সাকলিন মুস্তাক ও সচিন (ফাইল ছবি)
সাকলিন মুস্তাক ও সচিন (ফাইল ছবি)

'সচিনকে দুসরা বল করতে ভয় পেতাম', চেন্নাই টেস্টের স্মৃতিচারণায় সাকলিন মুস্তাক

  • ১৯৯৯ সালে অনুষ্ঠিত চেন্নাই টেস্টে ১৩৬ রানে ব্যাটিং করছিলেন সচিন, সাকলিনের বলে আউট হন মাস্টার ব্লাস্টার। শেষমেষ ১২ রানে টেস্ট ম্যাচ জিতে নেয় পাকিস্তান।

ক্রিকেটর বাইশে ভারত-পাকিস্তনের দ্বৈরথ মানেই বাড়তি একটা উত্তেজনা। নব্বইয়ের দশকে যে কোনও ফর্ম্যাটে ভারতীয় ব্যাটিং অর্ডারের গুরুদায়িত্বটা সচিন তেন্ডুলকারের কাঁধে। ব্যতিক্রম ছিল না ১৯৯৯-এর চেন্নাই টেস্ট। ভারত-পাক ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় টেস্ট ম্যাচ। রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে মূলত সাকলিন ম্যাজিকের কাঁদে ভার দিয়েই ম্যাচ জিতেছিল পাকিস্তান। দু দশক পরে সেই টেস্ট ম্যাচ জয়ের স্মৃতি হাতড়ালেন সাকলিন। চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে জয়ের জন্য টিম ইন্ডিয়ার দরকার ছিল ২৭১ রান। শুরুতেই ধাক্কা খায় ভারতের ম্যাচ জয়ের স্বপ্ন। মাত্র ৮১ রানেই অর্ধেক টিম ড্রেসিং রুমে ফিরে যায়। কিন্তু হাল ছাড়েননি সচিন। উইকেটকিপার ব্যাটম্যান নয়ন মোঙ্গিয়ার সঙ্গে জুটি বেঁধে একা দলকে জয়ের লক্ষ্যে এগিয়ে নিয়ে যান মাস্টার ব্লাস্টার, হাঁকান দুরন্ত শতরান। পাকিস্তানের নিশ্চিত জয় আর প্রত্যাশিত হারের মাঝখানে তখন একটাই কাঁটা সচিন রমেশ তেন্ডুলকর। জয়ের জন্য ১৭ রান বাকি থাকা অবস্থায় সচিনের মহামূল্যবান উইকেটটি তুলে নেন পাকিস্তানি অফস্পিনার সাকলেন। ১৩৬ রানে থামেন মাস্টার ব্লাস্টার। ভারতীয় লোয়ার অর্ডার কোনরকম প্রতিরোধ গড়তে পারেনি সেই ঘূর্ণি পিচে। ১২ রানে ম্যাচ জিতে নেয় পাকিস্তান।

স্পোর্টস স্টারের সঙ্গে এক ইনস্টাগ্রাম লাইভ চ্যাটে সাকলিন সেই মধুর স্মৃতি রোমন্থন করে বলেছেন- ‘ সেদিন ভগবান আমার সঙ্গে ছিল। আমি ভাবিনি আমি সচিনের উইকেট পাব। কিন্তু ভগবানের পরিকল্পনা যা থাকে সেটাই হয়। আমৃত্যু এটা আমার কাছে খুব গর্বের বিষয় থাকবে যে সেদিন আমি মাস্টার ব্লাস্টারকে আউট করেছিলাম। ওঁনার নামের সঙ্গে আমার নাম জুড়ে থাকবে’।


সেদিন পাকিস্তানের তারকা ক্রিকেটার ওয়াসিম আক্রম তাঁর প্রতি ভরসা রেখেছিল বলেন সাকলিন। তাঁর কথায়, উনি(আক্রাম) আমাকে বলেন, ওঁনার আমার প্রতি ভরসা আছে, এবং তাঁর বিশ্বাস আমি অবিশ্বাস্য কিছু করতে দেখাতে পারব। ওঁনার ওই কথা গুলো টনিকের মতো কাজ করেছিল, আমার নিজেকে শক্তিশালী মনে হয়েছিল। সচিনের সামনে দুসরা বল করতে রবাবরই হাত কাঁপত এই পাক অফ স্পিনারের। সাকলিন মুস্তাক আরও বলেন, ‘আমি শুরুর দিকে কয়েকটা বাউন্ডারি স্কোর করার সুযোগ দিয়েছিলাম, শেষমেষ ওনার উইকেটটা পকেটে পুরি। সচিনের চোখ খুব তীক্ষ্ম, খুব সহজেই বোলারের মাথায় কি চলছে উনি বুঝে যান। বিষয়টা খুব অদ্ভূত! তবে আমি সচিনের সামনে দুসরা বল করতে ভয় পেতাম। ভাবতাম এই বুঝি আমার বলে উনি চার-ছয় মারবেন। উনি এতটাই প্রভাবাশালী। সেদিন পিচ অনেক স্লো ছিল,সহজ ছিল না ব্যাটিং করা। ভগবানের দয়ায় আমি সচিনের উইকেটটা পেয়েছিলাম’।


বন্ধ করুন