কেরিয়ারের শুরুতে সচিন তেন্ডুলকর। ছবি- গেটি ইমেজেস।
কেরিয়ারের শুরুতে সচিন তেন্ডুলকর। ছবি- গেটি ইমেজেস।

রবি শাস্ত্রীর পরামর্শই বদলে দেয় সচিনের আন্তর্জাতিক কেরিয়ার

  • অভিষেক টেস্ট ইনিংসে ব্যর্থ হওয়ার পর তেন্ডুলকর ভেবেছিলেন এটিই বোধহয় তাঁর প্রথম ও শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ।

১৯৮৯ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যখন অভিষেক টেস্টে মাঠে নেমেছিলেন, সচিন তেন্ডুলকরের পক্ষে ভাবা সম্ভব ছিল না একদিন তিনি সব থেকে বেশি আন্তর্জাতিক রান ও শতরানের মালিক হবেন। বরং তাঁর এটাই মনে হয়েছিল বুঝি দেশের হয়ে প্রথম ম্যাচটাই তাঁর কেরিয়ারের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ হতে চলেছে। পরে অবশ্য ছবিটা বদলে যায়। নিজের উপর বিশ্বাস ফিরে আসতেই আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি লিটল মাস্টারকে।

অভিষেক ইনিংসের পর সচিনের আত্মবিশ্বাস ফেরানোর পিছনে হাত ছিল টিম ইন্ডিয়ার বর্তমান হেড কোচ রবি শাস্ত্রীর। তেন্ডুলকর নিজেই সেটা জানালেন। প্রাক্তন ইংল্যান্ড অধিনায়ক নাসের হুসেনের সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গে সচিন বলেন, কেরিয়ারের প্রথম ইনিংসে আউট হয়ে সাজঘরে ফেরার পর রবি শাস্ত্রী তাঁকে মূল্যবান কিছু পরামর্শ দিয়েছিলেন। যেটা কাজে লাগিয়েই তিনি পরের টেস্টে প্রভাবশালী ব্যাটিং করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

সচিন বলেন, 'স্বীকার করতে কুণ্ঠা নেই যে, কোনও কুল কিনারা খুঁজে পাচ্ছিলাম না। যেভাবে কেরিয়ারের প্রথম টেস্ট খেলেছিলাম, যেন একটা স্কুল ম্যাচ। ওয়াসিম আর ওয়াকার এত জোরে বল করছিল যে, গতিতেই পরাস্ত হচ্ছিলাম বার বার। যতরকম বিষাক্ত ডেলিভারি হয়, সব প্রয়োগ করেছে ওরা। আগে কখনও এমন বোলিংয়ের মুখে পড়িনি। যখন ১৫ রানে আউট হয়ে সাজঘরে ফিরি, মনে হচ্ছিল বুঝি এটাই আমার কেরিয়ারের প্রথম ও শেষ টেস্ট হতে চলেছে।'

তেন্ডুলকর আরও বলেন, 'কার্যত কাঁদতে কাঁদতে সাজঘরে ফিরেই বাথরুমে চলে যাই। আমার মনের অবস্থা বুঝতে পারে সতীর্থরা। পরে শাস্ত্রী আমার কাছে এগিয়ে আসে। বলে, তুমি নেহাৎ স্কুল ম্যাচের মতো খেলছিলে। তুমি সেরা বোলারদের বিরুদ্ধে খেলছ। ওদের ক্ষমতা ও দক্ষতাকে সম্মান করতে হবে। আমি বলি যে, ওদের গতিতে পরাস্ত হচ্ছিলাম। তখন শাস্ত্রী বলে, এটা হয়। ক্রিজে গিয়ে সময় কাটাও। আধ ঘণ্টা থাকলে গতির সঙ্গে সড়গড় হয়ে যাবে।

শেষে সচিন জানান, 'পরে ফয়জলাবাদ টেস্টে যখন ব্যাট করতে নামি, তখন শাস্ত্রীর কথাগুলো মাথায় ছিল। ঠিক করেছিলাম স্কোর বোর্ডের দিকে তাকাব না। শুধু ঘড়ির দিতে তাকাব। সত্যিই আধ ঘণ্টা ক্রিজে থাকার পর অনেক স্বাভাবিক মনে হচ্ছিল সব কিছু। সেই ম্যাচে ৫৯ রান করি। তার পর থেকে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি।

বন্ধ করুন