বাংলা নিউজ > ময়দান > ISL 2020-21: কাজে এল না অফসাইডের গোলও; রক্ষণে ফাঁক-লং বল রোগে প্রথম হার এটিকে মোহনবাগানের
কাজে এল না অফসাইডের গোলও; রক্ষণে ফাঁক-লং বল রোগে প্রথম হার এটিকে মোহনবাগানের{ (ছবি সৌজন্য আইএসএল)
কাজে এল না অফসাইডের গোলও; রক্ষণে ফাঁক-লং বল রোগে প্রথম হার এটিকে মোহনবাগানের{ (ছবি সৌজন্য আইএসএল)

ISL 2020-21: কাজে এল না অফসাইডের গোলও; রক্ষণে ফাঁক-লং বল রোগে প্রথম হার এটিকে মোহনবাগানের

  • জ্যাকিচাঁদ সিং, রিকি লাল্লামাওয়ামা এবং উইলিয়াম লালনুনফেলা দ্রুতগতিতে বারবার এসে ব্যতিব্যস্ত করে রাখলেন এটিকে মোহনবাগানের রক্ষণকে।

এতদিন জয়ের সৌজন্য ফাঁকফোকরে জোড়াতালি দেওয়া যাচ্ছিল। কিন্তু জামশেদপুরের এফসির বিরুদ্ধে হার বুঝিয়ে দিল, এটিকে মোহবাগানের মাঝমাঠ-রক্ষণ-আক্রমণ নিয়ে ড্রয়িংরুমে বসতে হবে আন্তোনিও হাবাস লোপেজকে। আপাতত অবশ্য ধন্যবাদ দিতে পারেন ভাগ্যকে। সেই সৌজন্যেই বেশি গোলের লজ্জা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হল না। উলটে পরিষ্কার অফসাইডে গোলের ব্যবধান কমিয়ে আনতে পারল তাঁর দল। 

সোমবার তিলক ময়দানে একেবারে আক্রমণাত্মক কৌশল নিয়ে দল সাজিয়েছিলেন ওয়েন কোয়েল। লক্ষ্যটা স্পষ্ট ছিল, অন্যতম শক্তিশালী জায়গা দিয়ে এটিকে মোহনবাগান বধ করবেন। সেই লক্ষ্যে একেবারে নিখুঁতভাবে এগোতে থাকে জামশেদপুর। তাতেই ধরা পড়ে গেল সবুজ-মেরনের রক্ষণের দুর্বলতা। ৩০ মিনিটে জোরালো হেডারে গোল করে গেলেন নেরিজাস ভালকিস। ৬৬ মিনিটে ডেড-বল সিচুয়েশনে দ্বিতীয় গোল করেন জামশেদপুরের নম্বর নয়। দ্বিতীয় গোলের সময় তো এটিকে মোহনবাগানের গোললাইনে একজনকেও খুঁজে পাওয়া গেল না। পরে ৮০ মিনিটে এক গোল শোধ করেন রয় কৃ্ষ্ণ। কিন্তু তা পরিষ্কার অফসাইড ছিল। তারপর কিছুটা সবুজ-মেরুনের খেলায় ঝাঁঝ এসেছিল। তবে তাতে লাভ হয়নি। প্রথমার্ধে তো কৃষ্ণদের রীতিমতো বোতলবন্দি করে রেখেছিল জামশেদপুর। 

অন্যদিকে, জ্যাকিচাঁদ সিং, রিকি লাল্লামাওয়ামা এবং উইলিয়াম লালনুনফেলা  দ্রুতগতিতে বারবার এসে ব্যতিব্যস্ত করে রাখলেন এটিকে মোহনবাগানের রক্ষণকে। নাজেহাল হয়ে গেলেন প্রীতম কোটালরা। দুই প্রান্ত ব্যবহার করে কীভাবে আক্রমণ উঠে আসতে হয়, তা তা বোঝানোর জন্য পরের অনুশীলন সেশনে নিজের দলকে জামশেদপুরের ভিডিয়ো দেখাতেই পারেন হাবাস। তাঁর দলের খেলোয়াড়রা অধিকাংশ সময় সেই সামনে রয় কৃষ্ণের নাম করে শূন্যে বল ভাসিয়ে গেলেন। মোহনবাগানে ওকোলি ওডাফার শেষ জমানায় কার্যত সেই হাল ছিল। যা বল আসত, সেগুলি কোনওক্রম ওডাফাকে ভাসিয়ে দেওয়াই ছিল লক্ষ্য। সোমবারও সবুজ-মেরুন ব্রিগেডেপ মাটিতে বল রেখে খেলার যেন কোনও উদ্দেশ্যেই কার্যত ছিল না। দেখা পাওয়া গেল না হাবাসেব 'প্ল্যান বি'-রও। 

সেই পরিকল্পনার অভাব, উঁচুতে বল ভাসিয়ে দেওয়া রোগ এবং রক্ষণের দুর্বলতায় এবারের আইসিএলে প্রথম হারের মুখ দেখল এটিকে মোহনবাগান। একইসঙ্গে চার ম্যাচে ন'পয়েন্ট গোল পার্থক্যে লিগ টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে নেমে গেল হাবাস ব্রিগেড। মরশুমের প্রথম জয় তুলে সপ্তম স্থানে উঠে এল জামশেদপুর। আর হাবাসকে বার্তা দিয়ে গেল, ‘ওহে! এখনও অনেক কাজ বাকি আছে।’

বন্ধ করুন