বাংলা নিউজ > ময়দান > আইপিএল-2021 > IPL 2021: বক্স অফিসে হিট, তবুও সামাজিক সচেতনতায় এখনও অনেকটাই পিছিয়ে IPL
আইপিএল ট্রফি। ছবি- টুইটার
আইপিএল ট্রফি। ছবি- টুইটার

IPL 2021: বক্স অফিসে হিট, তবুও সামাজিক সচেতনতায় এখনও অনেকটাই পিছিয়ে IPL

  • সমাজের প্রতি, দেশের প্রতি তাহলে কোনও দায়বদ্ধতা নেই বিশ্বক্রিকেটের ‘সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপনের’? সমাজ সচেতনতার দিক থেকে কোথায় দাঁড়িয়ে আইপিএল?

এপ্রিল-মে'র প্রচন্ড দাবদাহে ভারতীয় ক্রিকেটের সমর্থকদের মনে উৎসাহের সঞ্চার হয় আইপিএলের আগমনীতে। করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও এবার রমরমা বাজার আইপিএলের। জনপ্রিয়তার বিচারে বিশ্বের যে কোনও লিগের সঙ্গে সেয়ানে সেয়ানে টক্কর দিতে পারবে এই লিগ। তবে করোনা বিধ্বস্ত দেশে এই সময়ে লিগ আয়োজনের প্রাসঙ্গিকতাকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন থেকেই যায়। সমাজের প্রতি, দেশের প্রতি কী তাহলে কোন দায়বদ্ধতা নেই বিশ্বক্রিকেটের ‘সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপনের’? সমাজ সচেতনতার দিক থেকে কোথায় দাঁড়িয়ে আইপিএল? এই টুর্নামেন্ট বন্ধ করে দিলে বা জনাকয়েক বড় ক্রিকেটার সচেতনামূলক বার্তা দিলেই কি বন্ধ হয়ে যাবে সংক্রমণ?

একেবারেই না। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় গত বছর যখন বর্ণবিদ্বষ ও তাঁর সাথে জড়িত সমস্যায় গোটাবিশ্ব তোলপাড়, তখনই ইংল্যান্ডের প্রিমিয়র লিগ, আমেরিকার এনবিএ থেকে শুরু সমস্ত বড় বড় লিগই সমাজসচেতনা বৃদ্ধি করতে এগিয়ে আসে। ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ মন্ত্রকে সামনে রেখেই প্রতি ম্যাচের আগে হাঁটু মুড়ে বসতে দেখা যায় খেলোয়াড়দের। প্রিমিয়র লিগ দলের জার্সি থেকে তাঁদের লোগো বা মাঠে বিশাল বিশাল পোস্টার সবেতেই বর্ণবিদ্বেষের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠার বার্তা ফুটে ওঠে। বাদ যায়নি ক্রিকেটও। করোনা আবহে সীমিত সময়ের স্তব্ধতার পর প্রথম মাঠে নামেন ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল। ম্যাচের পূর্বে প্রখ্যাত ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার ইয়ান বিশপের অশ্রু ও প্রবল আবেগঘন অভিভাষণ কাঁপিয়ে দেয় গোটা বিশ্বকে। 

তবে প্রশ্ন ওঠে, এর ফলে কি শেষ হয়ে গিয়েছে বর্ণবিদ্বেষ? সহজ উত্তর, না। এখনও ইউরোপা লিগের ম্যাচে গ্লেন কামারাকে দেখা যায় বিপক্ষ ফুটবলারের বিরুদ্ধে বর্ণবিদ্বেষমূলক কথা বলায় ক্ষোভে ফেটে পড়তে। খারাপ পারফরম্যান্সের পর লিভারপুলের তরুণ ফুটবলার ট্রেন্ট আলেকজান্ডার আর্নল্ডকে সোশ্যাল মিডিয়ায় সহ্য করতে হয় বর্ণবিদ্বষমূলক টিপ্পনি। নিউজিল্যান্ডের মাঠে বাউন্ডারিতে দাঁড়ানো জোফ্রা আর্চারের দিকে ধেয়ে আসে তাঁর চামড়ার রং উদ্দেশ্য করে মন্তব্য। তাহলে কি লাভের লাভ তো নেই কিছুই প্রতিবাদ করার। আছে বৈকি। বিশপের কথা ধরেই বলা যায় বর্ণবিদ্বেষ বহুদিন ধরে চলে আসা সমাজের এমন এক রোগ যার শিকড় লুকিয়ে আছে অনেক গভীরে। যাকে একদিন, সপ্তাহ বা বছরে উপড়ে ফেলা অসম্ভব। এই রোগের আসল দাওয়াই হল শিক্ষা- পুঁথিগত এবং জীবন ও সমাজ সম্পর্কে শিক্ষা।

ঠিক একইভাবে বিরাট কোহলি বা মহেন্দ্র সিং ধোনি বা রোহিত শর্মারা কালকে এসে দাঁড়ালেই ভারতে করোনা সমস্যার সমাধান হবে না বা লোক সচেতন হয়ে যাবেন না। সেই সচেতনতা আসার প্রয়োজন নিজের থেকে। তাদের সর্বসমক্ষে মৌনতাও এটা কোনওভাবেই প্রমাণ করবে না যে তাঁরা এ বিষয়ে চিন্তিত নন। তবে তারকাদের বার্তায় একটু হলেও টনক নড়লেও নড়তে পারে জনাকয়েক ব্যক্তির। তাঁদের প্রাপ্ত পারিশ্রমিক বা আইপিএলের লভ্যাংশের সামান্য অংশও যে করোনা পরিস্থিতিতে ধুঁকতে থাকা দেশের সামান্য হলেও কিছু সমস্যার সমাধান করবে সে বিষয়ে দ্বিমত নেই। সেইটুকুতেই বা ক্ষতি কি। আর রইল পড়ে আইপিএল বন্ধ করার যুক্তি, সেই উদ্দেশ্য রাজস্থান রয়্যালসের ক্রিস মরিসের উক্তি ধরেই বলা যায়, এই মুশকিল পরিস্থিতিতে ক্রিকেটারদের খেলা যদি একটু হলেও দর্শকদের মনে আনন্দ দেয়, তাঁদের মুখে হাসি ফোঁটাতে পারে তাতেই এই টুর্নামেন্ট বা ক্রিকেটারদের সফলতা। এর পাশপাশি হাজারো মানুষের রুজি-রুটি জড়িয়ে এই টুর্নামেন্টের সাথে। আইপিএল বন্ধ হয়ে গেলে তাঁদের অন্নসংস্থানও যে মুশকিল হয়ে যাবে, তা বলার অবকাশ রাখে না।

বন্ধ করুন