বাংলা নিউজ > ময়দান > আইপিএল-2022 > IPL 2022: অল অর নাথিং! PBKS-র অতিআগ্রাসী ক্রিকেটের আদৌ কি কোনও লাভ আছে?
পঞ্জাব কিংস অধিনায়ক মায়াঙ্ক আগরওয়াল। ছবি- পিটিআই। (PTI)
পঞ্জাব কিংস অধিনায়ক মায়াঙ্ক আগরওয়াল। ছবি- পিটিআই। (PTI)

IPL 2022: অল অর নাথিং! PBKS-র অতিআগ্রাসী ক্রিকেটের আদৌ কি কোনও লাভ আছে?

  • এই মরশুমে আপাতত চারটি জয় ও সমসংখ্যক পরাজয়ের ফলে লিগ তালিকায় ছয় নম্বরে রয়েছে পঞ্জাব কিংস।

আজ থেকে বিশ বছর আগেকার ক্রিকেট এবং এখানকার ক্রিকেটের মধ্যে আকাশ পাতাল পার্থক্য। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের উদ্ভাবনের সঙ্গে সঙ্গে বদলেছে খেলার গতি, ফিটনেস লেভেল, ফিল্ডিং, বড় শট মারার প্রবণতা, সবেতেই। বদল ঘটেছে টি-টোয়েন্টি খেলার ধরনেও। এক সময় যেখানে ৭-১৫ ওভারে দলগুলি ইনিংসের ভিত শক্ত করার কাজ করত, এখন সেখানে অনেক দলই শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আক্রমণের পথ বেছে নিয়েছে।

এই ধরনের ক্রিকেট অ্যাপ্রোচ সাম্প্রতিক সময়ের জাতীয় দলগুলির মধ্যে ইংল্যান্ডের ক্রিকেটে বিশেষভাবে লক্ষণীয়। শুধু টি-টোয়েন্টি নয়, ওয়ান ডেতেও কয়টি উইকেট আছে, কী পরিস্থিত, তার বেশি তোয়াক্কা না করে ইংল্যান্ড তারকারা বরাবরই আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে খেলে যায়। তার সুফলও মিলেছে, ইয়ন মর্গ্যানের নেতৃত্বাধীন দল জিতেছে ২০১৯ বিশ্বকাপ। হালে অনেক দলই সেই পরিকল্পনা নিয়েই সীমিত ওভারের ক্রিকেট খেলছে। এই একই রকমের পরিকল্পনা আইপিএলে পঞ্জাব কিংসের তরফেও দেখা যায়। দলে একগাদা হিটার থাকায়, পরিস্থিতি যেমনই হোক, পঞ্জাব কিন্তু একফোঁটাও নিজেদের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের মনোভাব থেকে সরে আসেনা। 

কিন্তু এতে লাভের লাভ কিছু আছে কী? এই ধরনের ক্রিকেটে ঝুঁকির পরিমানটা অনেকটাই বেশি। ঠিক যেমন কলকাতা নাইট রাইডার্স বা দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে ম্যাচে টের পেয়েছিল মায়াঙ্ক আগরওয়ালের নেতৃত্বাধীন দল। এই দুই ম্যাচে যথাক্রমে মাত্র ১৩৭ ও ১১৫ রানেই গুটিয়ে যায় তাদের ইনিংস। ফলে লজ্জাজনক পরাজয়ের সম্ভাবনা থাকেই। আবার যেদিন ব্যাটাররা সফলভাবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে পারবে, সেদিন দল এক ওভার বাকি থাকতেই ২০৬ রান সহজে তাড়া করে ফেলবে। ঠিক যেমনটা আরসিবির বিরুদ্ধে হয়েছিল। 

(আইপিএলের টাটকা খবর, সূচি, ফলাফল, পয়েন্ট টেবিল ও দুর্দান্ত সব ছবি দেখুন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়)

হালে এই চেন্নাই সুপার কিংসের বিরুদ্ধে ম্যাচটাই ধরা যাক না। পাওয়ার প্লেতে মাত্র ৩৭ রান তুলেছিল পঞ্জাব। শেষে লিয়াম লিভিংস্টোনের সাত বলে ১৯ রানের একটি ক্যামিও, দলের ১১ রানে জয়ে বড় ভূমিকা নেয়। ওই ঝোড়ো ১৯ রান না হলে, কে জানে হয়তো বা পঞ্জাব এই ম্যাচটা হেরেই যেত। তাই এই অতি আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে খেলায় কিন্তু লাভ-ক্ষতি দুইই আছে। পঞ্জাবের এ মরশুমে আট ম্যাচে চার জয়, চার হারের থেকে এই মতের স্বপক্ষে আর বড় প্রমাণ কীই বা হতে পারে। দিনের শেষে একটা কথা বলা যায়, ক্রিকেট বিশেষত টি-টোয়েন্টিটা বিনোদনের খেলা। পাঞ্জাবের এই মনোভাব নিয়ে খেলাটা কিন্তু বিনোদন করছে দর্শকদের। দিনের শেষে তো ট্রফি জয়ের পাশাপাশি সব দলই নিজেদের খেলায় দর্শকদের আনন্দ দিতে চায়। সেই অর্থে পঞ্জাব একেবারে সফল।

বন্ধ করুন