রানরেট ভালো রাখা। দিল্লির কাছেও সেই অঙ্কের হিসাবটা স্পষ্ট ছিল। একইভাবে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে রীতিমতো গা-ছাড়া ভাব ছিল মু্ম্বইয়ের (তবে তারা শেষ ম্যাচের আগেই প্লে-অফে জায়গা নিশ্চিত করেছিল)। সেটা কার্যত স্বীকারও করে নিয়েছেন মুম্বইয়ের বোলিং কোচ শেন বন্ড। যা সব দলের পক্ষেই ভালো হত। কিন্তু সব ম্যাচ একসঙ্গে শুরু হলে সেই উদ্যম কমিয়ে দেওয়ার সুযোগটাই পেতেন না কোহলিরা। প্রতিদ্বন্দ্বিতার আগুন, শেষপর্যন্ত নাছোড়বান্দা মনোভাবের দেখা মিলত।

সেই যুক্তির স্বপক্ষে সর্বশ্রেষ্ঠ উদাহরণ সম্ভবত একটাই - ২০১১-১২ সালের ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ (ইপিএল)। ১৩ মে গ্রুপ লিগের শেষ রাউন্ডের ম্যাচে একই সময় মাঠে নেমেছিল ম্যাঞ্চেস্টার সিটি এবং ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড। দু'দলের একই পয়েন্ট ছিল। তবে গোলপার্থক্যে ঢের এগিয়েছিল সিটি। অ্যাডভান্টেজ নিয়ে খেলতে নামলেও একটা সময় পিছিয়ে ছিল সিটি। ম্যান ইউ জিতে যাওয়ার পরও সিটির স্কোরলাইন ছিল ২-২। কার্যত লিগ জয় উদযাপন শুরু করে দিয়েছিলেন ইউনাউটেডের খেলোয়াড়রা। কিন্তু ৯৩ মিনিট ১৮ সেকেন্ডে আগুয়েরোর গোলে সেবার ট্রফি জিতেছিল সিটি। যা ইউরোপীয় ফুটবলের কার্যত ভোল পালটে দিয়েছিল।

অনেকের অবশ্য বক্তব্য, একসঙ্গে চারটি ম্যাচ করা অসম্ভব। কিন্তু কাজটা যে অসম্ভব নয়, তা আগেই দেখিয়েছে ভাইটালিটি টি-টোযেন্টি ব্লাস্ট। এবার ইংল্যান্ডের সেই টি-টোয়েন্টি লিগে ২০ সেপ্টেম্বর গ্রুপ লিগের শেষ রাউন্ডের ম্যাচ ছিল। সেদিন একসঙ্গে ন'টি ম্যাচ শুরু হয়েছিল। এক্ষেত্রে আইপিএলের ম্যাচ সংখ্যা চার হবে। আর আইপিএলের বর্তমান সম্প্রচারকারী সংস্থার একাধিক চ্যানেলও আছে। ফলে সুযোগ আছে। কিন্তু আইপিএলও সেই পথে হাঁটবে কিনা, সেটাই লাখ টাকার প্রশ্ন।

বন্ধ করুন