বাংলা নিউজ > ময়দান > ‘২০ বছরেই আটকে ছিল ওর জীবন’, ওয়ার্নের স্মৃতিতে ডুব দিয়েছেন তাঁর দুই অজি সতীর্থ

‘২০ বছরেই আটকে ছিল ওর জীবন’, ওয়ার্নের স্মৃতিতে ডুব দিয়েছেন তাঁর দুই অজি সতীর্থ

পুরনো স্মৃতি: রিকি পন্টিং, ম্যাথু হেডেন, গ্লেন ম্যাকগ্রার সঙ্গে আড্ডার মেজাজে ওয়ার্ন।

অস্ট্রেলিয়া টিমে ওয়ার্নের খুব কাছের বন্ধু ছিলেন গ্লেন ম্যাকগ্রা। ২০০৭ সালে অ্যাসেজ সিরিজের পর দু’জন একসঙ্গে অবসর নিয়েছিলেন। সেই ম্যাকগ্রা ইনস্টাগ্রামে বন্ধুর স্মৃতিতে ডুব দিয়েছেন। হৃদয়স্পর্শী টুইট করেছেন আর এক সতীর্থ রিকি পন্টিং।

কিংবদন্তি লেগ স্পিনার শেন ওয়ার্নের আকস্মিক প্রয়াণে শোকস্তব্ধ গোটা ক্রিকেট বিশ্ব। মাত্র ৫২ বছর বয়সেই ওয়ার্নের এমন পরিণতি বিশ্বাস করতে পারছেন না কেউই। ওয়ার্নের জাতীয় দলের দুই সতীর্থ রীতিমতো ভেঙে পড়েছেন।

প্রাক্তন অজি অধিনায়ক রিকি পন্টিং এবং গ্লেন ম্যাকগ্রার টুইটের মধ্যে দিয়েই যেন যন্ত্রণা উপচে পড়েছে। পন্টিং তাঁর টুইটে নিজের সঙ্গে ওয়ার্নের একটি ছবি দিয়েছেন। সঙ্গে লিখেছেন, ‘এমন একজন যে আপনার প্রয়োজনে সব সময় আপনার জন্য থাকবে এবং নিজের কাছের মানুষদের সকলের আগে রেখে থাকে। সর্বকালের সেরা বোলার, যার সঙ্গে বা বিপক্ষে আমি খেলেছি। রিপ কিং।’

আরও একটি টুইটে পন্টিং লিখেছেন, ‘এত স্মৃতি বলা কঠিন। আমার বয়স যখন ১৫, তখন অ্যাকাডেমীতে ওর সঙ্গে প্রথম দেখা হয়। ও আমাকে আমার ডাক নাম দিয়েছিল। আমরা এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সতীর্থ ছিলাম, সব ওঠাপড়ার মধ্যে দিয়ে একসঙ্গে গিয়েছি। ’

অস্ট্রেলিয়া টিমে ওয়ার্নের খুব কাছের বন্ধু ছিলেন গ্লেন ম্যাকগ্রা। ২০০৭ সালে অ্যাসেজ সিরিজের পর দু’জন একসঙ্গে অবসর নিয়েছিলেন। সেই ম্যাকগ্রা ইনস্টাগ্রামে বন্ধুর স্মৃতিতে ডুব দিয়েছেন। লিখেছেন, ‘আমরা কুড়ি বছর বয়সে যে জীবন কাটাতে ভালোবাসি, জীবনের উর্ধ্বে ওঠার চেষ্টা করি যে সময়টা, তাতেই ওয়ার্ন চিরকাল আটকে ছিল। ও বরাবর জীবনকে উপভোগ করেছে। যেটা খুব কম মানুষ করতে পারে। ক্রিকেট মাঠে ওয়ার্ন কখনও হারতে ভালোবসত না। যে কোনও পরিস্থিতি থেকে জেতার জন্য ঝাঁপাত। ওর ওই মানসিকতার জন্য আমরা বহু ম্যাচ জিতেছি। ক্রিকেট ছাড়ার পরও ও জীবনকে ওই ভাবেই নিয়েছিল।’

ওয়ার্নের মৃত্যু এখনও মেনে নিতে পারছে না গোটা বিশ্বের ক্রিকেট ভক্তরা। প্রসঙ্গত, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান ওয়ার্ন।

১৯৯২ সালে সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে টেস্ট অভিষেক হয় ওয়ার্নের। ১৫ বছরের ক্রিকেট জীবনে মোট ১৯৪ টি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। নিয়েছেন ২৯৩ উইকেট।

১৯৯৩ সালের অ্যাশেজে ইংল্যান্ডের মাইক গ্যাটিংকে যে বলে বোল্ড করেছিলেন সেটা শতবর্ষের সেরা ডেলিভারি হিসেবে খ্যাত। ১৯৯৯ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ জয়ী দলের সদস্য ছিলেন প্রয়াত অজি স্পিনার। পাঁচবার অ্যাশেজ জয়ী দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন ওয়ার্ন।

বেশ কয়েকবার উইজডেনের সেরা ক্রিকেটার নির্বাচিত হয়েছেন। বিশ্বক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বকালের সেরা স্পিনারদের মধ্যে অন্যতম তিনি। টেস্ট এবং একদিনের ক্রিকেট সমান দাপটের সঙ্গে খেলেছেন।

ক্রিকেটের পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত জীবনও ছিল বর্ণময়। একটা ফ্লাম্বয়েন্ট ইমেজ ছিল ওয়ার্নের। মজার ছলে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেটের 'ব্যাড বয়' বলে ডাকা হত তাঁকে। অবসরের পরেও ধারাভাষ্যকার হিসেবে তিনি যুক্ত ছিলেন ক্রিকেটের সঙ্গে। ওয়ার্নের আকস্মিক মৃত্যু যেন বড় ধাক্কা ক্রিকেট মহলের কাছে।

বন্ধ করুন