বাংলা নিউজ > ময়দান > Ranji Trophy Results: ৪৭ বলে ৮৩ রান SRH-র তরুণের, ৫ উইকেট KKR তারকার - রঞ্জিতে কে কেমন খেলল? কে জিতল?

Ranji Trophy Results: ৪৭ বলে ৮৩ রান SRH-র তরুণের, ৫ উইকেট KKR তারকার - রঞ্জিতে কে কেমন খেলল? কে জিতল?

অভিষেক শর্মা। (ফাইল ছবি, সৌজন্যে পঞ্জাব ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন)

Ranji Trophy Results: রঞ্জি ট্রফিতে এবারের রাউন্ডে কয়েকটি ম্যাচ যেমন একপেশে হয়েছে, কয়েকটি ম্যাচ তেমন হাড্ডাহাড্ডি হয়েছে। কয়েকজন তারকাও দারুণ খেলেছেন। সেই পরিস্থিতিতে মুম্বই, বাংলার মতো দল জয় পেয়েছে। বাকি দলগুলি কী করল, কোন তারকা ভালো খেললেন, কারা ফ্লপ হলেন, তা দেখে নিন। 

রঞ্জি ট্রফিতে আরও একটি রাউন্ডের ম্যাচ শেষ হয়েছে। যে রাউন্ডে কয়েকটি ম্যাচ যেমন একপেশে হয়েছে, কয়েকটি ম্যাচ তেমন হাড্ডাহাড্ডি হয়েছে। কয়েকজন তারকাও দারুণ খেলেছেন। সেরকম রঞ্জি ম্যাচগুলির ফলাফল এবং কোন তারকা কেমন খেললেন, তা দেখে নিন -

১) সৌরাষ্ট্র বনাম হায়দরাবাদ: হায়দরাবাদকে এক ইনিংস ও ৫৭ রানে হারিয়ে দিয়েছে সৌরাষ্ট্র। প্রথম ইনিংসে ৭৯ রানে অল-আউট হয়ে গিয়েছিল হায়দরাবাদ। জবাবে ৩২৭ রান তুলেছিলেন চেতেশ্বর পূজারারা। দ্বিতীয় ইনিংসে ১৯১ রানে গুটিয়ে যায় হায়দরাবাদের ইনিংস। দুই ইনিংস মিলিয়ে ছ'টি উইকেট নেন জয়দেব উনাদকাট।

২) নাগাল্যান্ডকে এক ইনিংস ও ৬৯ রানে হারিয়ে দিয়েছে হরিয়ানা। প্রথম ইনিংসে ব্যাট করে ৮৮ রানেই অল-আউট গিয়েছিল নাগাল্যান্ড। জবাবে সাত উইকেটে ২২৭ রানে ডিক্লেয়ার করে দিয়েছিল হরিয়ানা। দ্বিতীয় ইনিংসে ৭২ রানেই অল-আউট হয়ে যায় নাগাল্যান্ড। 

দুই ইনিংস মিলিয়ে ১২ উইকেট নিয়েছেন হরিয়ানার বোলার অমিত রানা। ম্যাচে মোট চার উইকেট পেয়েছেন হরিয়ানা তথা চেন্নাই সুপার কিংসের নিশান্ত সিন্ধু। করেছেন নয় রান।

৩) গোয়া বনাম পুদুচেরি: অর্জুন তেন্ডুলকরের গোয়াকে নয় উইকেট হারিয়ে দিয়েছে পুদুচেরি। প্রথম ইনিংসে ২২৩ রান তুলেছিল গোয়া। জবাবে ৩৪৭ রান করেছিল পুদুচেরি। দ্বিতীয় ইনিংসে ১৬৭ রানের বেশি করতে পারেনি গোয়া। এক উইকেট হারিয়ে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রান তুলে নেয় পুদুচেরি। 

পুরো ম্যাচে ব্যর্থ হয়েছেন সচিন-পুত্র। দুই ইনিংস মিলিয়ে মোট ২৪ রান করেছেন। পুরো ম্যাচে বল হাতে মাত্র একটি উইকেট পেয়েছেন। প্রথম ইনিংসে সেই উইকেট এসেছিল। দ্বিতীয় ইনিংসে কৃপণ বোলিং করলেও উইকেট নেওয়ার দরকার ছিল। কিন্তু সেটা করতে পারেননি।

৪) কর্ণাটক বনাম রাজস্থান: রাজস্থানকে ১০ উইকেটে হারিয়ে দিয়েছে কর্ণাটক। প্রথম ইনিংসে ১২৯ রানে অল-আউট হয়ে গিয়েছিল রাজস্থান। জবাবে ৪৪৫ রান করেছিল কর্ণাটক। দ্বিতীয় ইনিংসে কিছুটা লড়াই করে ৩৩০ রান করে রাজস্থান। কিন্তু প্রথম ইনিংসে এতটাই পিছিয়ে ছিল যে স্রেফ তর্কের খাতিরে দ্বিতীয়বার ব্যাট করতে নামে কর্ণাটক।

কর্ণাটকের হয়ে প্রথম ইনিংসে ১০১ রান করেছিলেন মণীশ পান্ডে। ৩২ রান করেছিলেন দেবদূত পাডিক্কাল। দ্বিতীয় ইনিংসে তাঁরা নামার সুযোগ পাননি। মায়াঙ্ক আগরওয়ালরা খেলা শেষ করে আসেন। প্রথম ইনিংসে ৫২ রান করেছিলেন মায়াঙ্ক।

৫) কেরল বনাম সার্ভিসেস: জলজ সাক্সেনার দুরন্ত বোলিংয়ের সুবাদে সার্ভিসেসকে ২০৪ রানে হারিয়ে দিয়েছে কেরল। প্রথম ইনিংসে ৩২৭ রান করেছিলেন সচিন বেবিরা। জবাবে ২২৯ রান তোলে সার্ভিসেস। সাত উইকেটে ২৪২ রানে দ্বিতীয় ইনিংস ডিক্লেয়ার করে কেরল। ১৩৬ রানেই গুটিয়ে যায় সার্ভিসেস।

দ্বিতীয় ইনিংসে বল হাতে কেরলকে ম্যাচ জেতান জলজ। ১৫.৩ ওভারে ৩৬ রান দিয়ে আট উইকেট নেন। যিনি প্রথম ইনিংসে তিন উইকেট নিয়েছিলেন। ২৫ ওভারে ৬৬ রান দেন।

আরও পড়ুন: ভারতীয় দলের জার্সি গায়ে তোলেননি তবু প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে কপিল দেবের কৃতিত্ব ছুঁলেন জলজ সাক্সেনা

৬) দিল্লি বনাম অন্ধ্রপ্রদেশ: প্রথম ইনিংসে লিডের সুবাদে তিন পয়েন্ট পেয়েছে দিল্লি। প্রথম ইনিংসে নয় উইকেটে ৪৮৮ রান তুলেছিল। জবাবে নয় উইকেটে ৪৫৯ রান করতে পারে অন্ধ্রপ্রদেশ। ২২৩ বলে ৮৫ রান করেন অন্ধ্রের অধিনায়ক হনুমা বিহারী।

৭) মধ্যপ্রদেশ বনাম গুজরাট: ঘরের মাঠে গুজরাটকে ২৬০ রানে উড়িয়ে দিয়েছে মধ্যপ্রদেশ। প্রথমে ব্যাট করে মধ্যপ্রদেশ ৩১২ রান তুলেছিল। জবাবে নয় উইকেট ২১১ রান করেছিল গুজরাট। দ্বিতীয় ইনিংসে ছয় উইকেটে ২৮০ রানে ডিক্লেয়ার করে দেয়। তারপর নয় উইকেটে ১২১ রানের বেশি তুলতে পারেনি গুজরাট। 

প্রথম ইনিংসে মাত্র চার রান করলেও দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৭ রান করেন মধ্যপ্রদেশের রজত পতিদার। প্রথম ইনিংসে ১৫৯ রান করেছিলেন মধ্যপ্রদেশের তারকা খেলোয়াড় হিমাংশু মন্ত্রী।

৮) হিমাচল প্রদেশ বনাম ওড়িশা: তিন উইকেট জিতে গিয়েছে হিমাচল প্রদেশ। প্রথম ইনিংসে ১৯১ রান করেছিল ওড়িশা। জবাবে ২৫৮ রান করেছিল হিমাচল প্রদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৭৪ রান তোলে ওড়িশা। তিন উইকেট বাকি থাকতে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রান তুলে নেয় হিমাচল। কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআরের) তথা হিমাচলের বৈভব অরোরা দুই ইনিংস মিলিয়ে সাত উইকেট নিয়েছেন। প্রথম ইনিংসেই নিয়েছিলেন পাঁচ উইকেট।

৯) বিদর্ভ বনাম চণ্ডীগড়: দু'দলের প্রথম ইনিংস শেষ হয়নি। ম্যাচ ড্র হয়ে গিয়েছে। প্রথম ইনিংসে ছয় উইকেটে ৩০৭ রান তুলে ডিক্লেয়ার করে দেয় বিদর্ভ। তারপর প্রথম ইনিংসে চণ্ডীগড়ের স্কোর দাঁড়ায় এক উইকেটে ১৬ রান।

১০) উত্তরপ্রদেশ বনাম উত্তরাখণ্ড: প্রথম ইনিংসে লিডের সুবাদে তিন পয়েন্ট পেয়েছে উত্তরাখণ্ড। প্রথম ইনিংসে ১৪২ রানে অল-আউট হয়ে গিয়েছিল উত্তরপ্রদেশ। ৩৪ বলে আট রান করেছিলেন কেকেআরের রিঙ্কু সিং। জবাবে প্রথম ইনিংসে চার উইকেটে ১৭২ রান তোলে উত্তরাখণ্ড।

১১) মহারাষ্ট্র বনাম তামিলনাড়ু: প্রথম ইনিংসে লিডের সুবাদে তিন পয়েন্ট পেয়েছে মহারাষ্ট্র। প্রথম ইনিংসে ৪৪৬ রান তুলেছিলেন রুতুরাজ গায়কোয়াড়রা। জবাবে ৪০৪ রানে আউট হয়ে গিয়েছিল তামিলনাড়ু। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট ছাড়ার কোনও ইচ্ছা ছিল না মহারাষ্ট্রের। পাঁচ উইকেটে ৩৬৪ রান করে।

প্রথম ইনিংসে ১৯৫ রান করেছিলেন মহারাষ্ট্র তথা চেন্নাই সুপার কিংসের ব্যাটার রুতুরাজ। দ্বিতীয় ইনিংসে পাঁচ রান করেন। প্রথম ইনিংসে ব্যর্থতার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৫ বলে ৬১ রান করেন মহারাষ্ট্রের রাহুল ত্রিপাঠী। কেদার যাদব দ্বিতীয় ইনিংসে ১৫ রান করেন। যিনি প্রথম ইনিংসে ৫৬ রান করেছিলেন। তামিলনাড়ুর হয়ে ৭৭ রান করেছিলেন কেকেআরের এন জগদীশন।

১২) অসম বনাম মুম্বই: অসমকে এক ইনিংস এবং ১২৮ রানে হারিয়ে দিয়েছে মুম্বই। প্রথম ইনিংসে চার উইকেটে ৬৮৭ রান তুলেছিলেন অজিঙ্কা রাহানেরা। জবাবে প্রথম ইনিংসে ৩৭০ রান তুলতে পেরেছিল অসম। ফলো-অন করায় মুম্বই। তাতে ১৮৯ রানে অল-আউট হয়ে যায় অসম।

মুম্বই তথা কেকেআরের শার্দুল ঠাকুর দুই ইনিংস মিলিয়ে পাঁচ উইকেট নেন। ৩৭৯ রান করেন মুম্বইয়ের ওপেনার পৃথ্বী শ। তাঁর অধিনায়ক রাহানে ১৯১ রান করেন। রিয়ান পরাগ দুই ইনিংসেই ব্যাট হাতে ব্যর্থ হয়েছেন। প্রথম ইনিংসে ১৫ রান এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ছয় রান করেন। বল হাতেও বিশেষ সুবিধা করতে পারেননি। ৩৭.৪ ওভারে ১৬৭ রান দিয়ে দুই উইকেট নিয়েছিলেন।

১৩) ত্রিপুরা বনাম রেলওয়েজ: ছয় উইকেটে জিতে গিয়েছে রেলওয়েজ। প্রথম ইনিংসে ৯৬ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল ত্রিপুরা। জবাবে ৩৩৭ রান তুলেচিল রেল। তারপর দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৪৯ রান করে ত্রিপুরা। কিন্তু প্রথম ইনিংসে খেসারত দিতে হয়। চার উইকেটে ২১১ রান তুলে জিতে যায় রেল। দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৩ রান করেন ঋদ্ধিমান সাহা। যিনি প্রথম ইনিংসে ২৪ রান করেছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ১৬৫ রান করেন বাংলার আরও এক প্রাক্তনী সুদীপ চট্টোপাধ্যায়।

১৪) পঞ্জাব বনাম জম্মু ও কাশ্মীর: বিধ্বংসী ইনিংস খেলে পঞ্জাবকে জেতালেন অভিষেক শর্মা। চার উইকেটে জিতল পঞ্জাব। প্রথম ইনিংসে ২১২ রান করেছিল জম্মু ও কাশ্মীর। প্রত্যুত্তরে ২৬৮ রান তুলেছিল পঞ্জাব। দ্বিতীয় ইনিংসে ২৬০ রান করে জম্মু ও কাশ্মীর। ২৪.৫ ওভারে ছয় উইকেটে ২১০ রান করে জিতে যায় পঞ্জাব।

পঞ্জাবের দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৭ বলে ৮৩ রান করেন সানরাইজার্স হায়দরাবাদের অভিষেক শর্মা। স্ট্রাইট রেট ১৭৬.৬। ন'টি চার এবং চারটি ছক্কা মারেন। যে ভিতের উপর দাঁড়িয়ে একেবারে টি-টোয়েন্টি স্টাইলে ম্যাচ জেতে পঞ্জাব।

১৫) বাংলা বনাম বরোদা: বরোদাকে সাত উইকেটে হারিয়ে দিয়েছে বাংলা। (বাংলা বনাম বরোদা ম্যাচের ফলাফল বিস্তারিত দেখতে ক্লিক করুন এখানে)

১৬) ঝাড়খণ্ড বনাম ছত্তিশগড়: ৪৪ রানে জিতে গিয়েছে ঝাড়খণ্ড। প্রথম ইনিংসে ১০৩ রানে অল-আউট হয়ে গিয়েছিলেন বিরাট সিংরা। জবাবে ১১৩ রান করেছিল ছত্তিশগড়। দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৬৬ রান তোলে ঝাড়খণ্ড। ৩১২ রানে গুটিয়ে যায় ছত্তিশগড়।

চতুর্থ ইনিংসে ঝাড়খণ্ডের হয়ে দুরন্ত খেলেন কেকেআর তারকা অনুকূল রায়। ২৬ ওভারে ৪৫ রান দিয়ে পাঁচ উইকেট নেন। ইকোনমি রেট ছিল ১.৭৩। যিনি অবশ্য ছত্তিশগড়ের প্রথম ইনিংসে কোনও উইকেট পাননি। ব্যাট হাতেও দুই ইনিংসে রান পাননি।

(এই খবরটি আপনি পড়তে পারেন HT App থেকেও। এবার HT App বাংলায়। HT App ডাউনলোড করার লিঙ্ক https://htipad.onelink.me/277p/p7me4aup)

বন্ধ করুন