বাংলা নিউজ > ময়দান > PAK vs AFG: দশে ব্যাট করতে নেমে ২টি ছয় মেরে ম্যাচ জিতিয়ে T20-তে ইতিহাস নাসিমের
পাকিস্তানকে জিতিয়ে উল্লাস নাসিমের।

PAK vs AFG: দশে ব্যাট করতে নেমে ২টি ছয় মেরে ম্যাচ জিতিয়ে T20-তে ইতিহাস নাসিমের

  • ১৮.৫ ওভারে ১১৮ রানে পাকিস্তানের ৯ উইকেট পড়ে গিয়েছিল। সেখান থেকে ম্যাচের রং বদলে দেন নাসিম শাহ। সেখান থেকে ১৯তম ওভারের প্রথম ২ বলে ২টি ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচ জিতিয়ে দেন পাকিস্তানের তরুণ পেসার। সেই সঙ্গে গড়ে ফেলেন অনন্য রেকর্ড।

শেষ রক্ষা হল না। শেষ ওভারে সব হিসেব ওলটপালট করে দিলেন পাকিস্তানের তরুণ পেসার নাসিম শাহ। ১৯তম ওভারের প্রথম ২ বলে পরপর ২টি ছক্কা মেরে পাকিস্তানকে জিতিয়ে দেন নাসিম। সেই সঙ্গে ভারতকে টুর্নামেন্ট থেকেই ছিটকে দিল পাক ব্রিগেড।

বুধবার পাকিস্তান বনাম আফগানিস্তান ম্যাচটি নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ এ দিনের উপর নির্ভর করছিল ফাইনালের অঙ্ক। পাকিস্তান এ দিন জিতে যাওয়ায় ভারত এবং আফগানিস্তান দুই দলই টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেল।

এ দিন নাসিম শাহ বল হাতে নজির গড়ার পাশাপাশি, ব্যাট হাতেও গড়ে ফেলেছেন অনন্য নজির। তিনিই প্রথম প্লেয়ার, যিনি ১০ বা ১১ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে শেষে পরপর ২টি ছক্কা মেরে দলকে ম্যাচ জেতালেন। রান তাড়া করতে গিয়ে এর আগে দশ বা এগারো নম্বরে ব্যাট করতে নেমে কেউ কখনও এ ভাবে শেষে পরপর ২টি ছক্কা হাঁকিয়ে দলকে ম্যাচ জেতাতে পারেননি। এমন নজির টি-টোয়েন্টির ইতিহাসে নাসিম শাহ ছাড়া আর কারও নেই।

আরও পড়ুন: পরপর ২টি ছয় মেরে জেতালেন নাসিম, ফাইনালে পাকিস্তান, আশা শেষ ভারতের

এর আগে আফগানিস্তানের ইনিংসের সময় নাসিম শাহ ৪ ওভার বল করে ১৯ রান দিয়ে ১ উইকেট তুলে নেন। সেই সঙ্গে তাঁর উইকেট সংখ্যা দাঁড়ায় ৫০। একজন পেসার হিসেবে সবচেয়ে কম বয়সে ৫০টি উইকেট নেওয়ার বিশ্ব রেকর্ড গড়লেন তিনি। ১৯ বছর ২০৪ দিন বয়সে তিনি ৫০টি উইকেট নেওয়ার রেকর্ড গড়েন। এর আগে এই নজির ছিল শাহিন আফ্রিদির। তাঁর রেকর্ডই এ দিন ভাঙেন নাসিম।

বুধবারের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে টসে জিতে আফগানিস্তানকে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিল পাকিস্তান। পাক বোলারদের দাপটে মাত্র ১২৯ রানেই শেষ হয়ে যায় আফগানদের ইনিংস।

নির্দিষ্টি ২০ ওভারে আফগানিস্তান ৬ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১২৯ রান করতে পারে। তাদের হয়ে সর্বোচ্চ রান ইব্রাহিম জাদরানের। তিনি ৩৭ বলে ৩৫ রান করেন। ওপেন করতে নেমে ১৭ বলে ২১ করেছেন হাজরাতুল্লাহ জাজাই। এর বাইরে কেউ ২০ রানের গণ্ডি টপকাতে পারেননি। ১১ বলে ১৭ করেছেন রাহমানুল্লাহ গুরবাজ। ১৯ বলে ১৫ করেছেন করিম জানাত। রশিদ খান ১৫ বলে ১৮ করে অপরাজিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: আফগানদের বিরুদ্ধে ১ উইকেট নিয়ে নজির- বিশ্ব রেকর্ড গড়লেন নাসিম শাহ

এ দিকে পাকিস্তানের নাসিম শাহের ১ উইকেট ছাড়াও ১টি করে উইকেট নিয়েছেন মহম্মদ হাসনাইন, মহম্মদ নওয়াজ এবং শাদাব খান। একমাত্র হরিশ রউফ ২ উইকেট তুলে নিয়েছেন।

রান তাড়া করতে নেমে পাকিস্তানও যে সহজে ম্যাচ জিতেছে, এমনটা নয়। শুরু থেকেই আফগান বোলারদের পাল্টা দাপটে পাক ব্যাটিং অর্ডারও কেঁপে ওঠে। দলের ১ রানের মাথায় বাবর আজম গোল্ডেন ডাক করে সাজঘরে ফেরেন। ফজলহক ফারুকির বলে এলবিডব্লিউ হন তিনি। বাকি ব্যাটারদের অবস্থাও তথৈবচ। ৪৫ রানের মধ্যেই পাকিস্তানের ৩ উইকেট পড়ে যায়। তার পরেও অবশ্য উইকেট পড়ার রেশ থামেনি পাক ব্রিগেডের। তারা পরপর উইকেট হারাতে থাকে। ১৮.৫ ওভারে ১১৮ রানে পাকিস্তানের ৯ উইকেট পড়ে গিয়েছিল। সেখান থেকে ম্যাচের রং বদলে দেন তরুণ নাসিম শাহ।

১৯তম ওভারের প্রথম ২ বলে ২টি ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচ জিতিয়ে দেন নাসিম শাহ। পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেছেন শাদাব খান। ২৬ বলে ৩৬ করেন তিনি। ৩৩ বলে ৩০ করেন ইফতিকার আহমেদ। এ ছাড়া ২৬ বলে ২০ করেছেন মহম্মদ রিজওয়ান।৮ বলে ১৬ করেছেন আসিফ আলি। শেষে ৪ বলে ১৪ রান করে বাজিমাত করেন নাসিম শাহ।

আফগানিস্তানের ফারুকি এবং ফরেদ আহমদ ৩টি করে উইকেট নিয়েছেন। রশিদ খান ২টি উইকেট নিয়েছেন। তবু শেষরক্ষা করতে পারল না আফগানরা। ৪ বলে বাকি থাকতে ১ উইকেটে জিতে ফাইনালে পৌঁছে গেল পাকিস্তান। ছিটকে গেল আফগানিস্তান এবং ভারত। ফাইনালে মুখোমুখি হবে পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কা। পরের ২টি সুপার ফোরের ম্যাচ অর্থাৎ ভারত-আফগানিস্তান এবং শ্রীলঙ্কা-পাকিস্তান নেহাৎই নিয়মরক্ষার হয়ে গেল।

বন্ধ করুন