বাংলা নিউজ > ময়দান > বিরাটের ব্যবহারে বিরক্ত দলের সিনিয়ররা BCCI-এর কাছে অভিযোগ জানিয়েছিলেন: রিপোর্ট
বিরাট কোহলি। ছবি: রয়টার্স
বিরাট কোহলি। ছবি: রয়টার্স

বিরাটের ব্যবহারে বিরক্ত দলের সিনিয়ররা BCCI-এর কাছে অভিযোগ জানিয়েছিলেন: রিপোর্ট

  • বিসিসিআই-এর একটি সূত্র মারফৎ চাঞ্চল্যকর একটি তথ্য জানা গিয়েছে। সিনিয়র ক্রিকেটাররা নাকি কোহলির ব্যবহারে রীতিমতো বিরক্ত। তাঁরাই বিসিসিআই-এর কাছে কোহলির বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছেন।

বিরাট কোহলি অধিনায়কত্ব ছাড়ার ঘোষণার আগে থেকেই তীব্র জল্পনা শুরু হয়ে গিয়েছিল। আদৌ সীমিত ওভারে তিনি অধিনায়ক থাকবেন কিনা, তা নিয়ে তর্ক বিতর্কও চলছিল। শেষ পর্যন্ত বিরাট কোহলি নিজে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর এই ফর্ম্যাটের অধিনায়কত্ব থেকে সরো দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করলে, জল্পনায় ইতি পড়ে।

কোহলি জানিয়েছিলেন, ব্যাটিং-এ মন দেওয়ার জন্য কিছুটা বোঝা কমাতেই নাকি তিনি টি-টোয়েন্টির নেতৃত্ব ছেড়ে দিচ্ছেন। এমনটা ভারত অধিনায়ক দাবি করলেও এই মুহূর্তে অন্য গল্পও শোনা যাচ্ছে।

আসলে ইংল্যান্ড সফরের পর থেকেই কোহলির অধিনায়কত্ব নিয়ে জল্পনাটা তীব্র আকার নিয়েছিল। শোনাও যাচ্ছিল, বিরাটকে সাদা বলের অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে। এর পিছনে অবশ্যই একটি কারণ কাজ করেছিল। বিসিসিআই-এর একটি সূত্র মারফৎ চাঞ্চল্যকর একটি তথ্য জানা গিয়েছে। সিনিয়র ক্রিকেটাররা নাকি কোহলির ব্যবহারে রীতিমতো বিরক্ত। তাঁরাই বিসিসিআই-এর কাছে কোহলির বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছেন।

বিরাট কোহলির নিজের ব্যর্থতাও, সতীর্থদের সঙ্গে তাঁর ব্যবহার পরিবর্তনের বড় কারণ। নিজে ভুল সিদ্ধান্ত নিতেন, তার পর সতীর্থদের সঙ্গে সেই নিয়ে খারাপ ব্যবহার করতেন বলে জানা গিয়েছে। একজন সিনিয়র প্লেয়ার বিসিসিআই সচিব জয় শাহের কাছে অভিযোগ জানিয়েছিলেন, কোহলির কারণে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে সিনিয়র ক্রিকেটারদের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন কোহলি। খারাপ ভাবে কথা বলতেন। তাঁদের ঘাড়েই নাকি সব দোষ চাপানোর চেষ্টা করেছিলেন।

রবিচন্দ্রন অশ্বিনের সঙ্গে কোহলির মনোমালিন্যের কথা কারও অজানা নয়। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে পুরো টেস্ট সিরিজে অশ্বিনকে একটি ম্যাচেও খেলাননি কোহলি। এমন কী হেড কোচ রবি শাস্ত্রীও চতুর্থ টেস্টে অশ্বিনকে খেলাতে বলেছিলেন, পাত্তা দেননি বিরাট। 

বিরাটকে নিয়ে সিনিয়র ক্রিকেটারদের অসন্তোষের মাঝেই কোহলির সঙ্গে পরামর্শ না করে, মহেন্দ্র সিং ধোনিকে মেন্টর নিযুক্ত করেছে বিসিসিআই। পাশাপাশি অশ্বিনকে দলে নিয়েছে তারা। অশ্বিনের বদলে যুজবেন্দ্র চাহালকে চেয়েছিলেন কোহলি। কিন্তু তাতে বিসিসিআই রাজি হয়নি। 

এই সব নানা কারণেই বিরাট নিজের জায়গাটা হারাতে পারেন বলে বুঝে গিয়েছিলেন। বিসিসিআই সরাসরি তাঁকে না সরালেও, পরোক্ষে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, টি-টোয়েন্টিতে তাঁর মেয়াদ বেশি দিনের নয়। সে কারণেই সম্ভবত আগে ভাগে নিজেই সরে দাঁড়ান কোহলি।

বন্ধ করুন