বাড়ি > ময়দান > দর্শকরা জিতিয়েছিলেন ঐতিহাসিক ইডেন টেস্ট, দ্রাবিড়ের কুর্নিশ কলকাতার সমর্থকদের
ঐতিহাসিক ইডেন টেস্টে লক্ষ্মণ ও দ্রাবিড়। ছবি- টুইটার।
ঐতিহাসিক ইডেন টেস্টে লক্ষ্মণ ও দ্রাবিড়। ছবি- টুইটার।

দর্শকরা জিতিয়েছিলেন ঐতিহাসিক ইডেন টেস্ট, দ্রাবিড়ের কুর্নিশ কলকাতার সমর্থকদের

  • ২০০১-এ অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ইডেনে লক্ষ্মণের ২৮১ ও দ্রাবিড়ের ১৮০ রানের পাশাপাশি ভাজ্জির হ্যাটট্রিক-সহ ৬ উইকেট ক্রিকেটের লোকগাথায় চিরস্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে।

ফলো-অন করতে বাধ্য হওয়া টিম ইন্ডিয়ার ঘাড়ে যখন হারের আতঙ্ক চেপে বসেছিল, ঠিক তখনই ভিভিএস লক্ষ্মণের সঙ্গে জুটি বেঁধে পালটা লড়াই চালান দ্রাবিড়। ২০০১-এ অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ইডেন টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে দ্রাবিড়-লক্ষ্মণের পার্টনারশিপ ক্রিকেটের রূপকথায় চিরস্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে। ঠিক তেমনই ভারতীয় ক্রিকেটের লোকগাথায় জায়গা পেয়েছে হরভজনের হ্যাটট্রিকে ভর করে অজিদের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক ইডেন টেস্টে টিম ইন্ডিয়ার জয় তুলে নেওয়া।

ব্যাটিং-বোলিংয়ে একাধিক ভারতীয় তারকা অনবদ্য হয়ে না উঠলে ইডেন টেস্টে জয় তুলে নেওয়া সম্ভব হতো না। তবে দ্রাবিড় নিজে মনে করেন ইডেনে স্টিভ ওয়ার নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলিয়ার বিজয় রথ থামানোর পিছনে দায়ি অন্য একটি বিষয়, যার সঙ্গে মাঠের লড়াইয়ের প্রত্যক্ষ যোগ না থকলেও ক্রিকেটারদের সেরাটা মেলে ধরা সম্ভব হতো না এটা ছাড়া।

আসলে দ্রাবিড় কৃতিত্ব দিলেন ইডেনের দর্শকদের। স্টার স্পোর্টসের ক্রিকেট কানেক্টেড শোয়ে দ্য ওয়াল জানান, শেষ দিনে চায়ের বিরতির পর ইডেনের ভরা গ্যালারির যে রকম সমর্থন পেয়েছিলেন তাঁরা, তা ভোলা সম্ভব নয় কখনও। প্রতিটা বলের পর ইডেনের সর্বাত্মক সমর্থনই ক্রিকেটারদের রীতিমতো বিদ্যুৎপৃষ্ঠ করেছিল। যার ফলেই ম্যাচের গতিমুখ বদলে দিতে সক্ষম হন তাঁরা। জ্যামি এও জানান যে, ইডেনের দর্শকদের এটাই বিশেষত্ব। যাঁরা খেলেছেন ইডেনে, একমাত্র তাঁরাই জানেন কেন ইডেন স্পেশাল।

দ্রাবিড় বলেন, ‘শেষ দিনে চায়ের বিরতির পর যে রকম পরিবেশ ছিল ইডেনে, তা ভোলা সম্ভব নয়। আমি এখনও অনুভব করি সেই রোমাঞ্চ। হরভজন সিং বল করছিল। ক্রমাগত উইকেট পড়ছিল। সমানে গলা ফাটাচ্ছিল ইডেনের গ্যালারি। আসলে দর্শকদের এমন সমর্থনের জন্যই আমরা ইডেন টেস্ট জিততে পেরেছিলাম। কেরিয়ারের অনেক কিছুই আমার মনে নেই। তবে ইডেনের সেদিনের সমর্থন আমার স্পষ্ট মনে আছে। ভরা ইডেনের যে শক্তি ক্রিকেটারদের মধ্যে সঞ্চারিত হয়, সেটা অনুভব করার জন্যই সবাই ইডেনে খেলতে চায়।’

উল্লেখ্য, ২০০১-এ ইডেনে অস্ট্রেলিয়ার ৪৪৫ রানের জবাবে ভারত প্রথম ইনিংসে অল-আউট হয়ে যায় ১৭১ রানে। ফলো-অন করে দ্বিতীয় দফায় ব্যাট করতে নেমে ভারত ৭ উইকেটে ৬৫৭ রান তুলে ইনিংস ডিক্লেয়ার করে দেয়। লক্ষ্মণ ২৮১ ও দ্রাবিড় ১৮০ রান করেন। শেষ ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া অল-আউট হয়ে যায় ২১২ রানে। শেষ ইনিংসে হরভজন ৬টি ও সচিন ৩টি উইকেট নেন। ভারত ১৭১ রানে ম্যাচ জেতে।

বন্ধ করুন