বাংলা নিউজ > ময়দান > টোকিও অলিম্পিক্স > Tokyo 2020: নিঃস্বার্থ সাহায্যের প্রতিদান, শুরুর দিনে সাহায্যকারী ট্রাক ড্রাইভারদের খোঁজে মীরাবাঈ চানু
পদক গলায় মীরাবাঈ চানু। ছবি- পিটিআই।
পদক গলায় মীরাবাঈ চানু। ছবি- পিটিআই।

Tokyo 2020: নিঃস্বার্থ সাহায্যের প্রতিদান, শুরুর দিনে সাহায্যকারী ট্রাক ড্রাইভারদের খোঁজে মীরাবাঈ চানু

  • দেশে ফেরার পরই মণিপুর সরকারের তরফে এক কোটি টাকা দেওয়ার পাশাপাশি মীরাবাঈকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদেও নিয়োগ করা হয়।

কথায় আছে সাফল্য একদিনে আসে না। মীরাবাঈ চানুর থেকে তাঁর ভাল উদাহরণ হয়তোই কেউ হয়। মীরাবাঈয়ের যাত্রা সকলের কাছেই এক শিক্ষা, যে নিয়ম মেনে নিষ্ঠার সঙ্গে লক্ষ্যের পথে এগিয়ে গেলে সাফল্য আসেই। অলিম্পিক্সে তাঁর ব্রোজ্ঞ জয়ের কথা এখন সকলেরই মুখে মুখে। তবে তার পিছনের দীর্ঘ সংঘর্ষের কাহিনীটা খুব কম লোকেরই জানা।

মণিপুরের নংপোক কাকচিংয়ের একটি গ্রামে নিতান্তই দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া মীরাবাঈয়ের বিশ্বের দরবারে নিজেকে প্রমাণ করার কাহিনী একাধিক চড়াই উতরাইতে ভরা। রিওতে চরম হতাশা থেকে ডিপ্রেশন এবং তারপর টোকিওতে সাফল্য যেন রুপোলি পর্দার কাহিনী। তাঁর মা গ্রামে এক ছোট্ট চায়ের দোকান সামলাতেন। তাই শুরুর দিকে অভাবে ভরা পরিবারে ট্রেনিং সেন্টারে পৌঁছতে মীরাবাঈকে ট্রেনিং সেন্টার পৌঁছে দিতেন তাঁর বাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়া ট্রাক ড্রাইভাররা। সাফল্য লাভের পর তাদের খোঁজ করতে লেগে পড়লেন ব্রোঞ্জজয়ী অ্যাথলিট।

লোকাল সাংবাদিকদের মীরাবঈ জানান, ‘আমি সেই সকল ট্রাক ড্রাইভার যারা আমায় বাড়ি থেকে ট্রেনিং সেন্টারে পৌঁছে দিত, তাদের সঙ্গে দেখা করে তাদের আর্শীবাদ নিতে চাই। আমার মুশকিল সময়ে ওরা আমায় প্রচুর সাহায্য করেছে। তাই আমি বালি নিয়ে যাওয়া ওই ট্রাক ড্রাইভাদের (ইথাম মুইরাংপুরেল চত্বর) খুঁজছি যাতে ওনাদের বর্তমান সময়ে কোন কিছুর প্রয়োজন হলে আমি সাহায্য করতে পারি।’

(টোকিও অলিম্পিক্স ২০২০-র যাবতীয় খবর, আপডেটের জন্য চোখ রাখুন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়)

মীরাবাঈয়ের মা তোম্বি দেবীর মতে ওই ট্রাক ড্রাইভার যারা তাঁর মেয়েকে বাড়ি থেকে ইম্ফলের খুমান লাম্পাক কমপ্লেক্সে পৌঁছে দিতেন, তাঁদের সুবাদেই যাতায়াত বাবদ যে পয়সা বাঁচত, তা দিয়ে শুরুর দিকে ভারোত্তলকের ডায়েট চলত। 

পরিশ্রম রঙ এনেছে। বর্তমানে খ্যাতি বা অর্থ কোন কিছুরই কমতি নেই মীরাবাঈ-এর কাছে। মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী কৃতি ভারতীয় অ্যাথলিট ঘরের ফেরার পরই তাঁকে রাজ্যভিত্তিক এক সংবর্ধনা সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসাবে নিয়োগের কথা জানান। পাশপাশি এক কোটি টাকার আর্থিক পুরস্কারও দেওয়া হয় তাঁকে। এতো জাঁকজমকের মাঝেও মীরাবাঈয়ের অতীতে সাহায্যকারী ব্যক্তিদের মনে রাখা তাঁর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যেরও পরিচয় দেয়। 

বন্ধ করুন