বাংলা নিউজ > ময়দান > টোকিও অলিম্পিক্সের আগে হরিয়ানা সরকারের নতুন আজব হলফনামা, বিরক্ত বজরং পুনিয়ারা
হরিয়ানা সরকারের নতুন হলফনামা মানতে  পারছেননা বজরং পুনিয়ারা(ছবি: গুগল)
হরিয়ানা সরকারের নতুন হলফনামা মানতে  পারছেননা বজরং পুনিয়ারা(ছবি: গুগল)

টোকিও অলিম্পিক্সের আগে হরিয়ানা সরকারের নতুন আজব হলফনামা, বিরক্ত বজরং পুনিয়ারা

  • টোকিও অলিম্পিক্সে অংশ নিতে যাওয়া রাজ্যের ক্রীড়াবিদদের অসম্মানিত করল হরিয়ানা সরকার। যার বিরুদ্ধে সরব এবার হরিয়ানার ক্রীড়া মহল। হরিয়ানা সরকারের হলফনামায়, ‘যৌন হয়রানি’ ও ‘জেল আইন’ এর মতো বাক্য রয়েছে। যা নিয়ে আপত্তি ক্রীড়াবিদদের। 

টোকিও অলিম্পিক্সে অংশ নিতে যাওয়া রাজ্যের ক্রীড়াবিদদের অসম্মানিত করল হরিয়ানা সরকার। যার বিরুদ্ধে সরব এবার হরিয়ানার ক্রীড়া মহল। এমনিতেই দেশের বাকি রাজ্যের তুলনায় হরিয়ানা সরকার দেশের ক্রীড়াবিদদের বেশি সম্মান দেয় বলেই সকলের জানা। শুধু সম্মান নয়, আর্থিক দিক থেকেও অন্য রাজ্যের তুলনায় হরিয়ানার ক্রীড়াবিদরা এগিয়ে। সেই কারণেই মাঝে মাঝে দেখা যায় ভিন রাজ্যের ক্রীড়াবিদরা হরিয়ানাতে চলে যেতে চায়। পশ্চিমবঙ্গের প্যারাসুইমার প্রশান্ত কর্মকার যার সব থেকে বড় উদাহরণ। কমনওয়েলথে ভারতের হয়ে পদক জেতার পরে বাড়তি সুবিধা পাওয়ার জন্য প্রশান্ত হরিয়ানাতে চলে যান। এমন বহু উদাহরণ দেখা যায়।

কিন্তু সেই হরিয়ানা সরকারের একটা সিদ্ধান্তে সম্পূর্ণ ছবিটা বদলে দিতে পারে। ঘটনার সূত্রপাত, অলিম্পিক্সে যাওয়ার আগে রাজ্যের প্রত্যেক ক্রীড়াবিদকে ১৫ লাখ টাকা অনুদান দেওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে ৫ লাখ টাকা সব খেলোয়াড় পেয়ে গিয়েছেন। বাকি টাকা অলিম্পিক্স শেষ হয়ে গেলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সরকার। এরমাঝেই সরকারের তরফ থেকে একটা হলফনামা দেওয়া হয়। 

হলফনামায় মুখ্যমন্ত্রী মনোহর লাল খট্টারের সরকার লিখেছে টোকিও অলিম্পিক্সে অংশ নেওয়া রাজ্যের প্রতিযোগীদের মধ্যে কারও বিরুদ্ধে যদি ফৌজদারি মামলা থাকে, তাহলে সেই খেলোয়াড়ের কাছ থেকে আর্থিক অনুদানের পাঁচ লাখ টাকা কেড়ে নেওয়া হবে। এমনকি কোনও ক্রীড়াবিদ অলিম্পিক্সের মঞ্চে নিষিদ্ধ ওষুধ সেবন করতে গিয়ে ধরা পড়েন তাহলে তাঁর কাছ থেকে আর্থিক অনুদানের পুরো টাকাই নিয়ে নেবে হরিয়ানা সরকার।

হরিয়ানা সরকারের হলফনামায়, ‘যৌন হয়রানি’ ও ‘জেল আইন’ এর মতো বাক্য রয়েছে। ফলে বিরক্ত প্রকাশ করেছেন একাধিক ক্রীড়াবিদ। তাঁদের মধ্যে কেউ প্রকাশ্যে সরকারের সমালোচনা করেছেন। ২০ কিলোমিটার রেস ওয়াকার রাহুল রোহিলা বলেন, ‘সরকারী হলফনামায় এই ধরণের বাক্য থাকা উচিত নয়। অবিলম্বে বাদ দেওয়া উচিত।’ সন্দীপ পুনিয়া আবার বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা গর্বিত ভারতীয় ক্রীড়াবিদ হিসেবে। আমরা অপরাধী নই। আমাদের সঙ্গে কয়েকজন মহিলা ক্রীড়াবিদ রয়েছে। তাদের প্রতি সম্মান দেখানো উচিত।’ 

হরিয়ানা সরকার ও তাদের ক্রীড়া দপ্তরের এই অদ্ভুত হলফনামার জন্য বেশ বিরক্ত বজরং পুনিয়া, বিনেশ ফোগাট, নীরজ চোপড়ারা। সরকারের এই দাবি মেনে নিতে পারছেননা হরিয়ানা থেকে আসন্ন টোকিয়ো অলিম্পিক্সে অংশ নিতে যাওয়া একাধিক খেলোয়াড়।

বন্ধ করুন