বাংলা নিউজ > ময়দান > Shivsagar Singh: মহিলা IPL-এ সুযোগ পেতে পারে বাংলার অনেক বোলার, আত্মবিশ্বাসী বোলিং কোচ শিবসাগর

Shivsagar Singh: মহিলা IPL-এ সুযোগ পেতে পারে বাংলার অনেক বোলার, আত্মবিশ্বাসী বোলিং কোচ শিবসাগর

শিবসাগর সিং।

এবার জাতীয় টুর্নামেন্টে বাংলার সিনিয়র মহিলা বোলারদের চমকপ্রদ পারফরম্যান্সের পিছনে নিঃসন্দেহে সবথেকে বড় অবদান আছে বোলিং কোচ শিবসাগর সিংয়ের। এবার আটটি ম্যাচে একবারও ১২০ রানও দেননি বাংলার বোলাররা।

এবার সিনিয়র মহিলা টি-টোয়েন্টি ট্রফিতে মোট আটটি ম্যাচ খেলেছে বাংলা। একটি ম্যাচেও ১২০ রানের বেশি খরচ করেননি বাংলার বোলাররা। সর্বোচ্চ ১০৮ রান খরচ করেছিলেন। তাও তখন রানরেট ছয়ের কম ছিল। 

জাতীয় টুর্নামেন্টে বাংলার বোলারদের এরকম চমকপ্রদ পারফরম্যান্সের পিছনে নিঃসন্দেহে সবথেকে বড় অবদান আছে বোলিং কোচ শিবসাগর সিংয়ের। যিনি সিনিয়র দলের পাশাপাশি জুনিয়র দলের জন্যও বোলার তৈরি করছেন। সেই শিবপ্রসাদের সঙ্গে এবার একান্তে আলাপচারিতা সারল হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা। কীভাবে বাংলার বোলারদের তৈরি করেছেন, আগামিদিনের পরিকল্পনা, মহিলা আইপিএল নিয়ে কথা বললেন। 

আপনার কোচিংয়ে বাংলার বোলিং কতটা ভালো হয়েছে?

শিবসাগর: এখন বোলিং বিভাগে অনেকটা উন্নতি হয়েছে বাংলার। রানও কম দিচ্ছে আমাদের মেয়েরা। এবারের লিগ পর্যায়ে যেমন ছ'টি ম্যাচে ৪৯৫ রান খরচ করেছে। টি-টোয়েন্টি ম্যাচে যদি ৮০-৯০ রান দেওয়া তো কৃতিত্বের বিষয়। শুধু সিনিয়র মেয়েরা নয়, অনূর্ধ্ব-১৯ বোলাররাও খুব ভালো খেলছে। এইতো এবারের টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে দারুণ বল করেছে ওরা।

আপনি কীভাবে দলের বোলিংয়ের স্টাইল পালটালেন? মেয়েদের কীভাবে অনুশীলন করিয়েছিলেন?

শিবসাগর: কীভাবে টি-টোয়েন্টিতে বল করতে হয়, সেটার উপর জোর দিয়েছি। একদিনের ক্রিকেটে যেভাবে বল করত, সেভাবেই টি-টোয়েন্টিতে করত। সব বোলিংই একইরকম হয়ে যাচ্ছিল। প্রতিটি ফর্ম্যাটে আলাদা ধরনের বোলিং করতে হয়। আলাদা লেংথ আছে। আলাদা লাইন আছে। আলাদা গতিতে বল করতে হয়। আগে সেটা কেউ বলেনি। সেটাই আমার প্রথম চোখে পড়েছিল। তারপর মেয়েদের বুঝিয়েছি। সেইমতো দিনের পর দিন বোলিং অনুশীলন করেছে মেয়েরা। স্পট বোলিং করেছে। মেয়েদের বিশ্বাস করতে শিখিয়েছি। আত্মবিশ্বাস এনেছি।

সব ফর্ম্যাটেই বোলিংয়ের আলাদা নিয়ম আছে। টি-টোয়েন্টি ফর্ম্যাটের জন্য আলাদা বলের লেংথে কিছুটা হেরফের করতে বলেছি। গুড লেংথ বলে তো বড় শট মারা সহজ। আইপিএলের ক্ষেত্রেও দেখা যায় যে গুড লেংথে বল ফেললে ছক্কা খেতে হয়। তাই কিছুটা শর্ট অফ দ্য লেংথ বল করতে বলেছি। সেই পরিস্থিতিতে ব্যাটারের বড় শট মারার সুযোগ কমে যাবে। টি-টোয়েন্টিতে ডট বল হলে বা এক রান হলেই চাপ বাড়বে। বিপক্ষের ব্যাটাররা বড় শট মারতে যাচ্ছে। আউটের সম্ভাবনা বাড়ছে।

লেংথের পাশাপাশি লাইন বজায় রাখা ক্ষেত্রেও জোর দিয়েছি। কারণ উইকেটে বল রাখলে ব্যাটারের মনেও ভয় থাকবে যে বল মিস করলে বোল্ড বা এলবিডব্লুউ হয়ে যাবে। সেইসঙ্গে ভ্যারিয়েশনের উপরও জোর দিয়েছি। কিছুটা শর্ট অফ দ্য লেংথ বোলিংয়ের মধ্যেই ব্যাটারকে চমকে দিতে ইয়র্কার করেছে মেয়েরা। নিয়মিত সেই ছন্দেই নিয়মিত অনুশীলন করেছে মেয়েরা।

টেকনিকাল দিক তো ছিল। কিন্তু বোলারের ক্ষেত্রে মানসিকতা তো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মেয়েদের কীভাবে মানসিকভাবে চাঙ্গা করেছেন?

শিবসাগর: মেয়েদের বুঝিয়েছি যে ব্যাটারদের থেকে এক কদম এগিয়ে থাকতে হবে। আগে থেকে বুঝতে হবে যে ব্যাটার কীরকম বল খুঁজছে। সেই বলটা আমি দেব না। ব্যাটারের মানসিকতা বুঝতে হবে। সেভাবেই ফিল্ডিং সাজাতে হবে। তাতে উইকেট পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। মেয়েরা সেটা মাঠে করে দেখিয়েছে।

আগামী বছর মহিলা আইপিএল। বাংলার বোলাররা কি মহিলা আইপিএলে ঝড় তুলবেন?

শিবসাগর: অনেক ভালো বোলারই আছে। যারা আইপিএলে সুযোগ পেতে পারে। তাদের দিকে নজর রাখতে হবে।

বাংলার বোলিং নিয়ে আপনার ভবিষ্যতের পরিকল্পনা কী?

শিবসাগর: আপাতত টি-টোয়েন্টি ভুলে একদিনের ক্রিকেটের প্রস্তুতি নিয়ে ভাবনাচিন্তা চলছে। টি-টোয়েন্টির থেকে একদিনের ক্রিকেটের লাইন-লেংথ আলাদা হবে। সেটা আলাদাভাবে ইতিমধ্যে পরিকল্পনা শুরু হয়েছে। সেইমতো অনুশীলন করতে হবে। সিনিয়র মহিলা দলের পাশাপাশি অনূর্ধ্ব-১৯ এবং অনূর্ধ্ব-১৫ মেয়েদের আপাতত একদিনের ম্যাচের জন্য অনুশীলন করানো হচ্ছে।

বন্ধ করুন