উচ্ছ্বাস বাগানের (ছবি সৌজন্য টুইটার @ILeagueOfficial)
উচ্ছ্বাস বাগানের (ছবি সৌজন্য টুইটার @ILeagueOfficial)

বাগান ঝড়ে বিধ্বস্ত নেরোকা,ভারতীয় সেনাকে ম্যাচ সেরার পুরস্কার উৎসর্গ গঞ্জালেজের

  • এখন তো সবুজ-মেরুনের প্রতি ম্যাচে কার্যত একটি বিষয় এক থাকছে। তা হল - ডেডবল সিচুয়েশন থেকে বল ভাসাবেন বেইতিয়া। আর সেখান থেকে কোনওদিন গোল করে যাবেন গঞ্জালেজ, কোনওদিন আবার গোল করবেন বাবা দিয়াওয়ারা।

কয়েকদিন আগে মোহনবাগানের এক প্রাক্তন কোচ একটা কথা বলেছিলেন, এখনও লিগের অনেক বাকি। তাঁর দলও এক প্রথম পর্বে অনেক পয়েন্টে এগিয়ে থেকেও শেষপর্যন্ত আই লিগ জিততে পারেনি। ইঙ্গিতটা স্পষ্ট ছিল, দিল্লি এখনও অনেকটা দূর। আত্মতুষ্টি ধারেকাছেও ঘেঁষতে দেওয়া যাবে না।

সেই প্রাক্তন কোচের কথা বর্তমান কিবু ভিকুনার কানে পৌঁছেছে কিনা জানা নেই, তবে তাঁর ছেলেদের দেখেই মনে হচ্ছে, দলটা মানসিকভাবে প্রতিদিন আরও দৃঢ় হচ্ছে। আর আত্মতুষ্টি শব্দটা মাঠের বাইরে রেখে খেলতে নামছেন জোসেবা বেইতিয়ারা।

প্রতিটি ম্যাচেই প্রথম থেকে বলের দখলে নিয়ে খেলা নিয়ন্ত্রণ করছে বাগান। এদিন কল্যাণীতে নেরোকার বিরুদ্ধেও সেই ধারায় ব্যতিক্রম হয়নি। ১০ মিনিটেই বাগানকে এগিয়ে দেন ফ্রান গঞ্জালেজ। বল যথারীতি এসেছে বেইতিয়ার মাপা কর্নার থেকে। এখন তো সবুজ-মেরুনের প্রতি ম্যাচে কার্যত একটি বিষয় এক থাকছে। তা হল - ডেডবল সিচুয়েশন থেকে বল ভাসাবেন বেইতিয়া। আর সেখান থেকে কোনওদিন গোল করে যাবেন গঞ্জালেজ, কোনওদিন আবার গোল করবেন বাবা দিয়াওয়ারা।

প্রথম গোলের ধাক্কা সামলে উঠতে না উঠতেই তিন মিনিট পর আবারও নেরোকার জালে বল ঢোকান অপর ফ্রান। যাঁর পদবি মোরান্তে। এবারও গোলের সুযোগ তৈরি হয় বেইতিয়ার কর্নার থেকে। সেই সময় রীতিমতো নেরোকাকে শাসন করছিল বাগান। ২৪ মিনিটে আবারও বেইতিয়ার ক্রস থেকে গোল করেন গঞ্জালেজ। ৩৭ মিনিটের নেরোকার জালে চতুর্থবার বল ঢোকায় গঙ্গাপারের ক্লাব। এবার গোল করেন বাবা।

চার মিনিট পর এক গোলের ব্যবধান কমায় নেরোকা। গোল করেন ফিলিপ। তাতে অবশ্য কোনও লাভ হয়নি। কারণ প্রথমার্ধের নির্ধারিত সময়ের শেষ লগ্নে হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করেন গঞ্জালেজ। তার আগে অবশ্যই হ্যাটট্রিক করতে পারতেন যদি না পেনাল্টি ফসকাতেন। অতিরিক্ত সময়ে দু'মিনিটে আরও একটি গোল করে নেরোকা।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই তৃতীয় গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে নেরোকা। ৬০ মিনিটে ফিলিপের শট বাগান ক্রসবারে লাগে। ফিরতি বলে রোনাল্ড সিং ভলি মারেন। সেই বল গোলে ঢোকার মুখে হাত দিয়ে আটকান ধনচন্দ্র সিং। তাঁকে লালকার্ড দেখান রেফারি। তবে সেই সুযোগ নিতে পারেননি ফিলিপ। এরপর ৬৯ মিনিটে আলেকজান্ডার রোমারিওকে নামান ভিকুনা। নামার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই দুরন্ত শটে গোলে করেন চেন্নাই সিটির প্রাক্তন খেলোয়াড়। শেষপর্যন্ত ৬-২ স্কোরলাইনই থাকে।

যথারীতি ম্যাচের সেরা হন গঞ্জালেজ। পরে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, 'আমরা তিন পয়েন্ট পেয়ে খুব খুশি। এই পুরস্কার ভারতীয় সেনাকে উৎসর্গ করতে চাই।'

ই।'

এদিনের ম্যাচ জয়ের পর ১২ ম্যাচে ২৯ পয়েন্ট লিগ শীর্ষে থাকল বাগান। ১১ পয়েন্ট পিছনে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মিনার্ভা।










বন্ধ করুন