ব্যাট হাতে আগ্রাসী মেজাজে সচিন। ছবি- টুইটার
ব্যাট হাতে আগ্রাসী মেজাজে সচিন। ছবি- টুইটার

ফিরে দেখা ২৭ মার্চ: এদিন ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ বদলেছিলেন সচিন

  • অকল্যান্ডে ঠিক এই দিনটিতেই কিউয়িদের বিরুদ্ধে সচিনকে ওপেন করতে পাঠান ক্যাপ্টেন আজহারউদ্দিন। প্রথম ম্যাচেই খেলেন ৪৯ বলে ৮২ রানের আগ্রাসী ইনিংস।

১৯৯৪ সালের ২৩ মার্চ টেস্ট ক্রিকেটে কপিল দেব অধ্যায় শেষ হয়েছিল। ঠিক চার দিনের মাথায় ওয়ান ডে ক্রিকেটে শুরু ওপেনার তেন্ডুকরের অভ্যুত্থান।

নিউজিল্যান্ড সফরের একমাত্র টেস্ট খেলে কপিল চিরতরে বিদায় জানিয়েছিলেন সনাতনী ক্রিকেটকে। সেই সফরেই পরবর্তী ওয়ান ডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ওপেনার হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেন মাস্টার ব্লাস্টার। দিনটা ছিল ২৭ মার্চ। বাকিটা ক্রিকেটের রূপকথায় চিরস্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে।

১৯৮৯ থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেললেও একদিনের ম্যাচে তেন্ডুলকর ব্যাট করতেন মিডল অর্ডারে। শুনতেও অবাক লাগে যে, ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেটে ১০০ শতরানের মালিক কেরিয়ারের প্রথম ৫ বছরে একটিও ওয়ান ডে সেঞ্চুরি করতে পারেননি। অকল্যান্ডে ঠিক আজকের দিনটিতেই (২৭ মার্চ) কিউয়িদের বিরুদ্ধে সচিনকে ওপেন করতে পাঠান ক্যাপ্টেন আজহারউদ্দিন। প্রথম ম্যাচেই খেলেন ৪৯ বলে ৮২ রানের আগ্রাসী ইনিংস। তার পর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। ক্রিকেটবিশ্ব পেয়ে যায় ওয়ান ডে ওপেনারের নতুন সংজ্ঞা।

একদিনের ক্রিকেটে তেন্ডুলকরের প্রথমবার ওপেন করতে নামা ভারতীয় ক্রিকেটে নিঃসন্দেহে মাইলস্টোনসূচক। স্বাভাবিকভাবেই বিসিসিআই বিশেষ এই দিনটিতে সমর্থকদের উপহার দেয় স্মরণীকা। নিজেদের অফিসিয়াল টুইটার হ্যান্ডেলে সচিনের সেই ম্যাচের ছবি পোস্ট করে বিসিসিআই লেখে, '১৯৯৪ সালের এই দিনটিতে বিশেষ এক ঘটনার সূত্রপাত। অকল্যান্ডে সচিন তেন্ডুলকর প্রথমবার ওয়ান ডে ক্রিকেটে ওপেন করতে নেমেছিলেন।শুরু হয়েছিল সোনালি অধ্যায়।'

ঘাড়ে চোট থাকায় সেই ম্যাচে মাঠে নামতে পারেননি ভারতের নিয়মিত ওপেনার নভজ্যোৎ সিং সিধু। অজয় জাদেজার সঙ্গে ইনিংসের গোড়াপত্তন করতে নামেন তেন্ডুলকর। সচিনকে ওপেন করতে পাঠানো প্রসঙ্গে আজহার জানিয়েছিলেন, 'বেশ কিছুদিন ধরেই সচিনকে ওপেন করার কথা জিজ্ঞাসা করব ভাবছিলাম। ও ৩০-৪০ অথবা ৫০-৬০ রান করত ধারাবাহিকভাবে। লোয়ার অর্ডারে ওর ইনিংসগুলি নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তবে আমার সব সময় মনে হতো যে একজন আগ্রাসী ব্যাসম্যানকে পরের দিকে ব্যাট করতে পাঠিয়ে আমরা ওকে যথাযথ ব্যবহার করতে পারছি না। আমার সবসময় মনে করতাম ও দলের সেরা ব্যাটসম্যান। সেকারণেই সুযোগ আসতে ওকে সেদিন ওপেন করতে পাঠিয়েছিলাম।'

উল্লেখ্য, ৩৪৪টি ওয়ান ডে ম্যাচে ওপেন করতে নেমে সচিন ৪৮.২৯ গড়ে ১৫৩১০ রান করেন। তাঁর ৪৯ টি ওয়ান ডে সেঞ্চুরির মধ্যে ৪৫টি এসেছে ইনিংসের গোড়াপত্তন করতে নেমে।১১৯টি ম্যাচে তিনি ব্যাট করেছেন লোয়ার অর্ডারে। ৩৩ গড়ে রান করেছেন ৩১১৬।

বন্ধ করুন