বাংলা নিউজ > ময়দান > ১৬ সেপ্টেম্বর এবং ১৫ জানুয়ারি- দুই ইস্তফাপত্র, দুই ফর্ম্যাটে হার ও দুই মহারথীর ইগোর লড়াই

১৬ সেপ্টেম্বর এবং ১৫ জানুয়ারি- দুই ইস্তফাপত্র, দুই ফর্ম্যাটে হার ও দুই মহারথীর ইগোর লড়াই

সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় এবং বিরাট কোহলি।

১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ জানুয়ারি- এই ৪ মাস ধরে ভারতীয় ক্রিকেটে চলছে কোহলি কীর্তন। যার যবনিকা পড়ল শনিবার।

১৬ সেপ্টেম্বর টি-টোয়েন্টি নেতৃত্ব থেকে সরে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করার পর, ১৫ জানুয়ারি টেস্টের নেতৃত্বও ছেড়ে দিলেন বিরাট কোহলি। মাঝে ভারতীয় ক্রিকেটে ঘটে গিয়েছে বহু ঘটনা। চরমে পৌঁছে গিয়েছে বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিরাট কোহলির তীব্র মনোমালিন্য। ইগোর লড়াইয়ের জেরেই শনিবার টেস্ট দলের অধিনায়কের পদ থেকেও ইস্তফা দিলেন কোহলি।

এই চার মাসে ঠিক কী কী ঘটেছে, দেখে নিন এক ঝলকে:

১৬ সেপ্টেম্বর- স্বেচ্ছায় টি-টোয়েন্টির নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করেছিলেন বিরাট কোহলি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর যে তিনি এই ফর্ম্যাটে দলকে নেতৃত্ব দেবেন না জানিয়ে দিয়েছিলেন কোহলি।

৮ নভেম্বর- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচ নামিবিয়ার বিরুদ্ধে খেলে ভারত। আর সেই ম্যাচেই শেষ বার টি-টোয়েন্টি ফর্ম্যাটে নেতৃত্ব দেন বিরাট কোহলি।

৮ ডিসেম্বর- বিরাট কোহলিকে ওডিআই-এর নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেয় বিসিসিআই। সেই জায়গায় রোহিত শর্মাকে তারা অধিনায়ক বেছে নেয়।

১৫ জানুয়ারি- টেস্টের অধিনায়কত্ব স্বেচ্ছায় ছেড়ে দিলেন বিরাট কোহলি।

১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ জানুয়ারি, প্রায় চার মাস ধরে ভারতীয় ক্রিকেটে কম জলঘোলা হয়নি। হয়েছে বহু বিতর্ক। অবশেষে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ১-২ সিরিজ হেরে  শনিবার সব ধরনের নেতৃত্ব থেকেই অব্যাহতি নিলেন বিরাট কোহলি।

মাঝে কোহলিকে ঘিরে কিছু বিতর্ক এখনও ভারতীয় ক্রিকেটকে প্রভাবিত করছে-

১) টি-টোয়েন্টি ফর্ম্যাটে শেষ বার নেতৃত্ব দিতে নেমে ব্যর্থ হয়েছেন কোহলি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথম দু'টি ম্যাচে পাকিস্তান এবং নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরেই সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গিয়েছিল ভারতের। এই দু'টি ম্যাচে টিম নির্বাচন নিয়ে কোহলিকে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। কোহলিও ঘুরিয়ে দাবি করেছিলেন, তিনি তাঁর পছন্দ মতো দল পাননি।

২) স্বেচ্ছায় টি-টোয়েন্টির নেতৃত্ব ছাড়লেও কোহলি ওডিআই নেতৃত্ব ছাড়তে চাননি। জোর করেই তাঁকে সরিয়ে দেয় বিসিসিআই। বোর্ড নাকি কোহলিকে সরে দাঁড়ানোর জন্য ৪৮ ঘণ্টা সময় দিয়েছিল, কিন্তু কোহলি রাজি না হওয়ায় তাঁকে বিসিসিআই-এর তরফেই সরিয়ে দেওয়া হয়।

৩) টি-টোয়েন্টি নেতৃত্ব ছাড়া নিয়ে বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে কোহলির মত-পার্থক্য ঘিরে তীব্র জলঘোলা হয়েছে। এবং যার রেশ এখনও রয়েছে।

বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট সৌরভ বলেছিলেন, বোর্ড বিরাট কোহলিকে টি-২০ ক্যাপ্টেন্সি ছাড়তে বারণ করেছিল। তিনি নিজে এই বিষয়ে কথা বলেছিলেন বিরাটের সঙ্গে। এ দিকে দক্ষিণ আফ্রিকায় উড়ে যাওয়ার আগে সাংবাদিক সম্মেলনে বিরাট কোহলি জানান, তাঁকে কেউ ক্যাপ্টেন্সি ছাড়তে বারণ করেননি। সুতরাং কে সত্যি বলেছেন, আর কে মিথ্যে, তা নিয়ে এখনও জল্পনা রয়েছে।

৪) ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ১-০ জিতলেও, দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়ে কোহলির নেতৃত্বে মুখ থুবড়ে পড়ে ভারত। প্রথম টেস্ট ম্যাচ জিতলেও, পরপর দুই টেস্টে হেরে সিরিজ ১-২ হেরে যায় ভারত। কোহলির স্ট্র্যাটেজি নিয়েও সুনীল গাভাসকরের মতো অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। 

৫) সব মিলিয়ে বিসিসিআই-এর দিক থেকে কোহলি চাপ অনুভব করছিলেন বলেই টেস্টের নেতৃত্ব ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে অনেকেই দাবি করছেন। আর কোহলির নেতৃত্ব ছাড়া নিয়ে কাঠগড়ায় তোলা হচ্ছে সৌরভকেই।

বন্ধ করুন