বাংলা নিউজ > ময়দান > Ranji Trophy Final: জাতীয় দলে ডাক পাননি, শতরানের পর কেঁদে ভাসালেন সরফরাজ- ভিডিয়ো
সরফরাজ খান।

Ranji Trophy Final: জাতীয় দলে ডাক পাননি, শতরানের পর কেঁদে ভাসালেন সরফরাজ- ভিডিয়ো

  • বেশ কয়েক বছর আগের ঘটনা। সুযোগের অভাব, ফিটনেস সমস্যা এবং তার ফর্মের কারণে সরফরাজ কেরিয়ারের লক্ষ্য থেকে লাইনচ্যুত হয়ে পড়ছিলেন। কিন্তু সেই ছেলেটাই অসম্ভব ভালো কামব্যাক করেছেন। গত দু'বছরে নিজের খেলাই বদলে ফেলেছেন সরফরাজ। ২০১৯-২০ রঞ্জি ট্রফি থেকেই তিনি একেবারে আলাদা একজন ব্যাটসম্যান হয়ে উঠেছেন।

সেঞ্চুরির পর চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। মনের তীব্র যন্ত্রণাই যেন জল হয়ে বেরিয়ে আসে। যন্ত্রণা কীসের? ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো খেলেও, জাতীয় দলে সুযোগ না পাওয়ার যন্ত্রণা।

মুম্বইয়ের তারকা ক্রিকেটার সরফরাজ খান তাই আবেগ ধরে রাখতে না পেরে বৃহস্পতিবার রঞ্জির ফাইনালে মধ্যপ্রদেশের বিরুদ্ধে শতরানের পর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করার মাঝেই কেঁদে ভাসালেন।

সেই সঙ্গে সেলিব্রেশন করার সময়ে উরুতে চাপড় মেরে, উপরে আঙুল তুলে পঞ্জাবের জনপ্রিয় গায়ক প্রয়াত সিধু মুসওয়ালার সিগনেচার স্টেপ করতে দেখা যায় সরফরাজকে। মুসওয়ালা, যিনি গত মাসে পঞ্জাবের মানসায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গিয়েছিলেন, তাঁর গানের ভিডিয়োতে এবং লাইভ শো চলাকালীনও এই সিগনেচার স্টেপ তিনি করে থাকতেন। প্রয়াত গায়ক-র‌্যাপারকে একই সঙ্গে শ্রদ্ধাও জানালেন সরফরাজ। পাশাপাশি নির্বাচকদেরও যেন জবাব দিলেন তিনিয চোখেমুখে যেন তাঁর অদ্ভূত আগ্রাসন

তাঁকে জাতীয় দলে না নেওয়া নিয়ে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছেন প্রাক্তনীরা। ২৪ বছরের তারকার নজর কাড়া পারফরম্যান্সের পরেও জাতীয় দলে কেন নেই তিনি? কিছু দিন আগেই প্রশ্ন তুলেছিলেন ভারতের ব্যাটিং কিংবদন্তি দিলীপ বেঙ্গসরকার। সরফরাজের মতো প্রতিভাকে জাতীয় দলে সুযোগ না নেওয়ার জন্য ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন: ‘৮০০-র উপর রান করছে, আর কী করবে?’ PBKS তরুণকে সুযোগ না দেওয়া নিয়ে সরব বেঙ্গসরকার

অথচ বেশ কয়েক বছর আগের ঘটনা। সুযোগের অভাব, ফিটনেস সমস্যা এবং তার ফর্মের কারণে সরফরাজ কেরিয়ারের লক্ষ্য থেকে লাইনচ্যুত হয়ে পড়ছিলেন। কিন্তু সেই ছেলেটাই অসম্ভব ভালো কামব্যাক করেছেন। গত দু'বছরে নিজের খেলাই বদলে ফেলেছেন সরফরাজ। ২০১৯-২০ রঞ্জি ট্রফি থেকেই তিনি একেবারে আলাদা একজন ব্যাটসম্যান হয়ে উঠেছেন।

আরও পড়ুন: বাংলার ব্যাটারদের ভুলটা করেননি সরফরাজ,তাঁর শতরানে স্বস্তিতে মুম্বই

এ বারের রঞ্জি মরশুমেও দুরন্ত ছন্দে রয়েছেন সরফরাজ। গত বারের চ্যাম্পিয়ন সৌরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ২৭৫ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলেছিলেন। এ ছাড়াও অন্য দুই ম্যাচে ১৬৫ এবং ১৫৩ রানের দু'টি দুরন্ত ইনিংস ছিল। ২০১৯ সালের রঞ্জি থেকে যদি ধরা যায় তবে ১৫টি ইনিংসে ১৫০-র উপর গড়ে, সাড়ে সতেরোশোর কাছাকাছি রান করে ফেলেছেন সরফরাজ।

একটি ট্রিপল ও দু'টি ডাবল সেঞ্চুরি এবং চারটি শতরান করে ফেলেছেন তিনি। এই মরশুমে সরফরাজই সবচেয়ে বেশি রান করেছেন। তাঁর এখনও পর্যন্ত সংগ্রহ ৯৩৭ রান। হাজার রান পূরণ করতে আর ৬৩ রান বাকি। দ্বিতীয় ইনিংসে যদি সেটা করতে পারেন, তবে ভিভিএস লক্ষ্মণ, ওয়াসিম জাফর, অজিঙ্কা রাহানের মতো সুপারস্টারদের সঙ্গে একাসনে বসে পড়তে পারেন সরফরাজ খান।

রঞ্জির এক মরশুমে সব থেকে বেশি রান করার রেকর্ড রয়েছে ভিভিএস লক্ষ্মণের নামে। ১৯৯৯-২০০০ মরশুমে লক্ষ্মণ হায়দরাবাদের হয়ে ১৪১৫ রান করেছিলেন। এখনও পর্যন্ত মোট ১০ জন ক্রিকেটার রঞ্জির এক মরশুমে হাজার রানের গণ্ডি টপকেছেন, যাঁদের মধ্যে তিনজন হলেন মুম্বইয়ের। ওয়াসিম জাফর, অজিঙ্কা রাহানে ও শ্রেয়স আইয়ারের পরে মুম্বইয়ের চতুর্থ ক্রিকেটার হিসেবে এমন নজির গড়তে পারেন সরফরাজ।

সরফরাজ খান এ দিন ১৩৪ রান করেন। আর রানের উপর ভর করেই মুম্বই প্রথম ইনিংসে ৩৭৪ রানে পৌঁছয়। তা না হলে অনেক আগই তারা অল আউট হয়ে যেত। সরফরাজের শতরান ছাড়া যশস্বীর ৭৮ এবং পৃথ্বী শ'-র ৪৭ বাদ দিলে মুম্বইয়ের বাকি ব্যাটারদের দশা কিন্তু তথৈবচ। যাইহোক প্রথম ইনিংসে ৩৭৪ করে কিছুটা হলেও অক্সিজেন পেয়ে গিয়েছে মুম্বই।

মধ্যপ্রদেশের গৌরব যাদব ৪ উইকেট নিয়েছেন। ৩ উইকেট নিয়েছেন অনুভব আগরওয়াল, ২ উইকেট নেন সারাংশ জৈন। কুমার কার্তিকেয় নিয়েছেন ১ উইকেট।

বন্ধ করুন