বাংলা নিউজ > ময়দান > নিজের জীবনের কঠিনতম অধ্যায় নিয়ে মুখ খুললেন পৃথ্বী শ, কী বললেন তিনি?
পৃথ্বী শ। ছবি- রয়টার্স।
পৃথ্বী শ। ছবি- রয়টার্স।

নিজের জীবনের কঠিনতম অধ্যায় নিয়ে মুখ খুললেন পৃথ্বী শ, কী বললেন তিনি?

  • বিসিসিআই অসাবধানতাবশত নিষিদ্ধ ড্রাগ সেবন করার কারণে তাঁকে আট মাসের জন্য নিষিদ্ধ করে।

শুভব্রত মুখার্জি

ভারতীয় ক্রিকেটের এই মুহূর্তে অন্যতম প্রতিভাবান ক্রিকেটার পৃথ্বী শ। ডানহাতি এই মারকুটে ব্যাটসম্যান দিল্লি ক্যাপিটালস দলের হয়ে সদ্য স্থগিত হওয়া আইপিএলে যথেষ্ট ভাল ফর্মে ছিলেন। ঘরোয়া টুর্নামেন্ট বিজয় হাজারে ট্রফিতে ও তিনি ছিলেন স্বপ্নের ফর্মে। অনেকেই তাকে ভবিষ্যতে ভারতীয় ক্রিকেটের 'সচিন তেন্ডুলকার ' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

তবে ২০২০ সালে তিনি ব্যাট হাতে আইপিএল বা অস্ট্রেলিয়া সফর কোন জায়গাতেই ভাল পারফরম্যান্স করতে পারেননি। ফলস্বরূপ জাতীয় দল থেকে তাঁকে বাদ পড়তে হয়। ২২ বছর বয়সী এই ডান হাতি ব্যাটসম্যান ২০১৮ সালের অক্টোবরে টেস্টে তাঁর কেরিয়ার শুরু করেছিলেন রাজকীয় ভঙ্গিমায় । রাজকোটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওপেনার হিসেবে খেলতে নেমে পৃথ্বী ১৯টি চারের সহায়তায় ১৫৪ বলে ১৩৪ রান করেছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পরের টেস্টের দুই ইনিংসে ৭০ ও অপরাজিত ৩৩ রান ছিল তাঁর সংগ্রহে।

উইন্ডিজদের বিপক্ষে দুর্দান্ত ব্যাট করার পরে অস্ট্রেলিয়া সফরের দলে সুযোগ হয় পৃথ্বীর। এখান থেকেই তার জীবনে সমস্যার শুরু। অনুশীলন ম্যাচে গোড়ালিতে চোট পান তিনি। এই চোটের কারণে গোটা সিরিজ থেকেই ছিটকে যান তিনি। পরবর্তীতে নিতম্বের চোটের কারণে জাতীয় দলে সুযোগ পাননি। এরমধ্যেই ঘটে যায় তাঁর জীবনের সবথেকে 'কলঙ্কিত' অধ্যায়। কাশির সিরাপ সেবন করে ডোপ টেস্টে ধরা পড়েন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। 

তার মূত্রের নমুনাতে ‘টারবিউটালিন’ পাওয়া যায়। বিসিসিআইয়ের অ্যান্টি ডোপিং নিয়মের ২.১ ধারা ভঙ্গ করায় নিষিদ্ধ করা হয় পৃথ্বীকে। বিসিসিআই অসাবধানতাবশত নিষিদ্ধ ড্রাগ সেবন করার কারণে তাঁকে আট মাসের জন্য নিষিদ্ধ করে। এতদিন পরে এই বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন স্বয়ং পৃথ্বী।

এক জনপ্রিয় ক্রিকেট ওয়েবসাইটকে দেওয়া ভার্চুয়াল মাধ্যমের সাক্ষাৎকারে সেই ঘটনা সম্পর্কে তিনি জানান, ‘কাশির সিরাপের ঘটনাটি আমার জীবনের সবথেকে খারাপ অধ্যায়। সেই সময় কিছুদিন আগেই সদ্য চোট পেয়ে বাদ পড়েছিলাম জাতীয় দল থেকে। আমি তখন সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফি খেলতে ইন্দোরে রয়েছি। দু'দিন ধরে খুব সর্দি কাশির সমস্যাতে ভুগছিলাম। সেদিন রাতে যখন ডিনার করে ফিরছি তখন কাশির সমস্যাটা বাড়ে। আমি বাবার সাথে আলোচনা করে একটা ওষুধের দোকান থেকে কাশির ওষুধ কিনে সেবন করি। আমার এবং আমার বাবার দু'জনের মিলিত ভুল সিদ্ধান্তে সেদিন সমস্যায় পরে যাই।দলের ফিজিওর সাথে কথা বলতে আমরা ভুলে গিয়েছিলাম। সেটা হলে হয়ত এমন ঘটনা ঘটত না। ওষুধ সেবনের পরের দিনেই আমি ডোপ টেস্টে পজিটিভ হয়ে যাই। বাকি ঘটনা সবার জানা। সেইসময় চোট এবং অনিচ্ছাকৃত ভুলের এই ঘটনা মানসিকভাবে ও আমাকে খুব আঘাত দিয়েছিল। আমার জীবনের অন্যতম কঠিন ঘটনা ছিল ওই কাশির সিরাপের ঘটনাটি।’

বন্ধ করুন