বাংলা নিউজ > ময়দান > সৌদির বিরুদ্ধে আর্জেন্তিনার হারই বিশ্বকাপের সবথেকে বড় অঘটন, দাবি সংস্থার

সৌদির বিরুদ্ধে আর্জেন্তিনার হারই বিশ্বকাপের সবথেকে বড় অঘটন, দাবি সংস্থার

সৌদির বিরুদ্ধে আর্জেন্তিনার হার। (Reuters)

৫১ নম্বরে থাকা সৌদি আরবের কাছে হারতে হল মেসিদের। এই ম্যাচ জিতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে টানা ৩৭ ম্যাচ জয়ের নজির স্পর্শ করার লক্ষ্যে ছিল আর্জেন্টিনা। তবে তা আর বাস্তবে হল না।

শুভব্রত মুখার্জি: বিশ্ব ফুটবলের এই মুহূর্তে অন্যতম সেরা তারকা লিওনেল মেসি। এই বিশ্বকাপ যে তাঁর শেষ বিশ্বকাপ হতে চলেছে তা আগেই জানিয়েছিলেন তিনি। ফলে কাতারে ফুটবল রাজপুত্রের হাতে বিশ্বকাপের শিরোপা দেখতে মরিয়া তাঁর সকল ভক্তরা। এদিন সৌদি আরবের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত শুরুও করেছিল আর্জেন্টিনা। পেনাল্টি থেকে গোলও করেছিলেন মেসি। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলে হারতে হয়েছে তাঁদের। ডাটা কোম্পানি নিয়েলসন গ্রেসনোটের মতে সৌদি আরবের এই জয় পরিসংখ্যানের দিক থেকে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অঘটন। ১৯৫০ সালে আমেরিকার কাছে ইংল্যান্ডের হারকেও পিছনে ফেলে দিয়েছে মেসিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের এই জয়।

পরিসংখ্যানের ক্ষেত্রে যে ফর্মুলাটি এই কোম্পানি ব্যবহার করে তা বেশকিছু ফ্যাক্টরের উপর দাঁড়িয়ে। যেমন দলের শক্তি, কোথায় খেলা হচ্ছে, দুই দলের ইতিহাস। গ্রেসনোটের মতে ফিফা ক্রমতালিকায় ৫১ নম্বরে থাকা সৌদি আরবের এই ম্যাচ জয়ের সম্ভাবনা ছিল মাত্র ৮.৭%। তার উপরে আর্জেন্টিনা আবার ৩৬ টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে অপরাজিত ছিল। আসুন একনজরে দেখে নেওয়া যাক গ্রেসনোটের বিচারে পরিসংখ্যানগত দিক থেকে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবথেকে বড় অঘটনগুলি।

১) সৌদি আরব ২-১ আর্জেন্টিনা

(২০২২, ৮.৭%):

৫১ নম্বরে থাকা সৌদি আরবের কাছে হারতে হল মেসিদের। এই ম্যাচ জিতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে টানা ৩৭ ম্যাচ জয়ের নজির স্পর্শ করার লক্ষ্যে ছিল আর্জেন্টিনা। তবে তা আর বাস্তবে হল না। এদিন লিওনেল মেসি আর্জেন্টিনার হয়ে একটি গোল করেন। সৌদি আরবের হয়ে সালে আল-শেহেরি এবং সালেম-আল-দসারি দুটি গোল করেন।

২) আমেরিকা ১-০ ইংল্যান্ড (১৯৫০, ৯.৫%):

প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে নেমে কাপ জয়ের অন্যতম দাবিদার ছিল ইংল্যান্ড। ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত সেই বিশ্বকাপে সেমিপ্রফেশনাল ফুটবলারদের নিয়ে দল গড়েছিল আমেরিকা। প্রথমার্ধে জয়ি গ্যাটজেন্সের করা গোলে জয় পায় আমেরিকা।

৩) সুইজারল্যান্ড ১-০ স্পেন (২০১০, ১০.৩%):

দক্ষিণ আফ্রিকাতে বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম দাবিদার ছিল স্পেন। সুইজারল্যান্ডের গোলে সেদিন ২২ টি শট নেয় স্পেন। আর স্পেনের গোলে ছটি শট নিয়েছিল সুইজারল্যান্ড। তবে গেলসন ফার্নান্দেজের গোলে সেদিন জয় পেয়েছিল সুইসরা।

৪) আলজেরিয়া ২-১ পশ্চিম জার্মানি (১৯৮২, ১৩.২%):

বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই অবিশ্বাস্য জয় পেয়েছিল আলজেরিয়া। লাখদার বেলোউমির একটি অ্যাসিস্ট এবং জয়সূচক গোলে অঘটন ঘটিয়েছিল তাঁরা। গ্রুপের শেষ ম্যাচে দুই দল অভিসন্ধি করে, জার্মানি ১-০ গোলে অস্ট্রিয়াকে হারায়। ফলে দুই দল আলজেরিয়াকে পিছনে ফেলে পরের রাউন্ডে চলে গিয়েছিল।

৫) ঘানা ২-০ চেক রিপাবলিক (২০০৬, ১৩.৯%):

এই বিশ্বকাপেই অভিষেক হয়েছিল ঘানা দলের। তাঁরা নিজেদের প্রথম ম্যাচে ইতালির কাছে হেরেছিল। দ্বিতীয় ম্যাচে আসামোয়া গিয়ান এবং সুলে মুন্তানির গোলে জয় ছিনিয়ে নেয় তাঁরা।

৬) উরুগুয়ে ২-১ ব্রাজিল (১৯৫০, ১৪.২%):

১৯৫০ বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ণায়ক ম্যাচ ছিল এটি। এই বিশ্বকাপে কোন ফাইনাল খেলা হয়নি। শেষ গ্রুপ ম্যাচে ড্র করলেই ব্রাজিল চ্যাম্পিয়ন হত। তাঁরা দ্বিতীয়ার্ধে মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত এগিয়ে ছিল। এরপরেই ১৩ মিনিটের ব্যবধানে পেপে স্কিয়াফিনো এবং অ্যালসিডেস ঘিগিয়া দুটি গোল করে উরুগুয়েকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন করেন।

৭) দক্ষিণ কোরিয়া ২-০ জার্মানি (২০১৮, ১৪.৪%):

কিম-ইয়ং-গন এবং সন-হিউঙ্গ-মিনের গোলে এদিন অঘটন ঘটিয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়া। ১৯৩৮ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপের প্রথম পর্ব থেকেই ছিটকে গিয়েছিল জার্মানি।

৮) ওয়েলস ২-১ হাঙ্গেরি (১৯৫৮, ১৬.২%):

আইভর অলচার্চ এবং টেরি মেডউইনের গোলে সেদিন পিছিয়ে পড়ে অঘটন ঘটিয়ে ছিল ওয়েলস দল। আশ্চর্যজনক ভাবে এই বিশ্বকাপের পরে তাঁরা আবার মূলপর্বে খেলার সুযোগ পেয়েছে চলতি কাতার বিশ্বকাপে।

৯) উত্তর আয়ারল্যান্ড ১-০ স্পেন (১৯৮২, ১৬.৫%):

গ্যারি আর্মস্ট্রংয়ের গোলে এদিন অঘটন ঘটায় উত্তর আয়ারল্যান্ড। স্পেন গোটা ম্যাচ দাপিয়ে খেলেও হারের মুখ দেখতে বাধ্য হয়।

১০) সেনেগল ১-০ ফ্রান্স (২০০২, ১৭.৩%):

তৎকালীন বিশ্বকাপ এবং ইউরো কাপ চ্যাম্পিয়ন দল ছিল ফ্রান্স। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই তাঁদেরকে হারিয়ে চমকে দিয়েছিল সেনেগল। উল্লেখ্য সেইসময় সেনেগলের স্কোয়াডের ২৩ জনের মধ্যে ২১ জন ফরাসি লিগে খেলত। পাপা বৌউবা দিওপের গোলে জিতে সেদিন অঘটন ঘটিয়েছিল সেনেগল।

বন্ধ করুন