বাংলা নিউজ > ময়দান > ইরাকের আল জাবরার বিরুদ্ধে ‘চ্যাপের’ হ্যাটট্রিক মনে থাকবে লাল হলুদ সমর্থকদের
ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

ইরাকের আল জাবরার বিরুদ্ধে ‘চ্যাপের’ হ্যাটট্রিক মনে থাকবে লাল হলুদ সমর্থকদের

  • লাল হলুদে প্রথম মরসুমেই এশিয়ান কাপ উইনার্স কাপে ইরাকের ক্লাব আল জাবরার বিরুদ্ধে যে অসাধারণ হ্যাটট্রিক করেছিলেন তা ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের কাছে চিরস্মরনীয় হয়ে আছে আজও

ধীমান সরকার

ভারতীয় ফুটবলের অপূরণীয় ক্ষতি বললেও মনে হয় অত্যুক্তি হবে না। মাত্র ৪৯ বছর বয়সে যখন তাঁর প্রাক্তন সতীর্থরা ব্যস্ত ভবিষ্যতের তারকা তৈরিতে তখন তিনি ত্যাগ করলেন ইহলোক। কার্লটন চ্যাপম্যান ভারতীয় ফুটবলের কিংবদন্তী। মিডিফল্ডে বল ধরে খেলার ক্ষেত্রে যার জুড়ি মেলা ভার। ময়দানে লাল-হলুদ জার্সি পরেছেন একবার নয় দু দুবার। এই জার্সি গায়ে একাধিক মনে রাখার মূহুর্ত তিনি উপহার দিয়েছেন।

শুধু যে ইস্টবেঙ্গলের জার্সি গায়ে সাফল্য পেয়েছেন এমন নয়। আনচেরি,আইএম বিজয়ন এবং কার্লটন চ্যাপম্যান এই ত্রিফলা যখন জেসিটির জার্সি গায়ে খেলেছেন তখন বিপক্ষ ডিফেন্ডারদের জন্য ছিলেন মাথাব্যথার কারণ। চ্যাপম্যান জেসিটির হয়ে জিতেছেন ১৪টি ট্রফি। ভারতীয় জাতীয় দলের জার্সিতেও রয়েছে তাঁর একাধিক কৃতিত্ব। দীর্ঘদিন দেশকে নেতৃত্বও দিয়েছেন। কার্লটন চ্যাপম্যানের মাত্র ৪৯ বছর বয়সেই বেঙ্গালুরুতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে অকাল প্রয়ান ঘটেছে। তাঁর মৃত্যু সংবাদে শোকস্তব্ধ দেশের ফুটবল মহল।

লাল হলুদে প্রথম মরসুমেই এশিয়ান কাপ উইনার্স কাপে ইরাকের ক্লাব আল জাবরার বিরুদ্ধে যে অসাধারণ হ্যাটট্রিক করেছিলেন তা ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে আজও। ফুটবলে নিজের শেষ মরসুমে ইস্টবেঙ্গলকে জাতীয় লিগ এনে দিয়েছিলেন। ২০০১ সালে ইস্টবেঙ্গলকে ন্যাশনাল ফুটবল লিগ জেতানোর পরই অবসর নেন চ্যাপম্যান। ফুটবল সমর্থকরা তাকে ভালবেসে নাম দিয়েছিল 'চ্যাপ'।সেই চ্যাপ তাঁর ফুটবল জীবনের সেরা সময় কাটিয়েছেন জেসিটিতে। ১৯৯৫ সালে ইস্টবেঙ্গল থেকে চ্যাপম্যানকে সই করায় জেসিটি। জেসিটির সেই দল তখন গ্যালাকটিকো। একেবারে রিয়েল মাদ্রিদের ভারতীয় সংস্করণ। আইএম বিজয়ন, বাইচুং ভুটিয়ারা তখন তাঁদের ফর্মের মধ্যগগনে। খেলছেন জেসিটির জার্সিতে। চ্যাপম্যান মাত্র ৩টি মরসুম খেলেন জেসিটির হয়ে। জেতেন মোট ১৪টি ট্রফি। ১৯৯৭ সালে তৈরি হয়া এফসি কোচিনে একবছর খেলে ফের ১৯৯৮ তে ফিরে আসেন লাল হলুদ জার্সিতে।

দেশের জার্সি গায়েও খেলেছেন প্রায় ১ দশক। ১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত সেসময় নক্ষত্র খচিত ভারতীয় দলের সদস্য ছিলেন তিনি। রেনেডি সিং,ব্রুনো কুটিনহো,তুষার রক্ষিত,তাজিন্দর কুমার, বাইচুং ভুটিয়া,বিজয়ন,আনচেরি সমৃদ্ধ ভারত তখন এশীয় সার্কিটে দাপিয়ে খেলছে। বেশ কিছুদিন জাতীয় দলের অধিনায়কও ছিলেন চ্যাপম্যান। ১৯৯৭ সালে সাফ কাপজয়ী ভারতীয় দলের অধিনায়ক ছিলেন তিনি।সেবার মালদ্বীপকে ভারত ফাইনালে ৫-১ গোলে পরাস্ত করে। ভারতের হয়ে ৩৯ টি ম্যাচ খেলে চ্যাপম্যান করেছেন ৬টি গোল।

২০০১ সালে ফুটবলার হিসেবে অবসর নেন। অবসর নেওয়ার পর কোচিংকেই কেরিয়ার হিসেবে বেছে নেন তিনি। টাটা ফুটবল অ্যাকাডেমিতে কোচিং করাতেন তিনি। এছাড়াও ভারতের বেশ কিছু প্রখ্যাত ক্লাব রয়্যাল রেঞ্জার্স, রয়্যাল ওয়াহিংডো, ভবানীপুর, স্টুডেন্টস ইউনিয়ন, কোয়ার্টজ এফসির মতন ক্লাবকে কোচিং করিয়েছেন চ্যাপম্যান। এছাড়াও বাংলার হয়ে তিনবার সন্তোষ ট্রফি জিতেছেন তিনি। পিকে বন্দ্যোপাধ্যায় ,চুনী গোস্বামী,মনিতোম্বি সিং এর পরে করোনা কালে ভারত হারাল তার আরও এক কৃতী ফুটবলারকে।

বন্ধ করুন