বাংলা নিউজ > ময়দান > টোকিও অলিম্পিক্স > ভাকেরের পিস্তল ইস্যুতে সুইস বন্দুক প্রস্তুতকারী সংস্থাকে শো'কজ নোটিশ এনআরএআই-এর
মনু ভাকের।
মনু ভাকের।

ভাকেরের পিস্তল ইস্যুতে সুইস বন্দুক প্রস্তুতকারী সংস্থাকে শো'কজ নোটিশ এনআরএআই-এর

  • মনু ভাকের সুইস বন্দুক প্রস্তুতকারী সংস্থা মরিনির বন্দুক ব্যবহার করেন। সেই কোম্পানির মালিক সোশ্যাল মিডিয়াতে এই ঘটনা নিয়ে মুখ খুলে বিস্ময় প্রকাশ করেন বলেন, শুটিং রেঞ্জে থাকা কোম্পানির ওয়ার্কশপে গিয়ে ভাকের তাঁর পিস্তল মেরামত না করে, কেন ব্যক্তিগত কোচ রনক পন্ডিতের কাছে যান তাঁর বন্দুকটি সারাতে!

শুভব্রত মুখার্জি

টোকিওর আসাকা শুটিং রেন্ঞ্জ থেকে ভারত এখন পর্যন্ত একটি ও পদক পায়নি। সৌরভ চৌধুরী প্রথম হয়ে ১০ মিটার এয়ার পিস্তলের ফাইনালে উঠলেও শেষরক্ষা করতে পারেননি। তবে সবথেকে দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার শিকার হন শুটার মনু ভাকের। তার পিস্তল কোয়ালিফাইং রাউন্ডে বিগড়ে যায়। তার ইলেকট্রনিক ট্রিগার সময় মতন কাজ না করার কারনে যে মূল্যবান সময় তার নষ্ট হয় তাকে মেকআপ করে তার পক্ষে আর লড়াই করেও ফাইনালে পৌছানো সম্ভব হয়নি।

প্রসঙ্গত মনু ভাকের সুইস বন্দুক প্রস্তুতকারী সংস্থা মরিনির বন্দুক ব্যবহার করেন। মরিনি কোম্পানির মালিক ফ্র্যান্সেসকো রেপিচ সোশ্যাল মিডিয়াতে এই ঘটনা নিয়ে মুখ খুলে তার বিস্ময় প্রকাশ করেন যে শুটিং রেঞ্জে থাকা কোম্পানির ওয়ার্কশপে গিয়ে ভাকের তাঁর পিস্তল মেরামত না করে, কেন ব্যক্তিগত কোচ রনক পন্ডিতের কাছে যান তাঁর বন্দুকটি সারাতে! আর এই পোস্টটি তিনি করার পরেই ভারতীয় রাইফেল অ্যাসোসিয়েশান (এনআরএআইয়ের) তরফে তাঁকে একটি শোকজের চিঠি দিয়ে এইধরনের মন্তব্যের কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। আর নোটিশ পাওয়ার সাথে সাথেই রেপিচ ফেসবুক থেকে তার কমেন্টটি ডিলিট করে দিয়েছেন।

উল্লেখ্য সৌরভ চৌধুরী ফাইনালে হারের পরে রেপিচ তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছিলেন , আপনি যদি জানতে চান কিভাবে একটি সম্ভাব্য সোনা জয়ের আশাকে খতম করতে হয় তাহলে আপনি ভারতীয় শুটিং ফেডারেশনের সাথে যোগাযোগ করুন। তারা আপনাকে পরামর্শ দেবে। ' এই ঘটনার পর থেকেই তার উপর ক্ষুব্ধ ছিলেন শুটিং ফেডারেশনের কর্তা ব্যক্তিরা। ভাকেরের ঘটনায় চরম ক্ষুব্ধ হন তার কোচ রনক পন্ডিত,যিনি ঘটনাচক্রে প্রাক্তন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন শুটার হিনা সিধুর স্বামী। ভাকেরের ঘটনার পরে রেপিচ লেখেন আমি রেন্ঞ্জে থাকা বিচারকের সাথে কথা বলেছিলাম। বিচার নিজেও খুব বিস্মিত ছিলেন যে কেন কোম্পানির রিপেয়ারিং সেন্টারে ভাকেরের পিস্তলটি না নিয়ে গিয়ে পন্ডিত তার বন্দুকটি সারাতে শুরু করেন। এই বন্দুক খারাপের চক্করে ভাকের সেদিন ১৪ টি গুরুত্বপূর্ণ মিনিট হারিয়ে ফেলেন।

রেপিচের কথার তীব্র প্রতিক্রিয়া দিয়ে পন্ডিত জানান ' ও কে ? প্রতিদিন কেন ও এইধরনের পোস্ট করছে ? ভারতীয় স্কোয়াডকে বিরক্ত করাই কি ওর লক্ষ্য ? ভাকের ওর কম্পিটিশানের জুতো পড়েছিল। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হলে ওর হৃদস্পন্দনকে নিয়ন্ত্রনে রেখে ও শুট করছিল। এই অবস্থায় ওকে কোম্পানির রিপেয়ারিং সেন্টারে যেতে গেলে তীব্র রোদে ১০০ মিটারের ও বেশি হাটতে হত। যা হয়েছে আমরা পিস্তল খারাপের নিয়ম মেনেই করেছি। '

রেপিচের পোস্টে আর ও দাবি ছিল‌ পিস্তল ঠিক হওয়ার পরে ভাকেরের তরফে পিস্তল ঠিক আছে কিনা তা দেখতে শুটিং এর পরিভাষায় 'সাইটার' অর্থাৎ পরীক্ষামূলক অনুশীলনের জন্য আবেদন করা হয়নি। এই বিষয়ে পন্ডিত জানান ' আমরা সাইটার চেয়েছিলাম। কিন্তু কর্মকর্তারা সাইটারের বোর্ড স্ক্রিনে দিতে দেরি করছিল। সময় চলে যাচ্ছিল। ফলে আমাদের তাড়াতাড়ি করে শুরু করতে হয়‌ ।' রেন্জ্ঞে উপস্থিত ভারতীয় দলের এক টেকনিক্যাল বিশারদ কর্তা পন্ডিতের এই কথার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

বন্ধ করুন