বাংলা নিউজ > ময়দান > টোকিও অলিম্পিক্স > Tokyo Olympics: কাপিং পদ্ধতি অতীত, করোনা আবহে টোকিওতে ক্রীড়াবিদদের ফিট রাখবে 'ব্লাড ফ্লো রেস্ট্রিকশান' ব্যান্ড
অলিম্পিক্স রিং (ছবি:টুইটার)
অলিম্পিক্স রিং (ছবি:টুইটার)

Tokyo Olympics: কাপিং পদ্ধতি অতীত, করোনা আবহে টোকিওতে ক্রীড়াবিদদের ফিট রাখবে 'ব্লাড ফ্লো রেস্ট্রিকশান' ব্যান্ড

  • ক্রীড়াবিদদের ফিট রাখবে 'ব্লাড ফ্লো রেস্ট্রিকশান' ব্যান্ড।

শুভব্রত মুখার্জি: ২০১৬ সালে রিও অলিম্পিক্সে পুলের জলে নামার আগে হঠাৎ করে ক্যামেরা ফোকাস করেছিল কিংবদন্তি সাতারু মাইকেল ফেল্পসের কাঁধে। রক্ত জমাট বেঁধে গোল হয়ে যাওয়া সেই দাগ দেখে আতকে উঠেছিল গোটা বিশ্ব। পরবর্তীতে জানা যায় ওই বিশেষ পদ্ধতির নাম কাপিং। গোল গোল কাচের বাটি দিয়ে রক্তকে এক জায়গায় আটকে তার উপর বাইরে থেকে উত্তাপ প্রয়োগ করে রক্তের সঞ্চালন বৃদ্ধি । ফলস্বরূপ গায়ে ,হাত,পায়ের ব্যথা লাঘব হবে। অ্যাথলিট ফিট হয়ে যাবেন পরবর্তী চ্যালেঞ্জ নেওয়ার আগে। সেই কাপিং পদ্ধতিকে এই করোনাকালে টোকিওতে পিছনে ফেলেছে ' ব্লাড ফ্লো রেস্ট্রিকশান' ব্যান্ড পদ্ধতি। অর্থাৎ বাংলায় যাকে বলছ রক্ত চলাচলে ব্যাঘাত ঘটিয়ে করা চিকিৎসা।

কাপিং পদ্ধতির উদ্দেশ্য ছিল মাসেলের টেনশান কমিয়ে অ্যাথলিটকে ফিট করা। আধুনিক যুগে ট্রেনিং পদ্ধতিতে যেমন আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে ঠিক তেমন বডি রিকোভারির ক্ষেত্রেও এক ঘটনা ঘটেছে। এবারেও এই আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির জনক অবশ্যই আমেরিকা। তাদের দেশের সাতারু মাইকেল অ্যান্ড্রু এবং দৌড়বিদ গ্যালেন রুপের অনুশীলনের সময় তাদের পায়ের উপরিভাগে দেখা গেছে এই বিশেষ ধরনের ব্যান্ড। এই পদ্ধতিতে একটি বিশেষ জায়গায় এই বিশেষ ব্যান্ডটি ব্যবহার করা হলে এই জায়গার মাসেলগুলিতে কিছু সময়ের জন্য রক্ত চলাচল বন্ধ করে দেয়। ফলে সেই সময় মগজে সিগন্যাল যায় সেই মাসেলগুলোকে আর ও বেশি শক্তি প্রদানের ,আর ও তাড়াতাড়ি রিকোভারি করার। এই পদ্ধতিকেই বলে 'ব্লাড ফ্লো রেস্ট্রিকশান'পদ্ধতি।

কাকতালীয়ভাবে আমেরিকানজের ব্যবহৃত এই টেকনিকের জন্ম হয়েছিল জাপানেই। ১৯৬৬ সালে জাপানের পাওয়ার লিফটার ইয়োসিয়াকি সাতো সর্বপ্রথম এই বিশেষ ব্যান্ড যা কাটসু তৈরি করত তার ব্যবহার করেছিলেন। জাপানে কথিত আছে তিনি একদিন বসে থাকার সময় হঠাৎ উপলব্ধি করেন তার পা অসাড় হয়ে আসছে। এরপর তিনি এই বিষয়ে পরীক্ষা শুরু করেন। বাইসাইকেলের টিউব,দড়ি,ব্যান্ড ব্যবহার করে দেহের বিভিন্ন অংশে তিনি বিভিন্ন রকম চাপ তৈরি করেন মাসেলের উপর। ১৯৭৩ সালে ঘটে অলৌকিক ঘটনা। তার চোটগ্রস্ত হাটু এবং ভেঙে যাওয়া গোড়ালির চিকিৎসার ক্ষেত্রে তিনি এইভাবে চাপ বাড়িয়ে কমিয়ে অভাবনীয় সাফল্য পান আইসোমেট্রিক অনুশীলন করার সময়।

এরপর থেকে এই 'ব্লাড ফ্লো রেস্ট্রিকশান'পদ্ধতি এবং কাটসু ব্যান্ড বিশ্বে জনপ্রিয় হয়। যার পুনরায় ব্যবহার জাপানে হতে চলা অলিম্পিক্সে ফিরিয়ে এনেছেন আমেরিকার অ্যাথলিটরা।

বন্ধ করুন