বাংলা নিউজ > ময়দান > জীবনের আপডেট- তিন পাতার আবেগপূর্ণ নোট লিখে অবসরের কথা জানালেন সানিয়া মির্জা

জীবনের আপডেট- তিন পাতার আবেগপূর্ণ নোট লিখে অবসরের কথা জানালেন সানিয়া মির্জা

অবসরের কথা জানালেন সানিয়া মির্জা (ছবি-টুইটার)

সানিয়া ইতিমধ্যেই তাঁর অবসর নিয়ে WTA Tennis.com-এর সঙ্গে কথা বলেছেন। এখন টুইটারে আনুষ্ঠানিক ঘোষণাও করে দিলেন সানিয়া মির্জা। তিনি টুইটারে তিন পাতার একটি নোট লিখেছেন যে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন এবং দুবাই ওপেন হবে তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ টুর্নামেন্ট।

ভারতের তারকা মহিলা টেনিস খেলোয়াড় সানিয়া মির্জা অবসরের ঘোষণা করে দিলেন। অস্ট্রেলিয়ান ওপেন খেলতে পৌঁছানো সানিয়া জানিয়েছেন, এই বছর অস্ট্রেলিয়ান ওপেন এবং ফেব্রুয়ারিতে দুবাই ওপেনের পর তিনি টেনিসকে বিদায় জানাবেন। তাঁর মানে এই দুটি টুর্নামেন্টই হবে সানিয়া মির্জার শেষ টুর্নামেন্ট। সানিয়া ইতিমধ্যেই তাঁর অবসর নিয়ে WTA Tennis.com-এর সঙ্গে কথা বলেছেন। এখন টুইটারে আনুষ্ঠানিক ঘোষণাও করে দিলেন সানিয়া মির্জা। তিনি টুইটারে তিন পাতার একটি নোট লিখেছেন যে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন এবং দুবাই ওপেন হবে তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ টুর্নামেন্ট।

৩৬ বছর বয়সী সানিয়া মির্জা বলেছিলেন যে ইনজুরির কারণে তার ২০২২ সালের অবসরের পরিকল্পনা বিলম্বিত হয়েছিল। ইনজুরির কারণে ইউএস ওপেন মিস করার পর সে সময় অবসর না নেওয়ার ঘোষণা করেছিলেন সানিয়া। তিন পাতার দীর্ঘ নোটে সানিয়া টেনিসে তার যাত্রা ও সংগ্রামের কথা বলেছেন।

আরও পড়ুন… অজি ক্রিকেট ব্যবস্থা কী বর্ণবিদ্বেষী? উসমান খোওয়াজার কথায় শুরু বিতর্ক

সানিয়া তাঁর নোটে লিখেছেন - ‘৩০ বছর আগে হায়দরাবাদের একটি ছয় বছরের মেয়ে তাঁর মায়ের সঙ্গে প্রথমবার নিজাম ক্লাবের টেনিস কোর্টে গিয়েছিল এবং কোচ কীভাবে টেনিস খেলতে হয় তা ব্যাখ্যা করেছিলেন। কোচ ভেবেছিলেন টেনিস শেখার জন্য আমি খুব ছোট। আমার স্বপ্নের জন্য লড়াই শুরু হয়েছিল ছয় বছর বয়সেই। আমার বাবা-মা এবং বোন, আমার পরিবার, আমার কোচ, ফিজিও সহ আমার পুরো টিম, যারা ভালো এবং খারাপ সময়ে আমার পাশে দাঁড়িয়েছিল তাদের সমর্থন ছাড়া এটি সম্ভব হত না। আমি তাদের প্রত্যেকের সঙ্গে আমার হাসি, কান্না, বেদনা এবং আনন্দ ভাগ করে নিয়েছি। আমি এর জন্য সকলকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আপনারা সকলে আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন পর্যায়ে আমাকে সাহায্য করেছেন। আপনারা হায়দরাবাদের এই ছোট্ট মেয়েটিকে শুধু স্বপ্ন দেখার সাহসই দেননি, তাঁকে সেই স্বপ্নগুলো পূরণ করতেও সাহায্য করেছেন। আপনাদের সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ।’

আরও পড়ুন… ভারতীয় দলের জার্সি গায়ে তোলেননি তবু প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে কপিল দেবের কৃতিত্ব ছুঁলেন জলজ সাক্সেনা

সানিয়া মির্জা আরও লিখেছেন, ‘যখন অনেক বিরোধিতা ছিল, তখন আমি বড় আশা নিয়ে গ্র্যান্ড স্লাম খেলা এবং খেলাধুলার সর্বোচ্চ স্তরে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্ন দেখেছিলাম। এখন যখন আমি আমার ক্যারিয়ারের দিকে ফিরে তাকাই, আমি অনুভব করি যে আমি শুধু গ্র্যান্ড স্ল্যাম টুর্নামেন্টে হাফ সেঞ্চুরিই করিনি, এর মধ্যে কয়েকটি জিততেও সক্ষম হয়েছি। দেশের হয়ে পদক জেতা আমার জন্য সবচেয়ে বড় সম্মান। মঞ্চে দাঁড়িয়ে তেরঙ্গাকে সারা বিশ্বে সম্মানিত হতে দেখা আমার জন্য সম্মানের। এটা লিখতে গিয়ে আমার চোখে জল ঝড়ছে।’

সানিয়া মির্জা লিখেছেন, ‘আমি নিজেকে অনেক ধন্য মনে করি যে আমি আমার স্বপ্নে বেঁচে আছি। এছাড়াও আমার লক্ষ্য অর্জন করতে পেরেছি। আমার পরিবার সবসময় আমার সঙ্গে আছে। আমি ২০ বছর ধরে একজন পেশাদার ক্রীড়াবিদ এবং ৩০ বছর ধরে একজন টেনিস খেলোয়াড়। এটাই আমি সারাজীবন জেনেছি। ২০০৫ সালে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে আমার গ্র্যান্ড স্লাম যাত্রা শুরু হয়। তাই এই গ্র্যান্ড স্ল্যাম আমার শেষ গ্র্যান্ড স্লাম হতে পারফেক্ট। যখন আমি ১৮ বছর পর আমার শেষ অস্ট্রেলিয়ান ওপেন এবং তারপর ফেব্রুয়ারিতে দুবাই ওপেনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি, তখন আমার হৃদয় আবেগে পূর্ণ। আমি গর্ববোধ করছি। আমি যা কিছু অর্জন করেছি এবং আমার ২০ বছরের পেশাগত জীবনে যে স্মৃতিগুলো তৈরি করেছি তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। আমার জন্য সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত হল আমি যখনই জিতেছি তখনই আমার দেশবাসীর হৃদয়ে আনন্দ দেখেছি।’

সানিয়া লিখেছেন, ‘জীবন চলতে হবে। আমি মনে করি না এটাই শেষ। এটি অন্য স্মৃতির শুরু। আমার ছেলের আমাকে অনেক প্রয়োজন এবং আমি তাঁকে একটি ভালো জীবন এবং আরও সময় দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে পারি না।’ ৩৬ বছর বয়সী এই মাসে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে কাজাখস্তানের আনা ড্যানিলিনার সঙ্গে মহিলা ডাবলসে খেলবেন যে কোনও গ্র্যান্ড স্লামে তাঁর শেষ উপস্থিতি হবে। কনুইয়ের চোটের কারণে গত বছর ইউএস ওপেন মিস করেন তিনি। অন্যান্য ফিটনেস সমস্যাও সাম্প্রতিক সময়ে তাঁকে বিরক্ত করেছে।

সানিয়া মির্জা ভারতীয় টেনিসের এমন একটি প্রজন্মের মধ্যে একজন উজ্জ্বল আলো যা ডাবলস সার্কিটের বাইরে খুব বেশি সাফল্য পায়নি। ছয়টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জেতার আগে এবং বিশ্বের এক নম্বর দ্বৈত খেলোয়াড় হওয়ার আগে, তার একটি অসাধারণ একক ক্যারিয়ার ছিল, বিশ্বের ২৭ নম্বর কেরিয়ারের সেরা র‌্যাঙ্কিংয়ে পৌঁছেছিলেন সানিয়া। তিনি ২০০৫ সালে ইউএস ওপেনের চতুর্থ রাউন্ডে পৌঁছেছিলেন।

এই খবরটি আপনি পড়তে পারেন HT App থেকেও। এবার HT App বাংলায়। HT App ডাউনলোড করার লিঙ্ক https://htipad.onelink.me/277p/p7me4aup

 

বন্ধ করুন