বাড়ি > ময়দান > লকডাউনে চরম অনটনে বাগানের অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবলার, পাশে দাঁড়াল ফ্যানস ক্লাব
'উলুবেড়িয়া মেরিনার্স' ফ্যানস ক্লাবের সদস্যদের সঙ্গে কার্তিক মালিক (ছবি সৌজন্য সংগৃহীত)
'উলুবেড়িয়া মেরিনার্স' ফ্যানস ক্লাবের সদস্যদের সঙ্গে কার্তিক মালিক (ছবি সৌজন্য সংগৃহীত)

লকডাউনে চরম অনটনে বাগানের অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবলার, পাশে দাঁড়াল ফ্যানস ক্লাব

  • সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে উলুবেড়িয়া স্পোর্টস অ্যাকাডেমিও।

চরম আর্থিক অনটন। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ বাবা। কিন্তু ছেলের দু'চোখে স্বপ্ন, বড় ফুটবলার হওয়ার, ময়দানে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার। তাই ফুটবল খেলার পাশাপাশি সংসার টানতে কাজ করতেন। কিন্তু লকডাউন এবং আমফানের জোড়া ধাক্কায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল সব। এই অবস্থায় মোহনবাগানের অনূর্ধ্ব-১৭ খেলোয়াড় কার্তিক মালিকের পাশে দাঁড়াল মোহনবাগানের ফ্যানস ক্লাব 'উলুবেড়িয়া মেরিনার্স'। আর্থিক সাহায্য করেছে উলুবেড়িয়া স্পোর্টস অ্যাকাডেমিও।

ছোটো থেকেই অর্থাভাবের সঙ্গে লড়াই করে বড় হচ্ছেন কার্তিক। বাবা অসুস্থ। বাড়িতে রয়েছেন মা এবং নবম শ্রেণীতে পাঠরতা বোন। সংসারের দিকে তাই ছোটোবেলাতেই অনেক বড় গিয়েছিলেন কার্তিক। নিজের কাঁধে তুলে নেন সংসারের দায়িত্ব। পথটা সহজ ছিল না একেবারেই। মাঠে যেমন অন্য দলের বিরুদ্ধে সর্বশক্তি দিয়ে খেলেন, তেমনই আর্থিক অনটন নামক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধেও জান লড়িয়ে যাচ্ছেন তিনি। কিন্ত লকডাউনের ধাক্কায় সবকিছু ওলট-পালট হয়ে যায়। যে স্বপ্ন নিয়ে রোজ মাঠে নামতেন, গোঁত্তা খায় সেই স্বপ্নের উড়ান। একমাত্র চাকরিটাও যায়। সেই ধাক্কার মধ্যে আমফানের দাপটে আরও দিশেহারা হয়ে পড়েন কার্তিক। তবে নিজের মধ্যের জেদটাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন।

বাবা-মা'র সঙ্গে কার্তিক (ছবি সৌজন্য সংগৃহীত)
বাবা-মা'র সঙ্গে কার্তিক (ছবি সৌজন্য সংগৃহীত)

এরইমধ্যে বিষয়টি জানতে পারে 'উলুবেড়িয়া মেরিনার্স'। উঠতি ফুটবলারের সাহায্যে অর্থ সংগ্রহ শুরু করেন ফ্যাবস ক্লাবের সদস্যরা। একইসঙ্গে মোহনবাগানের অন্যান্য ফ্যানস ক্লাব এবং ফুটবলপ্রেমীদেরও কার্তিকের পাশে দাঁড়ানোর আর্জি জানানো হয়। সেইমতো গত বৃহস্পতিবার কার্তিকের বাড়ি যান 'উলুবেড়িয়া মেরিনার্স'-এর অরিন্দম বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌম্য দে, রায়নদেব হালদার, চিরঞ্জিৎ বাগ, সায়ন চক্রবর্তী, জীবনদীপ মালাকার এবং অনিমেষ দাসরা। ফ্যানস ক্লাবের তরফে কার্তিকের হাতে ৭,৮৫০ টাকা তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি, উলুবেড়িয়া স্পোর্টস অ্যাকাডেমির তরফেও কার্তিকের হাতে ২০,০০০ টাকা তুলে দেওয়া হয়েছে।

চূড়ান্ত আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্যেও সেই সাহায্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে কার্তিকের। জুভেন্তাসের জার্সি গায়ে তখন আবারও স্বপ্নের উড়ানে সওয়ারি হয়েছেন তিনি। বড় ফুটবলার হওয়ার অবিচল লক্ষ্যে। আর পিছনের টালির চালের বাড়িটা যেন অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে - 'কার্তিক পারবে'।

বন্ধ করুন