বাংলা নিউজ > ময়দান > টোকিও অলিম্পিক্স > জল দেওয়া দুধ আর ভাঙা স্টিক দিয়ে শুরু হয়েছিল রানি রামপালের সংগ্রাম
ভারতীয় মহিলা হকি দলের অধিনায়ক রানি রামপাল (ছবি:টুইটার)
ভারতীয় মহিলা হকি দলের অধিনায়ক রানি রামপাল (ছবি:টুইটার)

জল দেওয়া দুধ আর ভাঙা স্টিক দিয়ে শুরু হয়েছিল রানি রামপালের সংগ্রাম

  • রানির বাবা একজন রিক্সাচালক। বাবা দিনে ৮০ টাকা রোজগার করতেন। মা লোকের বাড়িতে কাজ করতেন। দু বেলা দু’মুঠো পেট ভরে খেতে পর্যন্ত পেতেন না ভারতীয় দলের বর্তমান ক্যাপ্টেন।

জীবন যুদ্ধের লড়াই জিতে আজ তিনি ভারতীয় মহিলা হকি দলের অধিনায়ক রানি রামপাল। মাত্র ১৫ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক দলে ডাক পেয়েছিলেন তিনি। তবে বাড়ির পরিস্থিতির চাপে একটা সময় হকি শেখাই হত না তার। শুধু মনের জেদে আজ তিনি এই জায়গা অর্জন করছেন। রানির বাবা একজন রিক্সাচালক। বাবা দিনে ৮০ টাকা রোজগার করতেন। মা লোকের বাড়িতে কাজ করতেন। দু বেলা দু’মুঠো পেট ভরে খেতে পর্যন্ত পেতেন না তাঁরা।

বাড়ির কাছে হকি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। ছোট থেকেই রানির হকি খেলার প্রতি আলাদা ভালোবাসা জন্মেছিল। সেখানকার প্রশিক্ষককে খেলার কথা বলতে তিনি বলেছিলেন, ‘অনুশীলন করতে পারবে না, তোমার গায়ে শক্তি নেই।’ জেদ চেপে যায় রানির। মাঠের ধারে পড়ে থাকা ভাঙা হকি স্টিক নিয়ে অনুশীলন করতেন। অনেক জোরাজুরির পর কোচ রানিকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য রাজি হন। প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নিয়ম হচ্ছে প্রতিদিন বাড়ি থেকে ৫০০ মিলিলিটার দুধ নিয়ে যেতে হবে। সেটা খেয়ে খেলতে নামবে সকলে। কিন্তু অতটা দুধ কেনার ক্ষমতাই ছিল না রানির। ২০০ মিলিলিটার দুধ কিনে তাতে জল মিশিয়ে দিতেন তিনি।

বাড়ির লোককেও নিজের হকি খেলার জন্য মানিয়েছিলেন রানি। রানির খেলা দেখে খুশি হন প্রশিক্ষক। হকি খেলার সরঞ্জাম, জুতো সব কিনে দিয়েছিলেন তিনি। নিজের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে রানিকে খাওয়াতেনও সেই প্রশিক্ষক। নিজের প্রথম অর্থ বাবার হাতে তুলে দিয়েছিলেন রানি। বাবাকে নিজের নতুন বাড়িতে নিয়ে যেতে পেরেছেন। রানির জীবন যুদ্ধের গল্প যে কোনও বলিউডের হিট ছবির চিত্রনাট্যকেও হার মানাবে।

বন্ধ করুন