বাংলা নিউজ > ময়দান > আইটিটিএফের নজরে মনিকা-সৌম্যদীপ কেস, নিষিদ্ধ হওয়ার পথে সুতীর্থা-মনিকারা!
টোকিও অলিম্পিক্সে মনিকা বাত্রা (ছবি:রয়টার্স)

আইটিটিএফের নজরে মনিকা-সৌম্যদীপ কেস, নিষিদ্ধ হওয়ার পথে সুতীর্থা-মনিকারা!

  • ভারতীয় টেবিল টেনিসের আকাশে এখন ঘন কালো মেঘের ছায়া বললেও মনে হয় কম বলা হয়। টোকিও অলিম্পিক্স চলাকালীন স্টার প্যাডলার মনিকা বাত্রা এবং সৌম্যদীপ রায়ের যে মনোমালিন্য ক্যামেরাতে ধরা পড়েছিল, যা পরবর্তীতে কোর্ট হয়ে তদন্ত কমিশন পর্যন্ত পৌঁছে ছিল তা এখন আন্তর্জাতিক টেবিল টেনিস ফেডারেশনের বিবেচনাধীন।

শুভব্রত মুখার্জি: ভারতীয় টেবিল টেনিসের আকাশে এখন ঘন কালো মেঘের ছায়া বললেও মনে হয় কম বলা হয়। টোকিও অলিম্পিক গেমস চলাকালীন স্টার প্যাডলার মনিকা বাত্রা এবং সৌম্যদীপ রায়ের যে মনোমালিন্য ক্যামেরাতে ধরা পড়েছিল যা পরবর্তীতে কোর্ট হয়ে তদন্ত কমিশন পর্যন্ত পৌঁছেছিল তা এখন আন্তর্জাতিক টেবিল টেনিস ফেডারেশনের (আইটিটিএফ) ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের কাছে বিবেচনাধীন। আর তাতেই শাস্তির বড়সড় খাঁড়া নেমে আসতে পারে মনিকা বাত্রা, সৌম্যদীপ রায়,সন্ময় পরাঞ্জপে এবং সুতীর্থা মুখার্জির উপরে।

উল্লেখ্য গেমস থেকে ফেরার পরে মনিকা বিস্ফোরক অভিযোগ ছিল কোচ সৌম্যদীপ তাকে চাপ দিয়ে একটি গেমসের কোয়ালিফায়ার ম্যাচ ছাড়তে বাধ্য করেছিলেন। ঘটনার পরে কোর্টের নির্দেশে অল ইন্ডিয়া টেবিল টেনিস ফেডারেশন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। আর তাদের তদন্তে কার্যত 'কেচো খুড়তে কেউটে' বেরিয়ে এসেছে। তদন্তের সমস্ত রিপোর্ট আইটিটিএফের তরফে চেয়ে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তাদের নিজেদের মধ্যে ইতিমধ্যেই একটি ভিডিয়ো কনফারেন্সের মাধ্যমে কথাবার্তাও হয়েছে। বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখছে তাদের ইন্টেগ্রিটি ইউনিট। বিশেষজ্ঞদের মতে যা তথ্যপ্রমাণ রয়েছে তাতে করে এই চারজনের নিজেদের বাঁচানো খুব কঠিন।

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম 'স্পোর্টসস্টারের' একটি রিপোর্ট থেকে জানা গেছে টিটিএফআইয়ের তরফে আইটিটিএফকে যে তথ্যপ্রমাণ তুলে দেওয়া হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে মনিকার ব্যক্তিগত কোচ সন্ময়ের ১৯ শে মার্চে সকাল ১১:১৪ তে করা একটি মেসেজ। যাতে লেখা হয় 'মনিকার জন্য আমার সম্মান দ্বিগুণ বেড়ে গেছে। জীবনে এতকিছু সহ্য করার পরেও সুতীর্থার জন্য যা করেছে তা অনবদ্য। ওর জায়গায় দাঁড়িয়ে ও সাহায্য করতেও পারত আবার নাও করতে পারত। ও সাহায্য করাটাকেই বেছে নেয়। এটা ওর শক্তি, অসম্ভব ভালো হৃদয়ের পরিচায়ক। সিংহহৃদয় এক নারী যার কাছে দেশ সবকিছু।'

স্পোর্টসস্টারের রিপোর্ট অনুযায়ী অপর যে তথ্যপ্রমান জমা পড়েছে তার মধ্যে অন্যতম দোহার সেই কোয়ালিফাইং ইভেন্টের আইটিটিএফ স্বীকৃত নীল ব্যাজ পরিহিত এক আম্পায়ারের জবানবন্দি। যেখানে তিনি লেখেন 'আমি ২০২১ সালের,১৮ ই মার্চ যা দেখেছি তার জবানবন্দি দিচ্ছি। আমি এটা নিশ্চিত করছি সুতীর্থা বনাম মনিকা ম্যাচের সকালে আমার পরাঞ্জপের সাথে কথা হয়। গেমসে দুই ভারতীয় কোয়ালিফাই করতে চলেছে এটা নিয়ে সকলে উচ্ছ্বসিত ছিল। একটা উপায়ে তা সম্ভব ছিল আর তা হল সুতীর্থা যদি মনিকাকে হারাত। কারণ ভালো বিশ্ব রাঙ্কিংয়ের সুবাদে মনিকার কোয়ালিফিকেশন নিশ্চিত ছিল। সেই সময় পরাঞ্জপে আসে, আমার সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করে। আমি জিজ্ঞাসা করি দুই ভারতীয় তাহলে টোকিও যাচ্ছে। সে হেসে উত্তর দেয় আপনি ঠিক অনুমান করেছেন। সেদিন বিকেলে সে ম্যাচ দেখতে আসে। আমি জিজ্ঞাসা করি কেন এসেছেন ম্যাচ দেখতে। হোটেলে বিশ্রাম নিলে ভালো হত। ম্যাচের ফলাফল তো জানা।সে পরবর্তীতে বিষয়টা হেসে উড়িয়ে দেয়।'

বিষয়টিকে আইটিটিএফের ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের প্রধান কেভিন কারপেন্টার গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। সমস্ত স্টেকহোল্ডারদের সাথে বিষয়টি নিয়ে কথা হয়েছে। যা জানা যাচ্ছে তাতে দোহার ঘটনার কারণে নিষিদ্ধ হওয়ার মুখে মনিকা বাত্রা, সুতীর্থা মুখার্জি এবং সন্ময় পরাঞ্জপে।

বন্ধ করুন