বাংলা নিউজ > ময়দান > টোকিও অলিম্পিক্স > বীরাঙ্গনাদের বরণ করতে তৈরি হরিয়ানা, ম্যাচ হারলেও বিজয়ীদের মতোই উষ্ণ অভ্যর্থনা পাবেন রানি-নভজ্যোত-নভনীতরা!
মেয়ের সাফল্যে খুশি রানি রামপালের বাবা রামপাল
মেয়ের সাফল্যে খুশি রানি রামপালের বাবা রামপাল

বীরাঙ্গনাদের বরণ করতে তৈরি হরিয়ানা, ম্যাচ হারলেও বিজয়ীদের মতোই উষ্ণ অভ্যর্থনা পাবেন রানি-নভজ্যোত-নভনীতরা!

  • ম্যাচ হারলেও বিজয়ীদের মতোই উষ্ণ অভ্যর্থনা পাবেন রানি-নভজ্যোত-নভনীতরা, দাবি তিন কন্যার পরিবারের। বীরাঙ্গনাদের বরণ করতে তৈরি থাকবে হরিয়ানার কুরুক্ষেত্র ও শাহবাদ গ্রাম।

১০ই অগস্ট ঘরে ফিরছেন দেশের বীরাঙ্গনা রানি রামপাল, নভজ্যোত কৌর, নভনীত কৌররা। আর সেই কারণে এখন থেকেই তৈরি হচ্ছে হরিয়ানার কুরুক্ষেত্র ও শাহবাদ গ্রাম। তবে শুধু এই দুটো গ্রাম কেন, দেশের মহিলা হকি দলের নায়িকাদের বরণ করতে তৈরি হচ্ছে গোটা দেশ, গোটা হরিয়ানা। যদিও ব্রোঞ্জ জয়ের ম্যাচে ভারতীয় হকি দল জিততে ব্যর্থ হয়েছে, তবু রানি রামপালরা অলিম্পিক্সের মঞ্চে যে ইতিহাস তৈরি করল তা কোনও দিনও ভুলতে পারবেনা ভারতীয় ক্রীড়ামহল। তাই তো মেয়েদের জন্য উষ্ণ অভ্যর্থনার দাবি করছেন রানি রামপালের বাবা। 

ভারতীয় মহিলা হকি দলের অধিনায়ক রানি রামপালের বাবা বলেছেন, ‘সারা বিশ্ব ভারতীয় মহিলা হকি দলের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করছে এবং তারা বিজয়ীদের মতো দেশে ফিরে উষ্ণ অভ্যর্থনা পাওয়ার যোগ্য।’  ভারতের মহিলা হকি দলের খেলা দেখার পরে মেয়ের জন্য গর্বে বুক ভরে যাচ্ছে রামপালের, তিনি জানান,  ‘আমাদের কোনো দুঃখ নেই। তাদের খেলা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অসাধারণ এবং কঠিন ছিল। এটা পরাজয় নয় বরং তাদের প্রচেষ্টার বিজয়।’ এদিন তিনি নিজের ম্যাচ দেখার অভিজ্ঞতার কথাও জানান। রামপাল বলেন, শুক্রবার ম্যাচটি দেখার জন্য তিনি ভোর ৫ টায় উঠেছিলেন এবং একটি গৃহ নির্মিত মন্দিরে পরিবারের সঙ্গে দলের ভাল পারফরম্যান্সের জন্য প্রার্থনা করেছিলেন। তিনি আরও বলেন, ‘যদিও আমি একজন হৃদরোগী, আমি আমার মেয়েদের এই সংগ্রাম দেখে নিজেকে ধরে রাখতে পারিনি।’

হকি খেলোয়াড় নভজ্যোত কৌরের বাবা সাতনাম সিংও মেয়েদের দলের মনোভাব এবং লড়াইয়ের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন ‘এই ম্যাচে মেয়েরা যেভাবে লড়াই করেছে তা প্রশংসনীয়।’ তিনি বলেন, ‘অলিম্পিক্সের সেমিফাইনালে হকি যাত্রা ভারতের মেয়েদের সংগ্রামের গল্প এবং এটি নতুন খেলোয়াড়দের গিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করবে।’ আরেক খেলোয়াড় নভনীত কৌরের বাবা বুটা সিং বলেছেন, তাদের মেয়েদের বিজয়ী হিসাবে বিবেচনা করা উচিত, কারণ তারা দেশের জন্য একটি পদক আনার সমস্ত রকম প্রচেষ্টা করেছিলেন। খেলোয়াড়দের পরিবারের জন্য এটি একটি কঠিন দিন ছিল। এদিন ম্যাচ শেষ হওয়ার পরে কাঁদতে কাঁদতে ঘর থেকে বেরিয়ে যান নভজ্যোত কৌরের মা মনজিৎ কৌর। কিন্তু পরে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলে তাদের প্রশংসা করেছেন। তারা প্রত্যেকেই এদিন সকাল ৭ টায় ম্যাচ শুরু হওয়ার আগে থেকেই টেলিভিশনের সামনে বসে পড়েন। এদিনের ম্যাচ শেষ হওয়ার পর থেকে সকলের একটাই কথা, ‘তাদের এখনও একটা উষ্ণ অভ্যর্থনা প্রাপ্য এবং তার জন্য আমরা তাদের নায়কের মতো স্বাগত জানানোর সব ব্যবস্থা করব।’

বন্ধ করুন