বাংলা নিউজ > ময়দান > টোকিও অলিম্পিক্স > দুর্ভিক্ষ, পিতৃতান্ত্রিক সমাজকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে টোকিও-তে যাচ্ছেন রেবতী
ভি রেবতী।
ভি রেবতী।

দুর্ভিক্ষ, পিতৃতান্ত্রিক সমাজকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে টোকিও-তে যাচ্ছেন রেবতী

  • তামিলনাড়ুর অ্যাথলিট ভি রেবতী ৫৩.৫৫ সেকেন্ডে ৪০০ মিটার দৌড়ে টোকিও গেমসের টিকিট নিশ্চিত করেছেন।

শুভব্রত মুখার্জি

আর মাত্র সপ্তাহ দুয়েক পরেই শুরু হতে চলেছে টোকিও অলিম্পিক গেমস। এই গেমসে ভারতের হয়ে অংশ নিতে প্রায় ২৬ জন অ্যাথলিট জাপানের পথে রওনা দেবেন। এই স্কোয়াডে রয়েছেন তামিলনাড়ুর অ্যাথলিট ভি রেবতী। ৫৩.৫৫ সেকেন্ডে ৪০০ মিটার দৌড়ে টোকিও গেমসের টিকিট নিশ্চিত করেছেন এই লড়াকু মেয়েটি।

৪*৪০০ মিটারের ভারতীয় মহিলা দলের অন্যতম সদস্যা তিনি। আর তার এই সাফল্যের সময়ে সামনে উঠে এল তার কষ্টে ভরা অতীত। দুর্ভিক্ষ, পিতৃতান্ত্রিক সমাজের নানা কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে থেকেও যেভাবে তিনি লড়াই করে সাফল্যের রাজপথে উঠে এসেছেন তা এককথায় অনবদ্য। মাত্র ৭ বছর বয়সে ছোট্ট রেবতীকে হারাতে হয়েছিল তার বাবাকে। লড়াইয়ের শুরু সেদিন থেকেই।

কষ্টের এখানেই শেষ নয়। ঠিক তার একবছরের মাথায় রেবতীকে হারাতে হয় তার মাকে। এরপর রেবতী এবং তার ফুটবলার ছোট বোনের দায়িত্ব তুলে নেন তাদের দিদা আরাম্মাল। নিজেদের জেলার এক সরকারি স্কুলের হোস্টেলে থেকে তারা পড়াশোনা করতেন। তাদের দিদা মাদুরাইয়ে ,সাক্ষীমঙ্গলম গ্রামে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্পে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। বলা ভাল রেবতীর অ্যাথলেটিক্সকে নিয়ে স্বপ্নপূরনের পথে সর্বময় উৎসাহদাতা ছিলেন তার দিদা। সাইয়ের পাতিয়ালার সেন্টারে এই মুহূর্তে অনুশীলনরত রেবতী। এই প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে রেবতী জানান ' দুর্ভিক্ষের কারনেই আমাদেরকে সরকারী স্কুলে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছিল। দিদা মাসে একবার আমাদের সাথে দেখা করতে আসতেন। আমরা দেখতাম সবার বাবা-মা সপ্তাহে তাদের সাথে একবার করে দেখা করত। সেটা দেখার পরে আমাদের দুই বোনের মন খারাপ হত। আর আজকের এই সুখময় দিনটি আমার পক্ষে দেখা সম্ভব হত না যদি না 'পাতি' ( তামিল ভাষায় দিদা) থাকতেন। '

১২ ক্লাসে পড়ার সময় ২৩ বছর বয়সী রেবতীকে একটি জোনাল কম্পিটিশানে সনাক্ত করেছিলেন তার কোচ কান্নন স্যার। উল্লেখ্য সেদিন খালি পায়েই দৌড়াতে হয়েছিল তাকে। কান্নান স্যার তাকে জুতো কিনে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন সকাল ,সন্ধ্যা রেবতীকে অনুশীলন করতে যেতে হবে। মাদুরাইয়ের সাইয়ের সেন্টারে যাতায়াতের খরচ সেসময় ছিল দৈনিক ৪০ টাকা ফলে রেবতী বাধ্য হয়েই সেই প্রস্তাব প্রত্যাখান করেছিলেন। তখন ডোয়াক কলেজে রেবতীর কলেজের পড়াশোনার খরচ চালানোর দায়িত্বভার নিতে চেয়ে রেবতীকে ফের প্রস্তাব দেন কান্নান স্যার। প্রস্তাবে রেবতীর দিদা রাজি হয়ার পরেই শুরু হয়েছিল তার স্বপ্নের উড়ান।

বন্ধ করুন