বাংলা নিউজ > ময়দান > বাংলাদেশ ক্রিকেটে কোচ নিয়োগের প্রক্রিয়া ও বিদেশি কোচের ভূমিকা নিয়ে বিতর্কের ঝড় তুললেন মাশরাফি মোর্তাজা
মাশরাফি মোর্তাজা (ছবি:গেটি ইমেজ)
মাশরাফি মোর্তাজা (ছবি:গেটি ইমেজ)

বাংলাদেশ ক্রিকেটে কোচ নিয়োগের প্রক্রিয়া ও বিদেশি কোচের ভূমিকা নিয়ে বিতর্কের ঝড় তুললেন মাশরাফি মোর্তাজা

  • আসন্ন টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের মতো দলকে হারিয়ে বাংলাদেশ দল যখন আত্মবিশ্বাসের শৃঙ্গে উঠছে, তখনই দেশের কোচ নিয়ে বোমা ফাটালেন বাংলাদেশের প্রাক্তন অধিনায়ক মাশরাফি মোর্তাজা। নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দলের কোচ নির্বাচন নিয়ে এবং বিদেশি কোচের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন তিনি।

আসন্ন টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের মতো দলকে হারিয়ে বাংলাদেশ দল যখন আত্মবিশ্বাসের শৃঙ্গে উঠছে, তখনই দেশের কোচ নির্বাচন নিয়ে বোমা ফাটালেন বাংলাদেশের প্রাক্তন অধিনায়ক মাশরাফি মোর্তাজা। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে দলের কোচ নির্বাচন নিয়ে এবং বিদেশি কোচের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন তিনি।

বাংলাদেশ দলে কী ভাবে কোচ নির্বাচন করা হয় তা নিয়ে বলতে গিয়ে মোর্তাজা জানান, ‘কোচ নিয়োগের সময় যে ইন্টারভিউ নেওয়া হয়, সেখানে আসলে তাকে কী প্রশ্ন করা হয়? বা আদৌ কি করা হয় কোনো প্রশ্ন? নাকি শুধু জানতে চাওয়া হয়, ‘তোমার কি করার ইচ্ছা?’ হয়তো তখন সে কিছু পয়েন্ট তুলে ধরে। ওখান থেকে নতুনত্ব কিছু পেলে চিন্তা করা হয়, ‘দারুণ কোচ, কী সুন্দর পরিকল্পনা, এর মতো কোচই হয় না। আমার তো মনে হয়, ভুল ওখানেই হয়ে যায়। কারণ, মানুষকে বোঝাতে আমরা সব সময় হাই প্রোফাইল কোচ খুঁজি, যা পরে আর কোনো কাজে আসে না।’

তবে শুধু কোচ নির্বাচন প্রক্রিয়া নয়, দলে কোচের ভূমিকা ও দলে কোচেদের বিশেষ ক্রিকেটারদের পছন্দ করার প্রসঙ্গও তুলে ধরলেন মোর্তাজা। তিনি জানান, ‘এ যাবৎকালে প্রায় ৯-১০ জন কোচের সাথে কাজ করেছি আমি। প্রত্যেকটা কোচ তার নিজের মতো করে কাজ শুরু করে, যেটা করাটাও স্বাভাবিক। কারন একেকজনের কাজের ধরন একেকরকম। কিন্তু সব সময় দেখেছি, প্রত্যেক কোচ তার নিজস্ব একজন বা দুইজন প্রিয় খেলোয়াড় বানিয়ে নেয়। পরে সিলেক্টর, ক্যাপ্টেন বা অন্য কেউ তাকে আর কিছুই বুঝাতে পারে না। বরং সম্পর্কগুলো জটিল হতে থাকে। ওই পছন্দের জন্য সে আবার দুইজনকে এমন অপছন্দ করা শুরু করে যে, তাদের আর দেখতেই পারে না। এক পর্যায়ে এমন জিদ শুরু করে যে, প্রয়োজনে চাকরি ছেড়ে দেব, এমন কথা প্রকাশ্যেও শুনেছি কয়েকবার কোচের মুখে। আমার পয়েন্ট হলো, কোচের পছন্দ কিছু খেলোয়াড় হতেই পারে। সেটা সব কোচেরই হয়। অনান্য দেশেও হয়। তবে সেখানে কখনও সেটা প্রকাশ্যে বুঝতে দেয় না, অনুমান করতে হয়। কারণ দলের সেরা ৩-৪ জন খেলোয়াড়ই শুধু ম্যাচ জেতায় না। জেতালেও আপনি একজনের জন্য আরেকজনকে ছোট করতে পারেন না।’

স্বদেশী কোচেদের পাশে দাঁড়িয়ে মোর্তাজা যুক্তি দিয়েছেন এবং বলেছেন, ‘এক পর্যায়ে তারা নিজেদের দেশে, না হলে আইপিএল বা আরও ভালো কোনো অফার পেয়ে চলে যাবে। কারণ এত দিনে সে আমাদের দেশের ক্রিকেটকে নিয়ে অনেক এক্সপেরিমেন্ট করে নিজের অভিজ্ঞতা বাড়িয়েছে, নিজের প্রোফাইলও ভারি করেছে। বেতন তো নিয়েছে মাসে ১২-১৫ লাখ টাকা আর আমাদের কোচরা না খেয়ে মরে। গালিও দেখি আমাদের কোচরাই হজম করে।পরে উনারা চলে গেলে আমরা পড়ি বিপদে। আবার নতুন কোচ, নতুন পরীক্ষা, নতুন দাবি মেটানো। এভাবেই চলছে বাংলাদেশে কোচদের যাওয়া-আসা। তাই আমার মনে হয়, হাই প্রোফাইল কোচ নয়, আমাদের প্রয়োজন আমাদের কোচ, বাংলাদেশের কোচ।’

বন্ধ করুন